রোববার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২১ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ভোলায় নতুন কূপে গ্যাসের সন্ধান, দৈনিক ২ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার আশা

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৩, ০৫:৩০

দ্বীপজেলা ভোলায় আরেকটি নতুন কূপে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। ভোলা নর্থ-২ নামে এ কূপ এখন পর্যন্ত ভোলায় গ্যাস পাওয়া অষ্টম উৎস। এ কূপ থেকে দৈনিক ২ কোটি ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা যাবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল জানানো হয়, গত ৫ ডিসেম্বর ভোলা নর্থ-২ এর কূপ খনন কার্যক্রম শুরু হয়। ৩ হাজার ৪২৮ মিটার গভীরতায় সফলভাবে কূপ খনন কার্যক্রম শেষ হয় গত ১৭ জানুয়ারিতে। বাপেক্সের তত্ত্বাবধানে কূপটি খনন করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রম। গত সোমবার ডিএসটি (ড্রিল স্টেম টেস্ট) সম্পন্ন করার পর এ কূপে গ্যাস আবিষ্কৃত হয়। কূপটিতে উত্তোলনযোগ্য গ্যাস কতটুকু রয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। চূড়ান্ত উৎপাদন পরীক্ষাশেষে এ কূপ হতে গ্যাস উৎপাদন হার নির্ণয় করা হবে। তবে দৈনিক কমবেশি ২০ এমএমএসসিএফডি (২ কোটি ঘনফুট) হারে গ্যাস উত্পাদনের বিষয়ে বাপেক্স আশাবাদী।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিকল্পনা অনুসারে চালাতে হবে। ২০২২-২৫ সময়কালের মধ্যে পেট্রোবাংলা মোট ৪৬টি অনুসন্ধান, উন্নয়ন ও ওয়ার্কওভার কূপ খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সমুদ্রভাগে ও স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন কার্যক্রম আরো বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। দেশীয় জ্বালানির উৎস অনুসন্ধান কার্যক্রম বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ব্রুনাইসহ গ্যাস ও তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তির প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।

ইত্তেফাকের ভোলা প্রতিনিধি আহাদ চৌধুরী তুহিন জানান, ভোলা নর্থ-২ কূপটির অবস্থান জেলা সদরের পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের দক্ষিণ চরপাতা গ্রামে। 

বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী বলেন, দেশীয় জ্বালানির উৎস অনুসন্ধানে সরকার আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছে। এর হিসেবে বাপেক্সের তত্ত্বাবধানে গ্যাজপ্রমের মাধ্যমে টবগী-১, ভোলা নর্থ-২ এবং ইলিশা-১ তিনটি কূপ খনন কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়। নতুন কূপটিতে কত পরিমাণ গ্যাসের মজুত রয়েছে তা আগামী ৭২ ঘণ্টায় জানা যাবে।

ইত্তেফাক/ইআ