শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২১ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

অবৈধ হাউজিং অনুমোদন ছাড়াই কেটে নিল ২৩টি শতবর্ষী গাছ

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২৩, ০৫:৫৯

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার বাস্তা ও কোনাখোলা এলাকায় রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই দেওশুর খাল ও কলাতিয়া খাল ভরাট করে শরীফ হাউজিং প্রকল্প নামে একটি আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলা হয়েছে। এতেই ক্ষান্ত নয়, তারা শতবর্ষী ফলের গাছ কেটে পরিবেশ ধ্বংস করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বন বিভাগ গতকাল বুধবার কাটা গাছ জব্দ করেছে। এলাকাবাসীর একাধিকবার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ গত ২৩ আগস্ট থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সশরীরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। হাউজিংয়ের দখল থেকে খাল দুটি উদ্ধার ও পরিবেশ রক্ষায় পরিবেশ অধিদপ্তর কর্মকর্তাসহ স্থানীয় প্রশাসন অবৈধ এ আবাসন প্রকল্পকে চার দফা নোটিশ দেয়। তা সত্ত্বেও তারা খালের শেষ অংশে আরো বালি ভরাট অব্যাহত রাখায় নদী কমিশনের চেয়ারম্যান তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। 

এর রেশ কাটতে না কাটতেই বন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি না নিয়ে প্রচলিত আইন উপেক্ষা করে শনিবার থেকে গতকাল বুধবার সকাল পর্যন্ত ১২টি শতবর্ষী নারিকেল গাছ ও বিভিন্ন প্রজাতির ১১টি ফলের গাছ কেটে ফেলেছে শরীফ হাউজিং। ফলে স্থানীয় পরিবেশবাদীরা ফুঁসে উঠেছেন। জাতীয় পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন কমিটির (পবার) অন্যতম সদস্য অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জান রুবেল জানান, যে কেউ অবৈধভাবে এতগুলো ফলের গাছ কেটে ফেলতে পারে না। তিনি বলেন, রাজউক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই কেরানীগঞ্জে প্রায় ৮০টি অবৈধ হাউজিং কোম্পানি গড়ে উঠেছে। তারা হাউজিংয়ের নামে কৃষকের ফসলি জমি জোর করে বালি ভরাট করে জমি বিক্রি করতে বাধ্য করছে। কোনো কৃষক তাদের বিরুদ্ধে কথা বললে বা জমি বিক্রিতে রাজি না হলে তাদের ওপর নির্যাতন চালানোসহ আদালতে বিভিন্ন মামলা দিয়ে হায়রানি করে আসছে। কয়েক বছর আগে শরীফ হাউজিং কৃষিজমি বালি ভরাট করে দখলের চেষ্টা করলে অজিত করাতি নামে এক ব্যক্তি বাধা দিলে সন্ত্রাসীরা তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে।

এ ব্যাপার কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এলাকার একাধিক ভুক্তভোগীর দাবি, শরীফ হাউজিংয়ের কাছে জমি বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় আতাশুর, গদাবাগ, বাস্তা, দেওশুর, নেকরোজবাগ ও কোনাখোলাসহ আট গ্রামের প্রায় ৫০ জনকে বিভিন্ন সময় মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে একাধিক মামলা দিয়ে হয়রানি করে তাদের জমি বিক্রি করতে বাধ্য করা হয়েছে। শতবর্ষী ২৩ ফলের গাছ অবৈধভাবে কেটে ফেলার বিষয়ে শরীফ হাউজিং কোম্পানির ম্যানেজার আলাউদ্দিন জানান, বালি ভরাট চলছে। হাউজিংয়ের প্লট বিক্রির জন্য কোম্পানির পরিচালক রজ্জব শরীফের নির্দেশ গাছগুলো কাটা হয়েছে।

একই বিষয়ে গতকাল বুধবার কেরানীগঞ্জ উপজেলা বন কর্মকর্তা রবিউল তার নিজ কার্যালয় জানান, গাছ কাটার জন্য তাদের দপ্তরের কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি। খবর পেয়ে গতকাল কাটা গাছ জব্দ করেন এ বন কর্মকর্তা। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফয়সাল বিন করীমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ইতিমধ্যেই বন কর্মকর্তার মাধ্যমে গাছ জব্দ করা হয়েছে। শরীফ হাউজিং ফলের গাছ কাটার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেয়নি। উপজেলা প্রশাসনের জরুরি বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা করে শরীফ হাউজিংয়ের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবী ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের দাবি, অবিলম্বে রাজউক ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে অবৈধ হাউজিংগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে দখল হওয়া খাল উদ্ধার করা হোক।

 

ইত্তেফাক/ইআ