বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৮ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

শিক্ষক পেটানো সেই আওয়ামী লীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২৩, ২৩:১২

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে নরুন্নবী নামের এক প্রধান শিক্ষককে তুলে নিয়ে পেটানোর ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা রোকনুজ্জামান রোকনকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সকল পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২১ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে রৌমারী প্রেস ক্লাবে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। 

উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের সংবাদ সম্মেলন। ছবি: ইত্তেফাক

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হোরায়রা। তিনি বলেন, ১৯ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) উপজেলার ফুলকারচর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নরুন্নবীকে মারধর করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান রোকন। ঘটনাটি বিভিন্ন মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচার হয়। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। ফলে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে জেলা আওয়ামী লীগের নির্দেশে রোকনুজ্জামান রোকনকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সকল পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, রৌমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক ফেরদৌস আল মাহমুদ পলাশ, সহ দপ্তর সম্পাদক সুমন মিয়া, সাবেক দপ্তর সম্পাদক রমেশ চন্দ্র সাহা চন্দন, সাবেক সহ দপ্তর সম্পাদক মশিউর রহমান, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি হারুনর রশিদ, যুবলীগের সাবেক সহ সভাপতি ফজলুল করিম, দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী আব্দুর রশিদসহ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে যান তিনি। কাজ শেষে অফিসের দুতলা থেকে নেমে উপজেলা চত্বরে গেলে আওয়ামী লীগ নেতা রোকনুজ্জামান রোকন ও তার সঙ্গের লোকজন জোরপূর্বক তাকে (প্রধান শিক্ষক) তুলে নিয়ে প্রথমে বাস কাউন্টারে আটকে রাখেন। এছাড়া অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরে মোটরসাইকেলে ওই প্রধান শিক্ষককে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও রৌমারী সিজি জামান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু হোরায়রার বিদ্যালয় অফিস কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে ওই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে ঘটনা খুলে বলতে থাকেন। এ সময় আওয়ামী লীগ নেতা রোকনুজ্জামান রোকন ক্ষিপ্ত হয়ে দু’হাত দিয়ে ওই প্রধান শিক্ষকের গালে এলোপাথাড়ি চড়থাপ্পর ও কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। একপর্যায়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চেয়ার থেকে উঠে ওই আওয়ামী লীগ নেতাকে থামান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে উপস্থিত আহত ওই প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা রোকনুজ্জামান রোকনসহ দু’জনের নামে রৌমারী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন ওই প্রধান শিক্ষক।

ইত্তেফাক/পিও