উত্তরাঞ্চলে আবারও বন্যার আশঙ্কা, ঝুঁকিতে রংপুরের পাঁচ জেলা

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২৬, ১৫:৩৮

আগামী তিন দিনের মধ্যে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আবারও বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সময়ে কুশিয়ারা নদী সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহানের সই করা বৃষ্টিপাত, নদ-নদীর পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসসংক্রান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি কিছুটা কমেছে। তবে আগামী তিন দিনে উজানের বৃষ্টিপাতের প্রভাবে এসব নদীর পানি আবার বাড়তে পারে। কয়েকটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।

এদিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে গত ২৪ ঘণ্টায় কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও সুরমা নদীর পানি কমেছে। আগামী তিন দিনে দুই নদীরই পানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার বন্যা পরিস্থিতি মোটামুটি স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানিও বেড়েছে। এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আগামী পাঁচ দিন অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়ার কয়েকটি পয়েন্টে সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ছাড়া ফেনী, মুহুরি, গোমতী ও সেলোনিয়া নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় কমেছে। আগামী এক দিনে এসব নদীর পানি কিছুটা বাড়লেও পরবর্তী দুই দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রটি।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে অবস্থান করা সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে বর্তমানে উত্তর উড়িষ্যা এবং তৎসংলগ্ন বিহার ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় লঘুচাপ আকারে অবস্থান করছে।

 

ইত্তেফাক/এমএএম