সে অনুযায়ী প্রস্তুতি জরুরি

আপডেট : ১৮ জুন ২০১৯, ২১:৫৯

সংলাপ অনুষ্ঠানে বক্তারা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

সব ধর্মেরই মূলমন্ত্র শান্তি, সহিষ্ণুতা, সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণ। যারা ধর্মীয় পরিচয়ে সহিংস উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে তাদের প্রতিরোধে ধর্মের সঠিক ব্যাখ্যা সবক্ষেত্রে প্রচার করতে হবে। আর জঙ্গিবাদের দায় শুধু ধর্মের উপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। এটার পিছনে ভূরাজনীতির প্রভাব রয়েছে। বড় বড় গোষ্ঠীর ব্যবসাও রয়েছে এর সঙ্গে জড়িত। জঙ্গিবাদের ধরনও প্রতিনিয়ত পাল্টাচ্ছে। সে অনুযায়ী দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে হবে। সচেতন করতে হবে নাগরিকদেরকেও।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি সংলাপে বক্তারা এ কথা বলেন। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে পুলিশের এন্টি টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান এডিশনাল আইজি মোহাম্মদ আবুল কাশেম বলেন, জঙ্গিবাদ পিছনে ব্যবসাও জড়িত। এসব নিয়ে ব্র্যান্ডিং করতে পারলেই তাদের ব্যবসা ভালো হয়। বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সহিংস উগ্রবাদ দমনে প্রস্তুত। জঙ্গিবাদ দমনে আমরা আত্মবিশ্বাসী হলেও এ নিয়ে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। ভবিষ্যতে আমাদের সাইবার হামলা মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে। ডিজিটাল বোমা হামলারও আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আরো বলেন, কোনো ধর্মেই মানুষকে হত্যা করার বিধান নাই। তবে মানুষ বঞ্চিত হলে বা আয় উপার্জন না থাকলে ক্ষোভ থেকে সন্ত্রাস তৈরি হতে পারে। অনেকে না বুঝে জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত হচ্ছে। ইসলাম কখনো সন্ত্রাসকে সমর্থন করে না। একইভাবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মই শান্তির কথা বলে। নিজের ধর্মের প্রতি আস্থা রেখেও অন্যের ধর্মকে শ্রদ্ধা জানানো যায়।

অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে ১০ দফা সুপারিশ বাস্তবায়নের আহবান জানান ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- জুম্মার নামাজের খুতবায় জঙ্গিবাদ বিরোধী বয়ানের পাশাপাশি মন্দির, গীর্জা ও প্যাগোডায় ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সময়ও জঙ্গিবাদের বিপক্ষে বক্তব্য তুলে ধরা; মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যপুস্তকে সহিংস-উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধকল্পে বিভিন্ন ধরনের উদ্দীপনা ও শিক্ষামূলক নিবন্ধ, কবিতা, ছড়া আরো বেশি অন্তর্ভুক্ত করা; বিভিন্ন গোষ্ঠীর ধর্মীয় নেতা ও নেতৃত্বের অংশগ্রহণে রাষ্ট্রীয়ভাবে আন্তঃধর্মীয় সংলাপের আয়োজন করা; সকল রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সহিংস উগ্রবাদ মোকাবিলায় কাজ করতে সরকারের উদ্যোগ; সবক্ষেত্রে দৃশ্যমান সব ধরনের সামাজিক বঞ্চনা ও বৈষম্য কমিয়ে আনা এবং সকল স্তরে সুশাসন জোরদার করা।

ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশনের চেয়ারম্যান ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিনের সঞ্চালনায় সংলাপে অংশগ্রহণ করেন কোরআনের আলো ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জী, প্রণব মঠের অধ্যক্ষ সঙ্গীতানন্দজী মহারাজ, বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশনের নির্বাহী সভাপতি অশোক বড়ুয়া, আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারের উপাধ্যক্ষ ভিক্ষু সুনন্দ প্রিয়, খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের মহাসচিব উইলিয়াম প্রলয় সমাদ্দার, বাংলাদেশ পোষ্টের সম্পাদক শরিফ শাহাবউদ্দিন, দৈনিক সমকালের উপ-সম্পাদক অজয় দাস গুপ্ত, ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবুল খায়ের, একাত্তর টেলিভিশনের হেড অব নিউজ শাকিল আহমেদ, ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির সহযোগী অধ্যাপক মোখতার আহমাদ, গ্রীন হেরাল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক ম্যালকম ম্যান্ডেজ।