‘নগদ দিয়া এহন মাসে মাসে উপবৃত্তি পায়, এহন স্কুল কামাই দিবো ক্যান?’

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৩, ১৭:১৮

সারা দেশের মতই বরিশালে সেদিন জাঁকিয়ে শীত পড়েছে। এর মধ্যেই কোনোক্রমে সোয়েটার, মাফলার পরে স্কুলে এসেছে ছোট্ট মোহাম্মদ সুমন। স্কুল ছুটি হয়ে গেছে। যাওয়ার সময় মায়ের হাত ধরে বের হচ্ছিলো সুমন। এমন শীতের দিনে স্কুলে আসতে ইচ্ছে করে? 

প্রশ্নটা শুনে সুমন হাসল। আর পাশ থেকে তার মা শামীমা খাতুন উত্তর দিলেন, ‘স্কুলে আইতে হবে না। সরকার এতো ভালো ব্যবস্থা কইরা দিছে। নগদ দিয়া এহন মাসে মাসে উপবৃত্তি পায়। এহন স্কুল কামাই দিবো ক্যান?’

হ্যা, বরিশাল জুড়ে এই গল্পটাই চোখে পড়ে। একটা সময় স্কুলগুলোতে দরিদ্র পরিবারের শিশুদের যাতায়াত বেশ কমে গিয়েছিলো। বাড়ছিলো ঝরে পড়া শিশুর হার। সেই সময়ে এইসব শিশুদের জন্য এক দারুন প্রেরণা হয়ে এসেছে সরকারের উপবৃত্তি। শিক্ষক, অভিভাবকরা বলছেন, এই উপবৃত্তির কল্যানেই এখন আবার জমজমাট হয়েছে স্কুলগুলো। আর সে জন্য তারা বড় ধন্যবাদ দিচ্ছেন নগদকে। 

সরকার অনেকদিন ধরেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য উপবৃত্তি দিচ্ছে। কিন্তু শুরুতে সেখানে ছিলো দারুন এক নৈরাজ্য। যে মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে উপবৃত্তি বিতরণ করা হতো, তাদের ছিলো না স্বচ্ছতা। একই সাথে হাতের কাছে তাদের এজেন্টও না থাকায় টাকা বের করতে জটিলতায় পড়তের অভিভাবকরা। 

এইসব সমস্যা সমাধাণে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভসি নগদ-এর সাথে চুক্তি করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। আর তারপর থেকেই সুফল মিলছে এই উপবৃত্তি প্রদানে। এই সাফল্যের কারণেই আবারও নগদ-এর সাথে উপবৃত্তি বিতরণের জন্য চুক্তি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

এই খবরে আরও অনেক অনেক মানুষের মত খুশি বরিশালের স্কুলগুলোর শিক্ষক, অভিভাবকরা। শহরের গীর্জা মহল্লার ইসলামিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধাণ শিক্ষিক মাতোয়ারা বেগম বলছিলেন, ‘আমি প্রথমেই বঙ্গবন্ধু কন্যা, মাননীয় প্রধাণমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই এই কোমলমতি ছাত্র ছাত্রীদের উপবৃত্তি দিয়ে বিদ্যালয়ে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য। উপবৃত্তি পাওয়ার ফলে আমাদের স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার অনেক বেড়েছে। কমেছে ঝরে পড়ার হার। এটা সামগ্রিকভাবে শিক্ষার মানকে অনেক বাড়িয়ে দিচ্ছে। সরকারের এই উদ্যোগ দেশের জন্য অসাধারণ একটা ব্যাপার।‘

এই প্রধাণ শিক্ষিকা একই সাথে নগদ-কেও ধন্যবাদ দিলেন। তিনি বলছিলেন, ‘নগদকে আমি বিশেষ ধন্যবাদ জানাই। ডাক বিভাগের একটি সেবা হিসেবে তারা খুব ভালো দায়িত্ব পালন করছে। নগদ এই দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে উপবৃত্তি পাওয়ায় ভোগান্তি নেই বললেই চলে। এখন অভিভাবকরা বাড়ির কাছ থেকেই টাকা তুলে নিতে চাচ্ছেন। আমি আশা করি, দায়িত্ব পেলে নগদ আবারও এভাবেই শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে।‘ 

নগদকে ধন্যবাদ দেওয়ার পরিষ্কার কারণও আছে। এই দায়িত্বটা অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে পালন করছে এইএমএফএস প্রতিষ্ঠানটি।সকল শিক্ষার্থীর নাম, জন্ম নিবন্ধন সনদসহ শিক্ষার্থীর অভিভাবকের মোবাইল নম্বর নিয়ে একটি ডেটাবেজ তৈরি করেছে ‘নগদ’। ফলে এই তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ভুয়া সুবিধাভোগীর নাম।

নগদ কেবল শিক্ষার্থীদের দিকটা দেখছে তা নয়, তাদের এই কাজে সরকারের বিপুল অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে। এর আগে ভিন্ন একটি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে ভাতা বিতরণ করত সরকার।

তখন প্রতি হাজার টাকার উপবৃত্তি বিতরণ করতে সরকারের কাছ থেকে সাড়ে ২১ টাকা করে সার্ভিস চার্জ এবং ক্যাশ-আউট চার্জ নিত শিওর ক্যাশ। সেখানে ‘নগদ’ সব মিলে সরকারের কাছ থেকে নিচ্ছে হাজারে মাত্র সাত টাকা। সুবিধাভোগী মূল টাকার সঙ্গে সঙ্গে ক্যাশ-আউটের খরচও পেয়ে যাচ্ছেন, ফলে গ্রাহককে বাড়তি কোনো অর্থ খরচ করত হচ্ছে না। শুধু ভাতা বিতরণে এই প্রক্রিয়ায় সরকারের অন্তত অর্ধশত কোটি টাকার সাশ্রয় হয়েছে।

ইত্তেফাক/এএইচপি