বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৮ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

তামিম-ওয়াহাবে খুলনার প্রথম জয়

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৩, ০৯:৫৪

বিপিএলে ঢাকায় পরপর দুই ম্যাচে (ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিপক্ষে) হারের পর চট্টগ্রাম পর্বেও খুলনা টাইগার্সের শুরু হয়েছিল সেই হার দিয়েই। আগের ম্যাচে যাদের সঙ্গে হারতে হয়েছে অবশেষে নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে এসে সেই রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষেই কাঙ্ক্ষিত জয়ের দেখা পেল তামিম ইকবাল-ইয়াসির আলিদের দল খুলনা।

তামিমের চিরচেনা জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে যে জয়ের নায়ক এই দেশ সেরা ওপেনারই। রংপুরের ছুড়ে দেওয়া ১২৯ রানের জবাবে তামিমের অপরাজিত ৬০ রানে ভর করে ১০ বল বাকি থাকতেই মাত্র এক উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় খুলনা টাইগার্স।  অবশ্য ম্যাচ জয়ের ভিত্তিটা গড়ে দিয়েছিল খুলনার বোলাররাই।

মঙ্গলবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রতিপক্ষ রংপুরকে প্রথমে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান খুলনার অধিনায়ক ইয়াসির আলি। ইনজুরির কারণে দলে ছিলেন না রংপুরের নিয়মিত অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। তার পরিবর্তে দলে আসা উইকেটকিপার ব্যাটার পারভেজ ইমন ওপেনিংয়ে নামেন রনি তালুকদারের সঙ্গে। কিন্তু প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলে রানের খাতা খোলার আগেই রনিকে বিদায় করে দেন নাহিদুল ইসলাম। দলীয় ২২ রানে নাইমকেও (১৩) আউট করে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠালে চাপে পড়ে রংপুর।

তৃতীয় উইকেটে সে চাপ সামলে দলকে (রংপুর) এগিয়ে নিতে থাকে মেহেদি হাসান-পারভেজ ইমন জুটি। কিন্তু ওয়াহাব রিয়াজের বলে থামতে হয় রংপুরের ইনিংসের সর্বোচ্চ রানের (২৯) পার্টনারশিপ গড়া এ জুটিকে। ওয়াহাব রিয়াজের বলে পারভেজ হোসেন ইমন (২৫) আউট হওয়ার পর রংপুরের স্কোর দাঁড়ায় ৩ ওভারে ৫১ রান। এরপর আর বলার মতো কোনো পার্টনারশিপ গড়তে পারেনি রংপুর। খুলনার দুই পাকিস্তানি রিক্রুট ওয়াহাব রিয়াজ ও আমাদ বাটের আগ্রাসি বোলিংয়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে মাত্র ১২৯ রানে গুটিয়ে যায় রংপুরের ইনিংস।

৪ ওভার বল করে মাত্র ১৪ রান খরচায় ৪ উইকেট তুলে নেন ওয়াহাব রিয়াজ। আর তিন ওভারে আমাদ বাটের শিকার তিন উইকেট, তার খরচ মাত্র ১৬ রান। রংপুরের পক্ষে ৩৪ বল খেলে সর্বোচ্চ ৩৮ রান করেন মেহেদি হাসান।

জবাবে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেই তামিম ইকবালের ব্যাটে উড়ন্ত সূচনা করে খুলনা। চার দিন আগে এই মাঠে এই খুলনাকেই হারিয়েছিল রংপুর। সে ম্যাচে রবিউল হক ২২ রান খরচায় ৪ উইকেট তুলে নিয়ে হয়েছিলেন ম্যাচসেরা। সেই রবিউল ছিলেন না এ ম্যাচের স্কোয়াডে। পাকিস্তানি পেসারদের দলে জায়গা দিতে টিম কম্বিনেশনের কারণে তাকে বাদ দিয়ে এ ম্যাচের স্কোয়াড সাজায় রংপুর। তবে রংপুরের দলে ছিলেন হারিস রউফের মতো এক্সপ্রেস বোলার, ছিলেন মোহাম্মদ নওয়াজও। তবে এ দুই পাকিস্তানি বাধা হতে পারেননি তামিমের সামনে।

এবারের বিপিএলে তামিম প্রথমবারের মতো অর্ধশতক আদায় করে নেন এ ম্যাচে। ৪৭ বলে ৬০ রানের ইনিংস খেলে দলকে প্রথমবারের মতো জয় এনে দেন এ অভিজ্ঞ ব্যাটার। ৬০ রান করতে চারটি বাউন্ডারি ও দুটি ওভার বাউন্ডারি মারেন ম্যাচসেরা তামিম ইকবাল। ১৩০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করে কেবল মাত্র মুনিম শাহরিয়ারের (২১) উইকেট হারায় খুলনা। রংপুরের পক্ষে একমাত্র উইকেটটি নেন আজমাতুল্লাহ ওমরজাই। ওয়ানডাউনে নামা মাহমুদুল হাসান জয় ৩৮ রান করে অপরাজিত থাকেন। চার ম্যাচে এটি খুলনার প্রথম জয় হলেও রংপুরের ঝুলিতে দুই পরাজয়ের বিপরীতে দুটি জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলে এখনো সিলেট ও বরিশালের পরেই আছে রংপুর।

ইত্তেফাক/এসএস