এক সড়কে দুই বারে ফ্লাইওভার!

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২৩, ০৭:০২

রাজশাহী মহানগরীর নাটোর মহাসড়কের বিহাস তথা ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে রাজশাহী-নওগাঁ সড়কের আলিফ লাম মীম ভাটার মোড় পর্যন্ত চার লেনের সাড়ে ৬ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। এই সড়কে লাগানো হয়েছে দৃষ্টিনন্দন সড়কবাতি। সড়কটির একাংশ দিয়ে ট্রেন চলাচলের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে ফ্লাইওভার। তবে ঐ ফ্লাইওভারটি ছিল দুই লেনের। চার লেনের সড়কে দুই লেনের ফ্লাইওভারের ‘ত্রুটি’ মেরামতের অংশ হিসেবে প্রথম ফ্লাইওভারের পাশেই নির্মিত হচ্ছে আরেকটি ফ্লাইওভার। ফলে প্রথম ফ্লাইওভারের চেয়ে দ্বিতীয় ফ্লাইওভারের নির্মাণ ব্যয় বেড়েছে।

এ বিষয়ে সড়ক ও ফ্লাইওভার নির্মাণে সংশ্লিষ্ট রাজশাহী সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ফ্লাইওভার নির্মাণের জন্য একসঙ্গে টাকা বরাদ্দ দেয়নি। তাই এক কাজ দুইবার করতে হচ্ছে রাজশাহী সিটি করপোরেশনকে (রাসিক)। নির্মাণাধীন বর্তমান ফ্লাইওভারের কাজ শেষ হলে দুই লেন জনিত ‘ত্রুটি’ আর থাকবে না। দ্বিতীয় ফ্লাইওভারটি নির্মাণের সময় নির্ধারিত ছিল ডিসেম্বর-২০২২ পর্যন্ত। তবে কাজ শেষ করতে আরো কয়েক মাস লাগবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রথম দফায় সড়কটির একাংশে ২০২ দশমিক ৫০ মিটার ফ্লাইওভার এবং ১২০ মিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়। এতে ব্যয় হয় ২৯ কোটি ২৮ লাখ ৭৭ হাজার ৫৩২ টাকা। বর্তমানে প্রথম ফ্লাইওভারের পশ্চিম পাশে ১৯২ দশমিক ৫ মিটার দৈর্ঘ্যের আরেকটি ফ্লাইওভার এবং ৩০০ মিটার দৈর্ঘ্যের সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজ প্রায় শেষের পথে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০ কোটি ৭৯ লাখ ৬৮ হাজার ১২০ টাকা।

আগের দুই লেন বিশিষ্ট ফ্লাইওভার নির্মাণের চেয়ে দ্বিতীয় দুই লেনের ফ্লাইওভারের নির্মাণ ব্যয় বেড়েছে ১১ কোটি ৫০ লাখ ৯০ হাজার ৫৮৮ টাকা। একসঙ্গে চার লেনের ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হলে তখন নির্মাণ ব্যয় তুলনামূলক অনেক কম হতো বলে স্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্টরা। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থেই ফ্লাইওভার দুটি নির্মিত হচ্ছে। পাঁচ বছর আগের প্রকল্পের প্রথম ফ্লাইওভার গত বছর উদ্বোধন করা হয়। দ্বিতীয় ফ্লাইওভারটির প্রকল্প প্রস্তুত করা হয় প্রায় দুই বছর আগে। সময়ের এই ব্যবধানে নির্মাণ ব্যয় বেড়েছে সাড়ে ১১ কোটি টাকা।

প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রথম ফ্লাইওভারের পশ্চিম পাশের দ্বিতীয় ফ্লাইওভার নির্মাণকাজও প্রায় শেষের পথে। ঢাকার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি করছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক মাহামুদুল হাসান জানান, চার লেনের সড়কে আগে দুই লেনের ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হয়। ফলে সড়কটিতে গাড়ির সংখ্যা বাড়লে দুই পাশের আট লেনের গাড়ি এসে ফ্লাইওভারের দুই পাশে যানজট লেগে যায়। এই সমস্যা সমাধানের জন্য দ্বিতীয় ফ্লাইওভারটি নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে একসঙ্গে চার লেনের ফ্লাইওভার নির্মাণ করলে ব্যয় অবশ্যই কম হতো।

একসঙ্গে চার লেনের ফ্লাইওভার কেন নির্মাণ করা হয়নি? জানতে চাইলে রাসিকের তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী ও বর্তমান উপদেষ্টা প্রকৌশলী আশরাফুল হক জানান, সড়কটি নির্মাণের জন্য যখন প্রকল্প প্রস্তুত করা হয়, তখন ফ্লাইওভার অন্তর্ভুক্ত ছিল না। রেললাইনের জন্য শুধু একটা লেভেল ক্রসিং গেট নির্মাণের কথা ভাবা হয়েছিল। সেভাবেই প্রকল্পটি অনুমোদন পেয়েছিল। পরে লেভেল ক্রসিং গেটের পরিবর্তে নিচে রেললাইন অক্ষত রেখে ওপরে ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনা হয়। কিন্তু তখন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় চার লেনের ফ্লাইওভার নির্মাণের বিশাল অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ দেয়নি। মন্ত্রণালয় তখন শুধু দুই লেনের ফ্লাইওভার নির্মাণের জন্য ২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল। তাই তখন দুই লেনের ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হয়। তবে তারা পরিকল্পনায় রেখেছিলেন, ভবিষ্যতে পশ্চিম পাশে আরেকটি ফ্লাইওভার নির্মাণ করে ফ্লাইওভারটি চার লেনের নির্মাণ তথা ‘ত্রুটি’র সমাধান করার। এখন সেটাই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

ব্যয় বৃদ্ধি প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক ও রাসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নূর ইসলাম তুষার জানান, পাঁচ বছর আগের বাজার দর এবং বর্তমান বাজার দর এক নেই। সবকিছুরই দাম বেড়েছে। তাই ব্যয়ও বেড়েছে।

ইত্তেফাক/ইআ