জান-ই-আলম
বাংলাদেশের ক্রিকেটে ‘রেকর্ডের বরপুত্র’ সাকিব আল হাসান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মঞ্চে ক্রমাগত নিজেকে গগনচুম্বী উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন এই অলরাউন্ডার। তাঁর হাত ধরে বাংলাদেশের সাফল্যের রথও নতুন দিগন্তের সন্ধান পাচ্ছে। চলমান বিশ্বকাপে ঈর্ষণীয় ফর্মে আছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।
বিশ্বকাপে চার ম্যাচে দুই সেঞ্চুরি, দুই হাফ সেঞ্চুরিতে ১২৮.০০ গড়ে ৩৮৪ রান করেছেন সাকিব। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক এখন তিনি (গতকাল পর্যন্ত)। বল হাতেও আছে পাঁচ উইকেট। টুর্নামেন্ট সেরা হওয়ার দৌড়ে অগ্রণী ধরা হচ্ছে তাঁকে। টানা পাঁচ ওয়ানডেতে পঞ্চাশের বেশি রান করার গৌরবও তাঁর পায়ে লুটোপুটি খাচ্ছে।
যেন স্বপ্ন, বিস্ময়কে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা এই ক্রিকেটার। গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামের জিমে সাইক্লিংয়ে ব্যস্ত বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার ইমরুল কায়েস বলছেন, বন্ধুর এই পারফরম্যান্সে বিন্দুমাত্রও বিস্মিত নন। একই সুর মুমিনুল হকের কণ্ঠেও। তিনি বললেন, ব্যাট হাতে সাকিবের এই ধারাবাহিকতা একটুও অবাক করেনি তাঁকে।
তাঁদের দুজনের চোখেই, দেশের আগামী প্রজন্মের ক্রিকেটারদের সামনে জীবন্ত ‘রোল মডেল’ এই বাঁহাতি অলরাউন্ডার। তবে অভিজ্ঞ আব্দুর রাজ্জাক আইসিসির কলামে বলেছেন, ২২ গজে অনুজ সাকিবের এমন রূপ আগে দেখেননি।
সাকিব বলেছিলেন, সেরা প্রস্তুতি নিয়েই বিশ্বকাপে যাচ্ছেন। টুর্নামেন্টে তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে রান মেশিন হিসেবেই ধরা দিচ্ছেন এই বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান। ইংল্যান্ডের পর গত সোমবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও ম্যাচজয়ী সেঞ্চুরি করেছেন। তার অপরাজিত ১২৪ রান ও লিটন দাসের অপরাজিত ৯৪ রানেই উইন্ডিজদের ৩২২ রানের বিশাল টার্গেটকে এক ফুত্কারে উড়িয়ে দিয়ে ৭ উইকেটে জিতেছিল বাংলাদেশ।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০ বছর কাটিয়ে দিয়েছেন ইমরুল। সাকিবের সতীর্থ, বন্ধু, ব্যাবসায়িক পার্টনারও তিনি। গতকাল বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান বলছিলেন, ‘অনেকে হয়তো অবাক হতে পারে, আমি একটুও অবাক হচ্ছি না। সাকিব আল হাসান কী ধরনের খেলোয়াড়, এটা আমাদের দেশের মানুষ নাও বোঝে, আমরা যারা ক্রিকেট খেলি, তারা বুঝি।’
মুমিনুল অবশ্য অগ্রজ সাকিবের কাছে এমন পারফরম্যান্স আরো আগে থেকেই আশা করেছিলেন। গতকাল বলেছেন, ‘আমি এই পারফরম্যান্সে খুব বেশি অবাক নই। কারণ এই পারফরম্যান্স উনার থেকে আসার কথা ছিল আজ থেকেও তিন-চার বছর আগে। উনি যে ধরনের খেলোয়াড়, উনি এ ধরনের পারফরম্যান্স ডিজার্ভ করেন।’ এই বাঁহাতির মতে, সাকিব-তামিমরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোহলি-রুটদের মতোই বিশ্বের টপ পারফরমার হওয়ার যোগ্যতা রাখেন।
ইমরুলের মতে, রোল মডেল ক্রিকেটার খুঁজতে আগামী প্রজন্মকে এখন আর দেশের বাইরে তাকাতে হবে না। তিনি বলেছেন, ‘এটা খুবই সত্য কথা যে, আমরা একসময় বাইরের দেশের ক্রিকেটারদের অনুসরণ করতাম। যেমন শচীন টেন্ডুলকার, সৌরভ গাঙ্গুলি, কুমার সাঙ্গাকারার মতো ব্যাটসম্যানদের। এখন যারা আমাদের দেশের উঠতি ক্রিকেটার, তারা রোল মডেল হিসেবে সাকিবকে অনুসরণ করবে। নতুন প্রজন্মের জন্য রোল মডেল বলেন, প্রেরণা বলেন, আমার মনে হয় তাদের সামনে আদর্শ উদাহরণ সাকিব আল হাসান।’
শচীন টেন্ডুলকারে দেখে যেমন ভারতে তৈরি হয়েছে বিরাট কোহলি। সাকিবকে দেখেও ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আরো বড় ক্রিকেটার আসবে বলে আশা করছেন মুমিনুল। তিনি বলেন, ‘ভারতে শচীন টেন্ডুলকারকে দেখে অনেক ক্রিকেটার বের হয়েছে, বিশেষ করে ব্যাটসম্যান। লিজেন্ড প্লেয়ার দেখে কিন্তু দেশের ক্রিকেট উন্নতি করে। শচীনকে দেখে কোহলি বের হয়েছে। হয়তো দেখবেন সাকিব ভাইকে দেখে উনার চেয়ে বড় ক্রিকেটারও আসতে পারে বাংলাদেশে।’
আইসিসির কলামে বাঁহাতি স্পিনার রাজ্জাক লিখেছেন, ‘আমি কখনোই তাকে এমনভাবে খেলতে দেখিনি, যে ধারাবাহিকতা সে দেখাচ্ছে এটা অসাধারণ। অনেক বছর আমি তার সাথে খেলেছি, কিন্তু এখন সে ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে আছে।’
