রিয়াদ হোসেন
বিক্রির হিসাবে স্বচ্ছতা আনার মাধ্যমে ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) ফাঁকি বন্ধ করার লক্ষ্যে ২৫ ধরনের ব্যবসায়ে বিশেষায়িত ইলেক্ট্রনিক হিসাবযন্ত্র বসবে। এর আগে ১১ ধরনের ব্যবসায়ে ইসিআর (ইলেক্ট্রনিক ক্যাশ রেজিস্ট্রার) মেশিন ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হলেও ওই উদ্যোগে তেমন সুফল মেলেনি। এবার আরো বিস্তৃত পরিসরে ইএফডি মেশিন বসানো হচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে প্রায় এক লাখ ইএফডি মেশিন এনবিআর থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরবরাহ করা হবে। বিক্রির তথ্য ইএফডিতে সংরক্ষণ করলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এনবিআরে রক্ষিত কেন্দ্রীয় সার্ভারে সংযুক্ত হবে। ফলে বিক্রীত পণ্যের ভ্যাট এনবিআর জানতে পারবে। ইএফডিতে বিক্রির তথ্য দেওয়ার পর ভ্যাট ফাঁকি দেওয়া সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন এনবিআরের ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তারা। বাজেটে ২৫টি খাতের ব্যবসায়ে ইএফডি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
যে ২৫ ধরনের ব্যবসায়ে ইএফডি ব্যবহার বাধ্যতামূলক সেগুলো হলো— আবাসিক হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ফাস্টফুডের দোকান, ডেকোরেটর ও ক্যাটারিং সেবা প্রদানকারী, মোটরগাড়ির গ্যারেজ, ওয়ার্কশপ, ডকইয়ার্ড, বিজ্ঞাপনী সংস্থা, ছাপাখানা ও বাঁধাই সংস্থা, কমিউনিটি সেন্টার, মিষ্টির দোকান, স্বর্ণকার, রৌপ্যকার এবং স্বর্ণ পাকাকারী, আসবাবপত্রের বিক্রয়কেন্দ্র, কুরিয়ার ও এক্সপ্রেস মেইল সার্ভিস, বিউটি পার্লার, হেলথ ক্লাব ও ফিটনেস সেন্টার, কোচিং সেন্টার, সামাজিক ও খেলাধুলা বিষয়ক ক্লাব, গার্মেন্টস পণ্য বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান, ইলেকট্রনিক বা ইলেকট্রিক্যাল গৃহস্থালি সামগ্রীর বিক্রয়কেন্দ্র, শপিং সেন্টার, শপিংমল, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, জেনারেল স্টোর, সুপারশপ, অন্যান্য বড় ও মাঝারি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, যান্ত্রিক লন্ড্রি, সিনেমা হল, সিকিউরিটি সার্ভিস। এর বাইরে এনবিআরের কমিশনার কর্তৃক যে কোনো প্রতিষ্ঠান ইএফডি’র আওতায় আসবে। এই আওতা যে কোনো ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হতে পারে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর মাধ্যমে ২৫টি খাতের বাইরে অন্য যে কোনো খাতের যে কোনো এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও ইএফডির আওতাভুক্ত হতে পারে। ফলে ইএফডি ব্যবহারের আওতা অনেক বিস্তৃত হবে।
ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, এতে হয়রানির শিকার হতে পারেন ব্যবসায়ীরা। কেননা এনবিআর কর্মকর্তারা তাদের ইচ্ছামতো যে কোনো প্রতিষ্ঠানকে ইএফডি ব্যবহারের বাধ্যবাধকতায় নিয়ে আসতে পারে। আইনেই তাদের সেই ক্ষমতা দেওয়া আছে। এর ফলে মাঠ পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে। ব্যবসায়ীরা সহজে এটি গ্রহণ করতে নাও চাইতে পারেন। ব্যবসায়ী নেতা এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক ইত্তেফাককে বলেন, এর ফলে অনেক ঝামেলা হবে। অন্যায়, অবিচার হবে। দুর্নীতিও হবে।
ইএফডি ব্যবস্থাটি শেষ সফল হয় কি না তা নিয়ে এনবিআরের মধ্যেও অনিশ্চয়তা রয়েছে। গত রবিবার রাজধানীর কাওরানবাজারে হিসাববিদদের সংগঠন আইসিএবি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া বলেন, ব্যবসায়ীরা স্বেচ্ছায় ইএফডি গ্রহণ করতে না চাইলে সেক্ষেত্রে হিসাববিদদের সহযোগিতা চাই।
তবে ইএফডি স্থাপন হলেই যে হিসাবে স্বচ্ছতা আসবে তারও নিশ্চয়তা নেই। ক্রেতা বিক্রেতার যোগসাজশে যদি বিক্রির তথ্য ইএফডিতে দেওয়া না হয়, তবে ওই ভ্যাট এনবিআর পাবে না। সেক্ষেত্রে প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নজরদারি করা কার্যত এনবিআরের পক্ষে সম্ভব নাও হতে পারে।
