কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বাইরে এসেই হংকংয়ের প্রশাসনিক-প্রধান ক্যারি লামের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন দেশটির গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জনপ্রিয় ছাত্রনেতা জসুয়া অং। এদিকে হংকংয়ের প্রশাসক ক্যারি ল্যামকে সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে চীন।
২০১৪ সালে ‘আমব্রেলা’ আন্দোলনের পর ব্যাপক পরিচিতি পান ছাত্রনেতা অং। ২০১৭ এবং ২০১৮ সালে দুইবার তাকে কারাগারে পাঠায় সেখানকার সরকার। কারাবরণের সময় একমাস কমিয়ে দিলে সোমবার তিনি মুক্তি পান। কারাগার থেকে বের হয়েই অং সাংবাদিকদের কাছে বলেন, হংকংয়ের নেতা হিসেবে ক্যারি লামের থাকার কোনো যোগ্যতা নেই। তার অবশ্যই দায় মাথায় নিয়ে পদত্যাগ করতে হবে। অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে এবং পদত্যাগ করতে হবে। অং হংকংয়ের মানুষকে বড় বিক্ষোভে জমায়েত হওয়ারও আহ্বান জানান।
সম্প্রতি মূলভূখণ্ড চীনে প্রত্যর্পণের সুযোগ রেখে হংকংয়ে একটি পাস করার চেষ্টা করছিল দেশটির চীনপন্থি প্রশাসন। এই বিলের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভের জেরে শনিবার বিলটি স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন ক্যারি লাম। এ ঘোষণা সত্ত্বেও রবিবার লাখো হংকংবাসী বিলটির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা বিলটি বাতিল ও ক্যারি লামের পদত্যাগ দাবি করছে। ২২ বছর বয়সী অংয়ের কারামুক্তির পর ক্যারি লামের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে আরো বড় ধরনের বিক্ষোভ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিতর্কিত বিলটি স্থগিত ঘোষণা করার পরও বিক্ষোভ না থামায় রোববার হংকংয়ের বাসিন্দাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন বেইজিং সমর্থক প্রশাসনিক-প্রধান ক্যারি লাম। তার এই ঘোষণার পর রাতে বিক্ষোভ কিছুটা কমলেও বিক্ষোভকারীদের একটি বড় অংশকে সোমবার পর্যন্ত প্রধান সরকারি ভবনের বাইরের সড়কে অবস্থান করতে দেখা গেছে। আয়োজকরা বলছে, যতক্ষণ পর্যন্ত না বিলটি একবারে বাদ দেয়া না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন তারা।
সম্প্রতি সময়ে হংকংয়ের বিতর্কিত একটি বিল হিসেবে দেখা হচ্ছে প্রত্যর্পণ বিলটি। এটি পাস হলে কোনো অপরাধের বিচারের জন্য হংকং থেকে যে কাউকে মূল ভূখণ্ড চীনে নিয়ে বিচার করা যাবে। কিন্তু এই বিলের বিরুদ্ধে গত বুধবার ব্যাপক বিক্ষোভ করে হাজার হাজার হংকংয়ের বাসিন্দা। প্রত্যর্পণ বিলের সমালোচকরা বলছে, বিলটি পাশ হলে চীনা বিচার পদ্ধতিতে যে কাউকে বিচারের জন্য হংকং থেকে চীনে নিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি হবে। এর ফলে অন্যায়ভাবে নির্যাতন, আটক এবং জোর করে স্বীকারোক্তি আদায় করা হতে পারে। একইসাথে হংকংয়ের স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে যাবে।
এদিকে হংকংয়ের প্রশাসক ক্যারি ল্যামের পদত্যাগের দাবিতে যখন উত্তাল হংকংয়ের রাজপথ, সেই মুহূর্তে তাকে সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে চীন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লু কং আজ সোমবার বলেন, ‘(হংকংয়ের) প্রধান নির্বাহীকে দেওয়া দৃঢ় সমর্থন অব্যাহত রাখবে কেন্দ্রীয় সরকার। সেই সঙ্গে বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চলের সরকার আইন অনুযায়ী চলার যে চেষ্টা করছে, তার প্রতিও কেন্দ্রীয় সরকার দৃঢ় সমর্থন অব্যাহত থাকবে।’
