ডেটিং করবেন, অ্যাপসেই সমাধান!

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২৩, ২০:১৩

আগেকার দিনের মতো ‘ওল্ড-স্টাইল’ ট্রাডিশনাল ডেটিং-এর ধারণা এখন প্রায় উঠেই গেছে বলা চলে। এখনকার বেশিরভাগ মিলেনিয়ালস ও জেনারেশন-জি-এর মানুষদের মনে জায়গা করে নিয়েছে স্মার্টফোন ডেটিং অ্যাপ নামক পরিচিত এই নতুন প্রেম করার পন্থাটি। যেই অ্যাপগুলো ব্যবহার করে যেকোনো ব্যক্তি বন্ধু তৈরি করতে পারে বা পেয়ে যেতে পারে তার জীবনের সেই বিশেষ ভালোবাসার মানুষটিকে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গেল কয়েক বছর ধরে সেই ঢেউ এসে লেগেছে বাংলাদেশের ছেলে-মেয়েদের মধ্যেও। এখন অনেকেই এসব ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে সঙ্গী খুঁজতে শুরু করেছেন। 

কিছুদিন আগে টিন্ডার নামের একটি ডেটিং অ্যাপে নিবন্ধন করেছেন ঢাকার বাসিন্দা মিজান (ছদ্মনাম)। তিনি বলেন, আমার একটা সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়ার পর খুব একা লাগছিল। ইচ্ছা করলেই তো আর নতুন প্রেম হয় না। তাই দুইটা ডেটিং অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন করেছিলাম, যদি এখান থেকে কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়, যদি কারও সঙ্গে মিলে যায়।

এ পর্যন্ত এই অ্যাপের মাধ্যমে তার দুইজনের সাথে দেখা হয়েছে। একটি কফি রেস্তোরাঁয় গিয়ে তারা কফি খেয়েছেন। যদিও পরবর্তীতে সেসব সম্পর্ক আর বেশিদূর এগোয়নি। 

বিবিসিকে মিজান জানিয়েছেন, যাদের সঙ্গে তার অ্যাপ ব্যবহার করে দেখা হয়েছে, তাদের একজন একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন। ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ হলেও তিনি আসলে এভাবে বিয়ে করার জন্য পাত্র খুঁজছেন। অন্য আরেকজনের এর আগে বিয়ে হয়েছিল, তবে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে।

বিবিসির কথা হয়েছে এরকম একজন নারীর সঙ্গে। প্রেমের বিয়ে হলেও পাঁচ বছর আগে স্বামীর সঙ্গে তার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। একটি ছোট মেয়ে আর মাকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় বাসা ভাড়া করে থাকেন বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের এই কর্মকর্তা। তিনি নিজের নাম জানাতে চাননি।

তিনি বলেন, আত্মীয়-স্বজন চেষ্টা করেছিল, কিন্তু আমার মেয়েটাকে মেনে নিয়ে বিয়ে করবে, এরকম কারও সঙ্গে মেলেনি। এক বান্ধবীর পরামর্শে বাম্বল অ্যাপে একটা একাউন্ট খুলেছিলাম। একা নিঃসঙ্গ থাকতে কার ভালো লাগে?


কী ধরনের ডেটিং অ্যাপ রয়েছে

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশে এখন বেশ কয়েক ধরনের ডেটিং অ্যাপ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে। এর মধ্যে বেশ কিছু অ্যাপ রয়েছে, যা বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায়। টিন্ডার, বাম্বল, ওকেকিউপিড- ইত্যাদি হলো বিনামূল্যের অ্যাপ।

বন্ধুত্ব তৈরি করা, নতুন সঙ্গী খুঁজে পাওয়া বা জীবন সঙ্গী খোঁজার জন্যই মূলত এসব ডেটিং অ্যাপ ব্যবহৃত হয়। ইমেইল অ্যাকাউন্ট, টেলিফোন নম্বর, ছবি এবং ব্যক্তিগত তথ্য যোগ করে এসব অ্যাপে নিজস্ব একাউন্ট খোলা যায়। সেখানে নিজের আগ্রহের বিষয়গুলোও উল্লেখ করে দেয়া যেতে পারে।

এরপর আপনার সাথে মিলতে পারে, এমন সঙ্গীর পরামর্শ দেবে অ্যাপটি। ব্যবহারকারীদের ভেতর থেকে পছন্দের সঙ্গে মেলে, এমন সঙ্গীর পরামর্শ দিতে পারে এসব অ্যাপ। আবার নিজস্ব পছন্দ জানিয়ে সঙ্গী খোঁজাও যেতে পারে।

বাম্বলের মতো কোন কোন অ্যাপে মেয়েদের জন্য বিশেষ সুবিধা রয়েছে। এখানে কাউকে পছন্দ হলে মেয়েদের আগে বার্তা পাঠাতে হয়। পরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেই বার্তার জবাব পাওয়া গেলে সংযোগ তৈরি হয়, না হলে সেটি মুছে যায়।

সাধারণত ডেটিং অ্যাপে বার্তা বিনিময়ের মাধ্যমে পরিচয়, আলাপচারিতার পর ফোন নম্বর বিনিময় বা দেখা-সাক্ষাতের প্রসঙ্গ আসতে পারে। বিবিসি বাংলা।

ইত্তেফাক/এএইচপি