জরাজীর্ণ দশা ও জনবল সংকট নিয়েই চলছে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের কার্যক্রম। অফিস কক্ষে প্রায়ই ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ছে। তাছাড়া বর্ষার সময় ছাদ চুঁইয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নষ্ট হওয়া মতো ঘটনা ঘটেছে।
অফিসের সংশ্লিষ্টরা জানান, উপজেলা পরিষদের নতুন কমপ্লেক্স ভবন থাকা সর্তেও আমাদের সেখানে দেওয়া হচ্ছে না। হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার পদসহ চারটি পদ দীর্ঘদিন শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে হিসাররক্ষণ কর্মকর্তা, জুনিয়র অডিটর, অফিস সহায়ক, সুপারিন্টেনডেন্ট রয়েছে।
তারা জানান, বর্তমানে শাহারাস্তির হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা স্বপন দেবনাথকে ফরিদগঞ্জে অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি সপ্তাহে দুদিন (সোম ও বুধবার) আসার নিয়ম চালু করলেও বিভিন্ন কারণে কখনও সপ্তাহে একদিনও আসতে না পারায় কাজের খুব অসুবিধা হচ্ছে। ইতিপূর্বেও রায়পুরের কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সড়ক দুর্ঘটনায় কর্মকর্তার হাত ভেঙে যাওয়ায় মাসে একদিনও আসতে না পারায় ভোগান্তির যেন শেষ নেই।
প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী মো. অজিউল্যাহ বলেন, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে সরকারি ১৯০ স্কুলের বিলসহ অন্যান্য বিলের কাজ সারতে আমরা খুবই ভোগান্তিতে রয়েছি। স্থায়ীভাবে এখানে লোক নিয়োগ দেওয়া জরুরি।
প্রায় তিন বছর পদটি শূন্য থাকার সমস্যা উল্লেখ করে হিসাবরক্ষণ অফিসের অফিস সহকারী মো. আবুল কালাম জানান, কর্মকর্তার পদসহ চার পদ শূন্য রয়েছে। তাছাড়া ১৮০০ কর্মকর্তা/কর্মচারীর বিল, ১৭০০ জনের পেনশনের ‘ইফটি’(ইলেট্রনিক তহবিল স্হানান্তর), ঠিকাদার কাজের বিল, বেতনের প্রত্যায়নপত্র (এলপিসি) ইস্যু পাঠানো, এলপিসি প্রাপ্তি ও বেতন নির্ধারণসহ ১৫টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন বিল পাস করার কাজ করতে হচ্ছে। লোকবলের অভাবে এ সকল কাজ করতে খুবই অসুবিধা হচ্ছে।
তার অভিযোগ, রীতিমত জরাজীর্ণ দশার কারণে আতঙ্কের মধ্যে অফিস কাজ করতে হচ্ছে। প্রতিনিয়ত ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ছে। দেয়ালের বিভিন্ন জায়গায় ফাঁটল দেখা দিয়েছে। একটু বৃষ্টি হলে কাগজপত্র ভিঁজে যাচ্ছে। নতুন কমপ্লেক্স ভবনেও আমাদের ঠাঁই হচ্ছে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাসলিমুননেছার জানান, পুরনো ভবনের সভা কক্ষটি মেরামত করে অচিরেই হিসাররক্ষণ অফিসকে দেওয়া হবে। মেরাতম করে দুই মাসের মধ্যেই তাদেরকে এখানে শিফটিং করা হবে। নতুন ভবনে যতটুকু সম্ভব হয়েছে অন্যান্য দপ্তরকে শিফটিং করা হয়েছে।
