কুবিতে সাবেক ছাত্রদের হলে ওঠার চেষ্টা, ছাত্রলীগের বাধা

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২৩, ১৭:৪৩

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের পদবি ব্যবহার করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে ওঠার চেষ্টা করেছেন সাবেক কয়েকজন ছাত্র। তবে তাদেরকে অছাত্র দাবি করে হলে ওঠতে বাধা দিয়েছেন শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সোমবার (৩০ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজা-ই-এলাহী সমর্থিত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্বজন বরণ বিশ্বাস, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আমিনুর বিশ্বাস, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও খালেদ সাইফুল্লাহ (কুবি সাবেক ছাত্র) হত্যা মামলার প্রধান আসামি বিপ্লব চন্দ্র দাস, সাবেক ছাত্র মাহী হাসনাইন ও ইকবাল খানসহ বেশ কয়েকজন হলে ওঠার চেষ্টা করেন। এদের মধ্যে আমিনুর ছাড়া সকলেরই ছাত্রত্ব শেষ। তারা হলে ওঠতে গেলে তাদেরকে বাধা দেন হল ছাত্রলীগের নেতকর্মীরা। এ সময় হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে স্বজন বরণ বিশ্বাস বলেন, আমার এক ছোট ভাইকে হলে উঠাতে গিয়েছিলাম। তারা আমাদেরকে কোনো কারণ ছাড়াই বাধা দিয়েছে। তবে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নাম ব্যবহার ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন অছাত্ররা। তাদেরকে বাধা দেওয়ার বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, এখানে হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ কয়েকজন অছাত্র এসে হলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নিরাপত্তা শঙ্কায় ভোগায় তাদেরকে প্রতিহত করতে গেছে। তারাই কয়েক মাস আগে বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে ককটেল ও ফাঁকাগুলির বিস্ফোরণ ঘটিয়ে গেছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ ড. মোকাদ্দেস-উল-ইসলাম বিদ্যুৎ বলেন, আমরা হলের সকল প্রক্রিয়া মেনেই শিক্ষার্থী তুলব। যারা হলে উঠতে চেয়েছে, তারা হল প্রশাসন থেকে অনুমতি নেয়নি। আগামীকাল বিষয়টি নিয়ে আমরা আলোচনা করবো।

এদিকে উভয় পক্ষের হাতাহাতি থামাতে গেলে সহকারী প্রক্টর অমিত দত্তের সঙ্গেও বাগবিতন্ডা হয় শাখা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের। এসময় শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের সাধারণ সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালমান চৌধুরীসহ কয়েকজন তার সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করেন। এ বিষয়ে অমিত দত্ত জানান, আমাদের কাজ শৃঙ্খলার বিষয়টা দেখা। ঘটনা জানার পর উভয় পক্ষকে নিবৃত্ত করতে পুরো প্রক্টরিয়াল বডি সেখানে উপস্থিত হয়। এক পর্যায়ে তারা (ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা) আমার ওপর চড়াও হয়।

ইত্তেফাক/এআই