পালরদী খালের ব্রিজ
মো. জামাল উদ্দিন, গৌরনদী (বরিশাল) সংবাদদাতা
ব্রিজের উচ্চতা কম হওয়ায় গৌরনদীর পালরদী খালের ওপর নির্মাণাধীন ব্রিজের নিচ দিয়ে নৌযান চলাচল সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা।
জানা গেছে, গৌরনদী ও টরকী বন্দরের সঙ্গে পালরদী খালের মাধ্যমে নৌপথে যোগাযোগের ব্যবস্থা রয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের নৌবন্দর বানারীপাড়া, স্বরূপকাঠী, মীরেরহাট, ধামুরা বন্দরসহ বিভিন্ন নৌবন্দরের সঙ্গে। যুগযুগ ধরে ঐসব নৌবন্দর থেকে বিভিন্ন পণ্য বোঝাই করে ছোট-বড় শত শত নৌযান প্রতিদিন পালরদী খাল দিয়ে গৌরনদীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলাচল করে।
গৌরনদী উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গৌরনদী বন্দরের মাছ বাজার সংলগ্ন পালরদী খালের ওপর নির্মিত পুরাতন ব্রিজ ভেঙে দুই কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ব্রিজটি এলজিইডির অর্থায়নে তৈরি হচ্ছে। ১০৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২৪ ফুট প্রস্থের এ ব্রিজটির গার্ডারের উচ্চতা পানির স্বাভাবিক স্তর থেকে মাত্র ১০ ফুট। যে কারণে নৌযান চলাচলে বাধার সৃষ্টি হবে। এ ব্রিজটি নির্মাণ করছে মেসার্স কোহিনুর এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ইতোমধ্যে ব্রিজের দুপাশের গোড়ার অংশ এবং গার্ডার বসানোসহ নিচের কাজ সমাপ্ত হয়েছে।
মেসার্স কোহিনুর এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারীকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
গৌরনদী বন্দরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইঞ্জিনিয়ার নুরুল হুদা চৌধুরী জানান, নৌপথে পণ্য আনা নেওয়ার ক্ষেত্রে সড়ক পথের চেয়ে খরচ কম হয়। এ জন্য পালরদী খালটি এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের জন্য আশীর্বাদ। ব্রিজটির উচ্চতা কমিয়ে নিচু করে তৈরি করায় সমস্যা দেখা দেবে।
দি লক্ষণ দাশ সার্কাসের মালিক গৌরনদী উতাতর পালরদী গ্রামের বাসিন্দা বাবু অরুন দাস জানান, ব্রিজটি নিচু করার কারণে ব্রিজের নিচ দিয়ে আমার সার্কাসের নৌকা যাতায়াত করতে পারবে না।
গৌরনদী বন্দর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলহাজ জয়নাল খোন্দকার জানান, এ খালে বর্ষায় পানির উচ্চতা এমনিতেই চার/পাঁচ ফুট বেড়ে যাবে। তখন বড় নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ বাড়বে।
গৌরনদী এলজিইডির উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার মো. অহিদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ব্রিজটি দেখতে আপাতত নিচু মনে হলেও আসলে নিচু নয়। ব্রিজটির উচ্চতা পানির স্বাভাবিক স্তর থেকে ১০ থেকে ১২ ফুট উঁচু। আশাকরি তৈরির পরে নিচ দিয়ে বড় আকারের নৌযান চলতে পারবে।
গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার খালেদা নাছরিন বলেন, স্থানীয়দের কাছে শুনেছি ব্রিজটি নিচু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করব।
