রোববার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

টিসিবির চাল-ডাল না পেয়ে কার্ডধারীদের সড়ক অবরোধ  

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৩, ২২:০৩

রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কামারপাড়া এলাকা থেকে ভোট না পাওয়ায় নিজের এলাকায় টিসিবির পয়েন্ট নেওয়ার প্রতিবাদে দারিদ্র নারী-পুরুষেরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছে। বুধবার (৪ জানুয়ারি) নগরীতে সন্ধা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ অব্যাহত রাখে। ফলে নগরীর কামারপাড়া সড়কে ঢাকাগামী কোচসহ সকল যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে ভোট না পাওয়ার অভিযোগ তুলে নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মিজু কর্তৃক টিসিবির পণ্য বিক্রয় কেন্দ্র বন্ধ করে দেওবার অভিযোগে টিসিবির কার্ডধারী শত শত বিক্ষুব্ধ হতদরিদ্র নারী-পুরুষ নগরীর সড়ক অবরোধসহ বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।

ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিজু বলছেন, তার একক ক্ষমতায় তিনি ন্যায্য মূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রির স্থান পরিবর্তন করেছেন। এ ব্যাপারে কারও খবরদারি তিনি শুনবেন না বলে হুমকি দিয়েছেন। অন্যদিকে টিসিবি বলছে, ন্যায্য মূল্যে হতদরিদ্র পরিবারগুলো যাতে পণ্য পায় সে জন্য তাদের কার্ড দেওয়া হয়েছে। এটা পরিবর্তন বা না দেওবার এখতিয়ার কাউন্সিলরের নেই।

ছবি: ইত্তেফাক

এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সরকার টিসিবির মাধ্যমে ন্যায্য মূল্যে তেল, চিনি, মসুর ডালসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রির জন্য রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে বিক্রিয় কেন্দ্রের স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সেখান থেকে কার্ডধারীরাই শুধু মাত্র টিসিবি পণ্য কিনতে পারবে। ২২ নম্বর ওয়ার্ডের জন্য নগরীর কামারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে একটি ও গনেশপুর মসজিদ সংলগ্ন মাঠে দুটি স্থানে টিসিবি পণ্য বিক্রি করা হয়ে থাকে। করোনাকালীন সময় থেকে এভাবেই পণ্য বিক্রি করছে টিসিবির ডিলার। তারা ট্রাকে করে এসব পণ্য বিক্রি করে আসছিলো। কিন্তু গত ২৭ ডিসেম্বর রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। এবারেও কাউন্সিলর নির্বাচিত মিজহানুর রহমান মিজু কামারপাড়া এলাকায় নির্বাচনে ভোট পাননি। এমন অভিযোগ এনে বুধবার কামারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বিক্রয় কেন্দ্রটি জোর করে বন্ধ করে দিয়ে তিনি তার বাড়ির সামনে গনেশপুর ও গনেশপুর মসজিদ সংলগ্ন স্থানে টিসিবি পণ্য ডিলারকে বিক্রিয় করতে বাধ্য করেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। এ ঘটনা জানাজানি হলে কামারপাড়া ও বাবুখার শত শত কার্ডদারী নারী-পুরুষ ৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গনেশপুর মসজিদ সংলগ্ন স্থানে গেলে কাউন্সিলরের লেলিয়ে দেওয়া লোকজন ঘোষণা দেন কামারপাড়া আর বাবু খাঁ মহল্লার কার্ডধারীরা টিসিবির পণ্য পাবে না। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ কার্ডধারীরা আগের নির্ধারিত স্থানে দুপুর ১২টা থেকে টিসিবি পণ্য বিক্রির দাবিতে বিক্ষোভ করতে শুরু করে। অব্যাহত বিক্ষোভ করলেও কাউন্সিলর মিজুর ক্ষমতার দাপট আর নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকার কারণে কার্ডধারী শত শত হতদরিদ্র নারী-পুরুষ টিসিবি পণ্য নিতে পারেনি। বিকাল ৪টার দিকে আবারও তারা নগরীর কামারপাড়া শাপলা চত্বর সড়ক অবরোধ করে টিসিবির কার্ড প্রদর্শন করে বিক্ষোভ করতে থাকে। এ সময় ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

টিসিবির কার্ডধারী সালমা বেগম, আফসানা শারমিন অভিযোগ করেন, ন্যায্য মূল্যে ২ লিটার তেল, ২ কেজি ডাল ও এক কেজি করে চিনি তাদের দেওবার কথা। কিন্তু কাউন্সিলর মিজু তাদের এলাকায় নাকি ভোট পায়নি। এই যুক্তি দেখিয়ে টিসিবি পণ্য বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। একই অভিযোগ করেন বাবু খাঁ মহল্লার রাহেলা বেগম, সালামসহ অনেকেই।

বুধবার (৪ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ২০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌহিদুল ইসলাম, কাউন্সিলর মাহবুবার রহমান মঞ্জু ও রংপুর মেট্রো কোতয়ালী থানার ওসি ঘটনা স্থলে এসে কাউন্সিলর মিজুর স্বেচ্ছাচারীতার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এবং ঘোষণা দেন আগামী রোববার আগের স্থানেই টিসিবির কার্ডধারীরা টিসিবি পণ্য পাবে। আর এ ঘটনার জন্য কাউন্সিলর মিজুর বাড়াবাড়িকে দায়ী করেন তারা। পরে তাদের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেয় বিক্ষোভকারীরা।

সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নজরুল ইসলাম মৃধা ঘটনা স্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু একজন কাউন্সিলরের একগুয়েমির কারণে আবারও বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে কার্ডদারীরা বলে জানান।

সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জরুরি কাজে ঢাকায় অবস্থান করছেন জানিয়ে বলেন, এটি অন্যায় হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বলে জানান। 

তবে অভিযুক্ত মিজু কাউন্সিলর ঘটনার পর থেকে ফোন বন্ধ রাখায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

ইত্তেফাক/পিও