বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৯ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

২০০ বছরের পুরনো গর্জন বাগান এখন টেকনাফের নতুন আকর্ষণ 

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৩, ১৭:১৮

কক্সবাজারের টেকনাফে শীলখালী রেঞ্জের জাহাজপুরা গ্রামে ২০০ বছরের পুরনো গর্জন বাগান পর্যটনের নতুন স্পট। এই গর্জন বাগান দেখার জন্য দেশি-বিদেশি পর্যটকরা আসেন বলে জানিয়েছেন শীলখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শফিউল আলম।

তিনি বলেন, শীলখালী রেঞ্জের আওতায় জাহাজপুরা গর্জন বাগানটি দু’শত বছরের পুরনো একটি বাগান। কক্সবাজার দক্ষিণ অঞ্চলে শুধুমাত্র জাহাজপুরাতে সৌন্দর্য ভরা গর্জন বাগানটি সঙ্গে আছে বৈলাম, জারইল, তেসসল, সাপালি, শীল করল, ওরি আম গাছ। এই বাগানটি পর্যটকদের কাছে অতন্ত্য প্রিয় এবং বিনোদনের জন্য রয়েছে অফুরন্ত ব্যবস্থা। বাগানের ভেতর সারি সারি ভাবে দাড়িয়ে আছে গাছগুলো। বাগানের ভেতর দিয়ে পাহাড়ের ওপরের উঠলে দেখা যায় সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য। বাগানটি দেখতে বর্তমানে ছুটে আসেন প্রচুর সংখ্যক পর্যটক।

জানা যায়, কক্সবাজার শহর থেকে মেরিন ড্রাইভ সড়ক দিয়ে ৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব পাশে মাথা উঁচু করে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে গর্জন বাগান। যার এক একটির বয়স দু'শত বছর পেরিয়ে গেছে। এর আয়তন ১১,৬১৫ হেক্টর। এই বাগানে ৫ হাজার ৭৭২টিরও বেশি গর্জন গাছ রয়েছে। গাছগুলোর দৈর্ঘ্য ৭০ থেকে ৮০ ফুট এবং প্রস্থ ১০ থেকে ১২ ফুট হবে।

এছাড়াও বাগানে রয়েছে হাতি, রেসাস বানর, শুক রাকার ভোঁদর, নীলদাড়ি সুইচোরা, বড় কাঠ কুড়ালি, কাকড়াভুক, বানর, হরিণ জীববৈচিত্র্য সহ ১৩ প্রজাতির উভচর প্রাণী, ৫৬ প্রজাতির সরিসৃপ, প্রায় ২৬০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী পাখি ও ৫৫ প্রজাতির প্রাণী। 

বাগানটি পর্যটকদের কাছে আরও আকৃষ্ট করে তুলতে নিরাপত্তাসহ পর্যটকদের বিশ্রাম, বিনোদন ও ইকো ট্যুর গাইডের ব্যবস্থা রেখে এই বাগানকে ‘প্রকৃতি পর্যটনকেন্দ্র’ হিসেবে উদ্বোধন করা হয়। অনেকে আবার এই বাগানকে ‘জাহাজপুরা ইকো পার্ক’ বলেও অবিহিত করেন।

ইকো ট্যুর গাইড সাইফুল ইসলাম বলেন, জাহাজপুরা গর্জন বাগানসহ কুদুম গুহা ও পাহাড়ি এলাকা দেখতে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা এখানে আসেন। এই গর্জন বাগানের ভেতর প্রবেশ করলে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আওয়াজসহ বন্য প্রাণী দেখা যায়। ফলে পর্যটকদের কাছে এটি সুন্দর ও আকৃষ্ট হয়ে উঠেছে। তবে ইদানীং পাহাড়ের ভেতরের বিভিন্ন অপহরণের ঘটনার কারণে পর্যটকদের সংখ্যা কিছুটা কমছে। 

বাগানটির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা সিপিজি সদস্য হাবিব হোছাইন বলেন, ২০০ বছরের পুরনো এই গর্জন বাগানটি রক্ষায় তারা নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছেন। বাগানটি রক্ষা করার জন্য বন-বিভাগের লোকজনদের সঙ্গে তারা কাজ করেন। বর্তমানে এই অঞ্চলের পাহাড়ে চোখে পড়ার মত কোন গাছ নেই বললেই চলে। বহু বছর আগে প্রায় উজাড় হয়ে গেছে পাহাড়ে থাকা গাছ। যখন কাঠ চোরাকারবারিরা এই গর্জন বাগান কাটার জন্য ষড়যন্ত্র শুরু করে আমরা স্থানীয়রা মিলে গর্জন বাগানটি রক্ষায় এগিয়ে আসি। তাই আজও বাগানটি পাহারা দিয়ে যাচ্ছি। এই গর্জন বাগান দেখার জন্য আসেন দেশি-বিদেশি পর্যটক।

শীলখালীসহ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় ও প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য ভরা এই গর্জন বাগানের সৌন্দর্য মনকে আকৃষ্ট করে। বাগানটি রক্ষা করার সহ আগত পর্যটকদের নিরাপদ ব্যবস্থা জন্য ইকো ট্যুর গাইড ও সিপিজি সদস্যদের সেখানে মজুদ রেখেছেন।যাতে পর্যটকরা নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারেন।

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. সরওয়ার আলম বলেন, মেরিন ড্রাইভের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে টেকনাফের শীলখালী রেঞ্জের জাহাজপুরায় যে গর্জন বাগান আছে এটি একটি ঐতিহ্যবাহী বাগান। বাগানটি প্রায় ২০০ বছরের পুরনো। এই বাগানকে ঘিরে এখানে একটা ছোট পার্ক নিয়ে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। দেশি বিদেশি পর্যটকরা ওই বাগানে বেড়াতে যান। এই বাগানকে পরিপূর্ণ একটি পর্যটন স্পট করার পরিকল্পনা আছে। সরকার এ বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এই বাগানের ইতিহাস ও ঐতিহ্য পর্যটকদের কাছে তুলে ধরতে আমরা আরও পদক্ষেপ নিচ্ছি। পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য বন-বিভাগের  সদস্যদের পাশাপাশি ইকো ট্যুর গাইড ও স্থানীয় সিপিজি সদস্যরা রয়েছে।

ইত্তেফাক/এআই