বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৯ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

জয়ের ধারা অব্যাহত রিয়াল-বার্সার

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৩, ১৭:২১

করিম বেনজেমা ও টনি ক্রুসের গোলে লা লিগায় অ্যাথলেটিকো বিলবাওকে ২-০ গোলে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। এই জয়ে বার্সেলোনার সঙ্গে সমান তালে শিরোপা দৌঁড়ের লড়াই চালিয়ে যাওয়া মাদ্রিদ আরও কিছুটা এগিয়ে থাকলো। এদিকে দিনের আরেক ম্যাচে জয় পেয়েছে বার্সেলোনাও। টেবিলের শীর্ষে থাকা বার্সা গেতাফের বিপক্ষে ১-০ গোলের কষ্টার্জিত জয় নিশ্চিত করেছে। বার্সেলোনার থেকে তিন পয়েন্ট পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানেই রয়েছে রিয়াল।

রোববার (২২ জানুয়ারি) ম্যাচের প্রথমার্ধে দুর্দান্ত ভলিতে ডেডলক ভাঙ্গেন বেনজেমা। শেষ মিনিটে ক্রুজের গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ হওয়ার পাশাপাশি অ্যাথলেটিকোর আশা শেষ হয়ে যায়। স্প্যানিশ সুপার কাপে গত সপ্তাহে বার্সেলোনার কাছে পরাজয়ের পর মাদ্রিদ শিবিরে অস্বস্তি দেখা দিয়েছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার কোপা ডেল রে’তে ভিয়ারিয়ালের বিরুদ্ধে জয়ে ফিরে আত্মবিশ্বাস যুগিয়েছে মাদ্রিদ। বিলবাওয়ের মাঠে এই জয়ে আগামী সপ্তাহে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের বিরুদ্ধে মাদ্রিদ ডার্বির আগে রিয়ালের সমর্থকরা আরও কিছুটা স্বস্তি পেল। 

রোববার (২২ জানুয়ারি) ম্যাচ শেষে রিয়াল কোচ কার্লো আনচেলত্তি বলেন, ‘এটা নিশ্চিত যে আরো একবার আমাদের দল নিজেদের দারুণভাবে প্রতিরোধ করেছে। পুরো ম্যাচেই আমরা শক্তিমত্তার প্রমাণ দিয়েছি। বড় ম্যাচকে সামনে রেখে এই ধরনের প্রতিরোধ খুবই জরুরী। আমরা ভালভাবেই নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছি। প্রতিপক্ষকে  কোন সুযোগ দেইনি, জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছি।’

সব ধরনের প্রতিযোগিতায় মাদ্রিদ আগের চার ম্যাচে আট গোল হজম করেছে। ইনজুরি আক্রান্ত ডেভিড আলাবা ও অরেলিয়েন টিচুয়ামেনির অনুপস্থিতিতে কাল মাদ্রিদ রক্ষণভাগে ছিল অপ্রতিরোধ্য। বিলবাওয়ের বিপক্ষে শারীরিক শক্তি প্রয়োগ সবসময়ই হয়ে থাকে। কালও তার ব্যতিক্রম ছিলনা। আনচেলত্তি মধ্যমাঠে লুকা মড্রিচ ও ক্রুসের পরিবর্তে মূল দলে এডুয়ার্ডো কামভিনগা ও ফেডে ভালভার্দেকে খেলিয়েছেন। ডানি সেবালোস, নাচো ফার্নান্দেজ ও মার্কো আসেনসিও ভিয়ারিয়ালের বিরুদ্ধে ভাল পারফর্ম করার পুরস্কার হিসেবে মূল একাদশে জায়গা ধরে রেখেছিলেন। অ্যাথলেটিকো শুরুটা ভাল করলেও আসেনসিওর  হেড থেকে বেনজেমার ভলিতে ২৪ মিনিটে এগিয়ে যায় সফরকারীরা। এটি ছিল বেনজেমার ২২৮তম লা লিগা গোল। এর মাধ্যমে তিনি রিয়াল  আইকনির রাউল গঞ্জালেজের সঙ্গে লিগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতার অবস্থান স্পর্শ করছেন। ৩১১ গোল করে এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। 

স্প্যানিশ অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নাচো বলেছেন, ‘করিম আজ যা খেলেছে তা সত্যিই অসাধারণ। সে গোল করে আমাদের এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে।’
স্বাগতিক বিলবাও ম্যাচে ফিরে আসার জন্য অনেক চেষ্টা করেছে। কিন্তু ৯০ মিনিটে ক্রুসের গোলে মাদ্রিদের জয় নিশ্চিত হবার পাশাপাশি বিলবাওয়ের স্বপ্নভঙ্গ হয়। এই মুহূর্তে অষ্টম স্থানে থাকা বিলবাও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার পজিশন থেকে পাঁচ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে।

ক্যাম্প ন্যুতে পেড্রি গঞ্জালেজের গোলে গেতাফের বিরুদ্ধে কষ্টার্জিত জয় তুলে নিয়েছে বার্সেলোনা। নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে কাল খেলতে পারেননি তারকা স্ট্রাইকার রবার্ট লিওয়ানদোস্কি। যে কারণে বার্সেলোনা পুরো ম্যাচে তেমন একটা সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। যদিও ঐ এক গোলেই ২০১৯ সালের পর প্রথমবারের মত লিগ শিরোপা জয়ের স্বপ্নে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছেড়েছে কাতালান জায়ান্টরা। 

ম্যাচ শেষে বার্সা কোচ জাভি হার্নান্দেজ বলেছেন, ‘আমরা মোটেই ভাল খেলতে পারিনি, কিছুটা ছন্দহীন হয়ে পড়েছিল পুরো দল। আক্রমণভাগেও তেমন একটা সফলতা দেখা যায়নি। আমরা  ভাল প্রতিরোধ করেছি, কিন্তু রক্ষণভাগকে বেশী ভিতরে রেখে আক্রমণ চালানো সবসময়ই কঠিন। প্রত্যাশানুযায়ী আজ কেউই খেলতে পারেনি। যেকোন বিচারে আজকের ম্যাচটা একেবারেই ভাল ছিলনা। আমাদের অবশ্যই উন্নতি করতে হবে। কিন্তু তারপরও আমরা গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নিয়েছি। ঘরের মাঠে তিন পয়েন্ট পেয়েছি। আরো একটি ম্যাচে কোন গোল হজম না করাটাও গুরুত্বপূর্ণ।’

এ নিয়ে সব ধরনের প্রতিযোগিতায় টানা ছয় ম্যাচে জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। লিওয়ানদোস্কির স্থানে কাল মূল দলে ছিলেন আনসু ফাতি। কিন্ত তরুণ এই স্প্যানিশ নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। ৩৫ মিনিটে বার্সেলোনা সত্যিকারের একটি সুযোগ তৈরি করে। রাফিনহার ক্রসে পোস্টের খুব কাছে থেকে বল জালে জড়ান পেড্রি। সফরকারীদের হয়ে সাবেক মাদ্রিদ স্ট্রাইকার মায়োরাল সমতা ফেরানোর সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন। তার শটটি রুখে দেন মার্ক-আন্দ্রে টার স্টেগান। এনিয়ে ১৭ লা লিগা ম্যাচের ১৩টিতেই বার্সেলোনা কোন গোল হজম না করে ম্যাচ শেষ করেছে। 

 

ইত্তেফাক/জেডএইচ