পরীক্ষকের বদলে শিক্ষার্থীদের হাতে এইচএসসির খাতা, ভিডিও ভাইরাল

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১৬:৪৪

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় শিক্ষার্থীদের দিয়ে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার খাতা দেখানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এক শিক্ষক শিক্ষার্থীদের দিয়ে এমনটা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, চার শিক্ষার্থী একসঙ্গে বসে এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্রে কোড নম্বর পূরণ করছেন।

ওই শিক্ষকের নাম রিপন হোসেন। তিনি ছোটবাইশদিয়া বিজনেস ম্যানেজমেন্ট (বিএম) কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক।

জানা যায়, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ বিভাগ (বিএমটি) থেকে পাঠানো এক চিঠির মাধ্যমে বাংলা বিষয়ের (বিষয় কোড-২১৮১১) ৩৫০টি উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় ছোটবাইশদিয়া বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মো. রিপন হোসাইনকে। গত ৪ জুলাই স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে পরীক্ষক কোড-১৪০৫-এর আওতায় ৬ আগস্টের মধ্যে উত্তরপত্র মূল্যায়ন শেষে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, প্রভাষক রিপন হোসাইন নিজে কাজটি না করে চার শিক্ষার্থী—আনিম, সিফাত, ইভান ও তানভিরকে কোড নম্বর পূরণের কাজে যুক্ত করেন। তাদের মধ্যে আনিম, সিফাত ও ইভান চলতি বছর একই কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন। তানভির হিসাববিজ্ঞান বিষয়ের অনিয়মিত (ক্যাজুয়াল) পরীক্ষার্থী।

পরীক্ষার্থী সিফাত বলেন, শিক্ষক রিপন হোসাইন তাদের উত্তরপত্রে কোড নম্বর পূরণের দায়িত্ব দিয়েছিলেন।

আনিম বলেন, তারা কলেজের কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন। পরে শিক্ষক ডেকে নিয়ে উত্তরপত্রে কোড নম্বর পূরণ করতে বলেন। তবে তারা কেবল কোড লিখেছেন, উত্তরপত্র মূল্যায়ন করেননি বলেও দাবি করেন তিনি।

ঘটনার পর থেকে প্রভাষক রিপন হোসাইনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। সোমবার কলেজে গিয়েও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

রাঙ্গাবালী উপজেলা শিক্ষা অফিসের সুপারভাইজার অনাদি কুমার বাহাদুর বলেন, উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় কিছু ক্ষেত্রে কোড নম্বর পূরণ করতে হয়। সম্ভবত সে কাজেই শিক্ষার্থীদের সহায়তা নেওয়া হয়েছে। তবে তদন্তের পর বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, যাকে উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, কেবল তিনিই এ কাজ করতে পারবেন। অন্য কোনো শিক্ষক বা ব্যক্তি এ কাজে অংশ নিতে পারবেন না। অভিযোগের সত্যতা তদন্তে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের দিয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়ন বা এ-সংক্রান্ত কাজ করানোর কোনো সুযোগ নেই এবং এমন অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এসজেএস