বৃহস্পতিবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৬ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

অ্যাম্বুলেন্স আছে চালক নেই, সেবা বঞ্চিত রোগীরা!

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২৩, ১২:০৯

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালক না থাকায় টানা দুবছরের বেশি অ্যাম্বুলেন্স সেবা পাচ্ছেন উপজেলাবাসী। অ্যাম্বুলেন্স সেবার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ডাক্তার না থাকায় চিকিৎসাসেবা থেকেও বঞ্চিত তারা। এছাড়া জনবলের অভাবে আল্ট্রাসসনোগ্রাম, এক্স-রেসহ ইসিজি সেবা পাচ্ছেন না রোগীরাও। এ নিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে তাদের। 

উপজেলাবাসীর অভিযোগ, এখানকার রোগীদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বাধ্য হয়ে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়ার দ্বিগুন টাকা ব্যয় করে মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকারসহ বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে কুড়িগ্রাম-রংপুর-মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হয়। টানা দুই বছর ছয় দিন অতিবাহিত হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অ্যাম্বুলেন্স সেবা দিতে না পাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপজেলার হাজারো মানুষ।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানান, ২০২১ সালের ১৩ জানুয়ারির উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সামছুন্নাহারসহ অপর এক চিকিৎসকের সরকারি কোয়াটারে চুরির ঘটনা ঘটে। কোয়াটারের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে পাঁচ জনকে আটক করে পুলিশ। এদের মধ্যে হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক একাব্বর আলী (৪৭) রয়েছেন। পরে পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে কুড়িগ্রাম কারাগারে পাঠায় পুলিশ। চুরির নির্দেশ দাতা আটক অ্যাম্বুলেন্স চালক একাব্বর আলীকে একই বছর ১৩ জানুয়ারি সাময়িক বরখাস্ত করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সেই থেকে গ্যারেজে তালাবদ্ধ অবস্থায় অযত্নে পরে আছে অ্যাম্বুলেন্স। ১১ এপ্রিল একাব্বর আলী কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে আসলেও বরখাস্ত থাকা অবস্থায় ওই চালক দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স চালানোর নিয়ম নেই বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ইসিজি, এক্স-রে মেশিন ভালো থাকলে টেকনিশিয়ান না থাকায় দীর্ঘদিন এ সেবা থেকে বিরত। আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিনটিও দীর্ঘদিন পরে থাকতে থাকতে নষ্ট হয়ে যায়। হেলথ সহকারী ২৫ জনের পদ থাকলেও বর্তমানে আছে ১৫ জন।

এদিকে, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটিতে চিকিৎকের পদ ২১ জন থাকলেও মাত্র আট জন চিকিৎসক দিয়ে কচ্ছপ গতিতে চলছে চিকিৎসাসেবা।

ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের বোয়াইলভীর এলাকার মানিক চন্দ্র রায় বলেন, তিনদিন আগে আমার স্ত্রী গুরুতর অসুস্থ হলে আমি অ্যাম্বুলেন্স চালক একাব্বর আলীকে ফোন দেই। 

তিনি বলেন, আপাতত সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালানো নিষেধ। আমার কাছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স আছে। পরে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকের অভাবে তিনি বাধ্য হয়ে তিনি দুই হাজার ৫০০ টাকা ভাড়ায় তার অসুস্থ স্ত্রীকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করান। 

ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়নের চন্দ্রখানা এলাকার বাসিন্দা মানিক সদ্দার ও এমদাদুল হক মিলন জানান, দুই বছর ছয় দিন অতিক্রম করলেও অ্যাম্বুলেন্সের চালক না থাকায় রোগীর স্বজনরা চরম বিপাকে পড়েছেন। 

তারা বলেন, হাসপাতালটিতে চালকের পাশাপাশি পর্যপ্ত চিকিৎসক না থাকায় চরম সংকটেও পড়েছে রোগীর স্বজনরা। 
 
বরখাস্তকৃত অ্যাম্বুলেন্স চালক একাব্বর আলী জানান, ২০২১ সালের ১৩ জানুয়ারি তৎকালীন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সামছুন্নাহার আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক করে চুরির নির্দেশ দাতা হিসেবে মামলা দিয়েছে। মামলা হওয়ায় ওই বছরে ১৩ জানুয়ারি আমাকে সাময়িক বরখাস্ত করেও করেন তিনি। মিথ্যা মামলার কারণে টানা দুবছর ছয় দিন থেকে পরিবার নিয়ে চরম দুদিন পাড় করছি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন চালক একাব্বর আলী। 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুমন কান্তী সাহা জানান, চালক একাব্বরে বিরুদ্ধে মামলা থাকায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালানোর কোনো নিয়ম নেই। তাই টানা দুই বছর ছয় দিন থেকে অ্যাম্বুলেন্সটি তালাবদ্ধ অবস্থায় গ্যারেজে পড়ে আছে। অ্যাম্বুলেন্স চালকসহ বিশেষজ্ঞসহ চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে স্থানীয় প্রশাসন, সংসদ সদস্যসহ ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।  

ইত্তেফাক/আরএজে