বুধবার, ০৭ জুন ২০২৩, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

শীতার্তের উষ্ণতার আয়োজন ‘রেলপ্লাজা’

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২৩, ১৫:২১

শীতের প্রকোপ বৃদ্ধির পাশাপাশি, রাজবাড়ীর রেললাইনে অস্থায়ী ‘রেলপ্লাজা’ নামক খ্যাত দোকানগুলোতে বেড়েছে শীতের গরম পোশাক বিক্রি। বিত্তশালীরা অভিজাত বিপণী বিতানে শীতের পোশাক কেনাকাটা করলেও নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষেরা ছুটছেন ফুটপাতের অস্থায়ী পুরনো কাপড়ের দোকানগুলোতে। স্বল্প মূল্যে সাধ্যের মধ্যে শীতের পোশাক কিনতে রাজবাড়ী জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে শহরগামী ক্রেতারা ভিড় করেন এ রেলপ্লাজায়।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, মধ্যবিত্ত ও নিম্ন শ্রেণীর আয়ের মানুষের শীতে গরম পোশাকের একমাত্র ভরসা রাজবাড়ীর রেলপ্লাজা নামক খ্যাত শীতের পুরনো কাপড়ের মার্কেট। প্রতিদিন প্রায় কয়েক লক্ষ টাকার পুরাতন পোশাক বিক্রি হয় এ অস্থায়ীদের দোকানগুলোতে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, রাজবাড়ীর রেলওয়ে ষ্টেশনের ১নম্বর রেলগেট থেকে ২নম্বর রেলগেট পর্যন্ত রেললাইনের ওপর অস্থায়ী ভাবে ৪২টি পুরাতন কাপড়ের দোকান বসেছে। প্রতিদিন দুপুর ১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এ দোকানগুলোতে পোশাক বিক্রির হিড়িক পড়ে। দিন গড়িয়ে সন্ধ্যা হলেই ক্রেতাদের আগমনও বৃদ্ধি পায়। বিক্রেতাদের গলা ছাড়া ডাকে মুখরিত ক্রেতাসহ পুরো এলাকা। এ দোকানগুলোতে নিম্ন আয়ের মানুষের পাশাপাশি মধ্যবিত্তরা এসেছে স্বপ্ল দামে ভালো মানের শীতের পোশাক কিনতে। 

দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবছর শীতের আগমনী বার্তা শুরু অক্টোবর মাস থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ৪ মাস একটানা চলে পুরাতন শীতের পোশাক বিক্রি। রেল লাইনের ওপর গড়ে ওঠা এসব দোকানে কোরিয়া, তাইওয়ান, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের পুরনো ব্লেজার, জ্যাকেট, সোয়েটার, টাউজার, মাফলার, টুপি, হুডি, ফুল ও হাফ গেঞ্জি, কম্বল সহ পুরুষ, নারী ও ছোট বাচ্চাদের শীতবস্ত্র বিক্রি করা হয়। শীতের প্রকোপ যত বৃদ্ধি পায়, পুরাতন এ পোশাক তখন একটু বেশি বেচাকেনা হয়। দামটাও একটু বেশি পাওয়া যায়। প্রতিদিন প্রতিটি দোকানে ৯/১০ হাজার টাকার পোশাক বিক্রি হয়। গড়ে প্রতিদিন এই রেলপ্লাজায় প্রায় ৪/৫লক্ষ টাকার বেশি পুরাতন শীতের পোশাক বিক্রি করে থাকেন ব্যবসায়ীরা।

রেললাইনে অস্থায়ী ভাবে গড়ে উঠা ‘রেলপ্লাজার’ শীতের পোশাক বিক্রির দোকানি মো. ইউনুছ মণ্ডল বলেন, গত বছরের চেয়ে এবার প্রায় দ্বিগুণ দামে কেজি দরে কিনে আনতে হয় এক একটি পোশাকের বেল। গত বছর ২মণ ওজনের যে বেল (পোশাকে বান্ডেল) ১২ হাজার টাকা ছিল তা এবার ২০ হাজার টাকায়। আমার দোকানে ছোট শিশু বাচ্চাসহ বয়স্ক পর্যন্ত একটি শীতের পোশাক ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হয়।  

অপর দোকানী মো. উজ্জ্বল শেখ, দেলোয়ার মণ্ডল ও মো. রুহুল আমিন বলেন, দীর্ঘ ৫/৬ বছর যাবৎ রাজবাড়ীর রেললাইনে অস্থায়ী ভাবে শীতের ৪মাস আমরা পোশাক বিক্রি করে থাকি। দোকানে নিম্নবিত্ত ও স্বপ্ল আয়ের লোকজনের পাশাপাশি মধ্যবিত্তরাও ভিড় করে। এখানে পুরনো পোশাকের পাশাপাশি এক্সপোর্ট কোয়ালিটির নতুন পোশাক বিক্রি হয়। এখানে কমদামি ৫০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে, মাঝারি ধরনের ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়ে থাকে। কিছু কিছু দামি ও শীতের পোশাক ও কম্বল ১ থেকে ২ হাজার টাকায়ও বিক্রি হয়। 

শীতের পোশাক ক্রেতা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি একটি কোম্পানিতে সামান্য টাকার চাকরি করি। দ্রব্যমূল্যের যে দাম সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। এখানে (রেলপ্লাজায়) এসেছি কম দামের মধ্যে একটা শীতের জ্যাকেট কিনতে। শপিং মল থেকে নতুন জ্যাকেট কেনার সাধ থাকলেও সাধ্য নেই। তাই বাধ্য হয়ে এই পুরাতন মার্কেটে এসেছি। তবে এখানে সব আইটেম গুলো পুরাতন নয়। এখানে কম দামের মধ্যে এক্সপোর্ট কোয়ালিটির ভালো জ্যাকেট রয়েছে। 

রিকশাচালক মো. তারুক মোল্লা বলেন, আমি রিক্সা চালিয়ে সংসারের খরচ জোগাড় করি। মেয়েটা ক্লাস ৭ম শ্রেণীতে পড়ে। একটা নতুন শীতের পোশাকে দাম ১ হাজার টাকা। তাই একটি সস্তায় মেয়ের জন্য ৩০০ টাকা দিকে নতুন কোয়ালিটির পোশাক কিনেছি। আমাদের মত অতি দরিদ্রদের জন্য একমাত্র ভরসা এই রেলপ্লাজা পুরাতন কাপড়ের মার্কেট।

ইত্তেফাক/এআই