টানা শীত ও কুয়াশায় রাজশাহীতে বোরো ধানের বীজতলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে করে ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন এমন আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। বোরো ধানের বীজতলা ঠিকমতো না হলে জমিতে চারা রোপণ করতে গিয়ে বিপাকে পড়বেন কৃষকেরা। তখন বাড়তি টাকাসহ বোরো ধানচাষেও বেঘাৎ ঘটবে। ফলে বীজতলা ঠিক রাখতে কৃষকেরা প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারপরেও তীব্র শীত আর কুয়াশায় পেরে উঠছেন না অনেকে। অনেকই বীজতলা এরই মধ্যে নষ্ট হতে শুরু করেছে।
মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও পবা এলাকায় ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র দেখা গেছে।
জেলার গোদাগাড়ীর প্রেমতলির কৃষক করিক বখশ বলেন, ‘এবার তিনি প্রায় ১০ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করবেন। সেই লক্ষ্য নিয়ে ২০-২৫ দিন আগে বীজতলা তৈরি করেছেন। কিন্তু গত কয়েক দিনের টানা শীত এবং কুয়াশায় বীজতলা নষ্ট হতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে ধানের চারা গজালেও প্রায় অর্ধেকের কিছু কম চারা নষ্ট হয়ে গেছে। বাকি যেগুলো আছে, সেগুলো লাল হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে তিনি ওপরে পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিতে শুরু করেছেন। যেন কুয়াশা থেকে রক্ষা করা যায় ধানের চারাগুলোকে।’
তিনি আরও জানান, ‘যাদের বীজতলা এরই মধ্যে ঠিকঠাক মতো হয়ে গেছে, তারা তীব্র শীতের কারণে বোরো ধান চাষ শুরু করতে পারছে না। রাজশাহীতে যে পরিমাণ শীত বিরাজ করছে, তাতে এখন ধানের চারা জমিতে রোপণ করার পরে সেগুলো বেড়ে উঠতে সমস্যা হবে। শীত না কমলে জমিতে চারা রোপণ করলে মারা যাবে। তাই এখনো তেমনভাবে ধান চাষ শুরু হয়নি রাজশাহীতে।’
পবার দামকুড়ার কৃষক আকবর আলী বলেন, ‘শীত ও কুয়াশায় বোরো ধানের চারা (বীজতলা) নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মরা শুরু হয়ে গেছে অনেকের চারা। আমারও অনেক চারা মরে গেছে। এমন আবহাওয়া থাকলে ধান চাষ করতে সমস্যায় পড়তে হবে। খরচও বাড়বে। চারা মরে গেলে কিনতে হবে। তখন বাড়তি টাকা লাগবে। এবার এমনিতেই বোরো ধান চাষে খরচ বাড়বে। আবার চারা ঠিকমতো না হলে আরও খরচ বাড়বে।’
এদিকে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র মতে, এবার রাজশাহী জেলায় বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৫ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে। এখন পর্যন্ত মাত্র ৪৮৭ হেক্টর জমিতে ধানের বীজ রোপণ করা হয়েছে। এবার বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে। কিন্তু বীজতলা তৈরি হয়েছে ৪ হাজার ৩৩৬ হেক্টর জমিতে। গত বছর রাজশাহীতে বোরো ধান চাষ হয়েছিল ৬৫ হাজার ৮৩৪ হেক্টর জমিতে। সেখান থেকে ধান উৎপাদন হয়েছিল ২ লাখ ৯৭ হাজার ৪১০ মেট্রিক টন।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা উম্মে সালমা বলেন, ‘শীত ও কুয়াশায় রাজশাহীতে এখনো বোরোর বীজতলার তেমন ক্ষতি হয়নি। তবে ক্ষতি প্রতিরোধে কৃষকদের বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেয়া এবং রাতে টিউবওয়েলের গরম পানি ছিটিয়ে দিতে বলা হচ্ছে। এতে শীত এবং কুয়াশার কবল থেকে রক্ষা পাবে বোরোর বীজতলা।’
শীত ও কুয়াশা থেকে বোরোর বীজতলা রক্ষায় পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিচ্ছেন দুই কৃষক। ছবি-ইত্তেফাক
