‘মদপানে’ ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু, নেতাদের দাবি সড়ক দুর্ঘটনা

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২৩, ২১:০১

ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ওরফে রাকিব (২৭) অ্যালকোহলজনিত বিষক্রিয়ায় মারা গেছেন। সোমবার (২ জানুয়ারি) দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তবে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দাবি, তার মৃত্যু হয়েছে সড়ক দুর্ঘটনায়। 

জেলা ছাত্রলীগ কোনো প্রেস বিজ্ঞপ্তি না দিলেও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সোমবার রাতে শোক প্রকাশ করে একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন। মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) বেলা ১০টায় বোয়ালমারী খরসুতী ঈদগা কবরস্থানে রাকিবের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। 

নিহত রাকিবুল ইসলাম। ছবি: ইত্তেফাক

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফের যৌথ স্বাক্ষরিত ওই শোক বার্তায় দাবি করে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ফরিদপুর জেলা শাখার সহ সভাপতি রাকিবুল ইসলাম (সোমবার) বিকালে আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিটে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ পরিবার গভীরভাবে শোকাহত। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রাকিবুল ইসলামের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছে।’ 

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদকের এ শোক বার্তার পর বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে ফরিদপুরের সাংবাদিক ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ব্যক্তিরা।

রাকিবুল ইসলাম ওরফে রাকিব জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি। গত বছর ৯ নভেম্বর পূর্ণাঙ্গ এ জেলা কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। রাকিবুল ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ময়না ইউনিয়নের বেলজানী গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা শরিফুল ইসলাম অবসরপ্রাপ্ত একজন পুলিশ কনস্টবেল। তারা ২ ভাই ও ১ বোন।

নিহত রাকিবুল ইসলাম। ছবি: ইত্তেফাক

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাকিবকে গত সোমবার সকাল ৯টা ১০ মিনিটের দিকে ৪২৭৮৩/২৩ সিরিয়ালে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার বন্ধু পরিচয়ে আবির নামে এক তরুণ এসে ভর্তি করায়। ভর্তির জায়গায় ‘পুলিশ কেস’ সিল মারা ছিলো।

ভর্তি করতে এসে আবির জানায়, বমির প্রবণতা থাকায় তাকে ভর্তি করা হয়েছে। ওই হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী এক নারী জানায়, ভর্তি হওয়ার সময় রাকিবুল আরিফকে বলেছিল, ‘মদের সঙ্গে কি খাওয়ালি আমার বুক ও গলা জ্বলে যাচ্ছে।’ এর পর আবিরের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। হাসপাতালে আবিরের যে মুঠোফোন নম্বরটি দেওয়া হয় তাতে ফোন করে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

নিহত রাকিবুল ইসলাম। ছবি: ইত্তেফাক

মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক আসাদুজ্জামান বলেন, বমির কথা বলে রাকিবুলকে ভর্তি করা হলেও তার সমস্যা ছিলো অ্যালকোহলজনিত বিষক্রিয়া। তাকে দ্রুত আইসিইউতে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে তার মৃত্যু হয়।

ওই হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার আতিয়ার রহমান বলেন, এটি একটি পুলিশ কেস। এ জন্য রাকিবুলের মৃত্যুর পর যাবতীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

রাকিবুল ইসলামের চাচাতো ভাই, স্থানীয় ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলাউদ্দিন মাতুব্বর বলেন, ইংরেজি নতুন বছরের রাতে বন্ধুদের সঙ্গে মদ খেয়ে অসুস্থ ও বমি করার পর তার বন্ধুরা হাসপাতালে নিয়ে যান। এরপর সে মারা যায়। খবর পেয়ে আমরা তার লাশ বাড়িতে নিয়ে আসি। মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় স্থানীয় বেলজানী-খরসুতী মাদরাসা সংলগ্ন কবরস্থান তাকে দাফন করা হয়েছে। 

নিহত রাকিবুল ইসলাম। ছবি: ইত্তেফাক

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তামজীদুল রশিদ ওরফে রিয়ান বলেন, কেন্দ্র পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করার সময় তার নাম কলম দিয়ে হাতে লিখে অনুমোদন করেন। রাকিবুলকে তিনি চেনেনও না। তারা যে কমিটি অনুমোদনের জন্য ঢাকা পাঠিয়েছিলেন তার মধ্যে রাকিবুলের নাম ছিলো না। তিনি আরও বলেন, তার জানা মতে, রাকিবুল মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। অ্যালকোহলজনিত মৃত্যুর ব্যাপারে তার কিছু জানা নেই। 

ফরিদপুর কোতয়ালী থানার দায়িত্বরত এসআই শাহরীয়ার বলেন, এ মৃত্যু সংক্রান্ত ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় কোনো তথ্য নেই। 

বোয়ালমারী থানার ওসি মোহাম্মাদ আবদুল ওহাব বলেন, ঘটনাস্থল ফরিদপুরে হওয়ায় এই বিষয়ে সকল আইনী পদক্ষেপ কোতয়ালী থানা নিবে। তিনি আরও বলেন, এই মৃত্যু সম্পর্কে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।

ইত্তেফাক/পিও