ভূমিকম্প মোকাবিলায় এখনই সচেতন হওয়া প্রয়োজন

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৪:০৫

ভূ-অভ্যন্তরে প্রাকৃতিক শক্তির মাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি হলে ভূপৃষ্ঠে যে কম্পনের সৃষ্টি হয় তাকে ভূমিকম্প বলে। ভূমিকম্প একধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এর কোনো ভালো দিক নেই। পৃথিবী পৃষ্ঠের ভূমিরূপ পরিবর্তনের আকস্মিক কারণ হচ্ছে ‘ভূমিকম্প’। আমরা আজকে পৃথিবীর যে রূপ দেখছি, তা পৃথিবীর পরিবর্তিত রূপ। ভবিষ্যতেও আজকের এই রূপ থাকবে না। এটাই প্রকৃতির নিয়ম। আজকে যেখানে সাহারা মরুভূমি, সেখানটা একসময় সবুজ ঘন অরণ্য দ্বারা আবৃত ছিল। আজকে যেখানে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত মালা হিমালয় অবস্থিত, সেখানে কোটি কোটি বছর পূর্বে টেথিস নামক সাগর ছিল। এই রকম সব পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে। আর বিভিন্ন সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগও আঘাত হানছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হচ্ছে ভূমিকম্প।

বিজ্ঞানের এই উৎকর্ষতার সময়ে এসেও ভূমিকম্প হওয়ার কোনো লক্ষ্মণ বা পূর্বাভাস এখন পর্যন্ত পাওয়া সম্ভব হয়নি। এই কারণে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতিও বেশি। কোনো একটি অঞ্চলে যখন বড় মাত্রার ভূমিকম্প হয়, তার আগে ছোট আকৃতির ভূকম্পন হতে থাকে একটু পর পর—এটা অভিজ্ঞতালব্ধ তথ্য।

যা হোক, বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের দেশ। দক্ষিণে সমুদ্র ও উত্তরে হিমালয় পর্বত অবস্থিত হওয়ায় এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্লেটের গতির কারণে বাংলাদেশে যে কোনো সময় বড় মাপের ভূমিকম্প হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘটিত ভূমিকম্প পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ভূমিকম্পের পূর্বাভাস না থাকায় ক্ষয়ক্ষতি যা হওয়ার হয় যায় এবং তা মেনে না নেওয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় থাকে না। উন্নত দেশগুলো উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম হয়তো দ্রুত করতে পারে কিন্তু ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে যায় আগেই। এখন কথা হলো, আমাদের বাংলাদেশ ভূমিকম্প মোকাবিলায় কতটা প্রস্তুত?

বাংলাদেশে অনেক দিন থেকেই ছোট আকৃতির ভূমিকম্প হয়ে আসছে। বিশেষজ্ঞরাও বারবার বলছেন, ‘যে কোনো সময় বাংলাদেশে বড় মাপের ভূমিকম্প হতে পারে।’ এর ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রধান শহরগুলো এবং শহরে গড়ে উঠা অপরিকল্পিত বাড়িঘর। এতে যে সম্পদ ও জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে, তা বলাই বাহুল্য। এর কারণ হলো, পুরোনো বাড়িঘর, অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা স্থাপনা, বিল্ডিং কোড না মানা, ভূমিকম্প নিরোধক ব্যবস্থা না রাখা, অপ্রশস্ত রাস্তা ইত্যাদি।

বাংলাদেশ ভূমিকম্প মোকাবিলায় একেবারেই সক্ষম নয়। ভূমিকম্প হলে ঢাকা শহর ধ্বংসস্তূপ ও মৃত্যুর নগরীতে পরিণত হবে। ধারণা করা হয়, ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলেই ঢাকা শহরের প্রায় অর্ধেক বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে যাবে এবং ১০ থেকে ২০ লাখ লোকের প্রাণহানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাদ যাবে না অন্য শহরগুলোও। পুরো দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সুতরাং, ভূমিকম্প মোকাবিলায় সচেতনতা প্রয়োজন। একমাত্র ঢাকার শহরেই যে পরিমাণ অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা রয়েছে এবং যে পরিমাণে ঝুঁকিপূর্ণ ও পুরোনো বাড়িঘর রয়েছে, তা আগেভাগে সরানো প্রয়োজন। ঢাকা শহরের ভূ-অভ্যন্তরের পানির স্তর অনেক নিচে নেমে গেছে। বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করে পানি উত্তোলন বন্ধ করা প্রয়োজন। শহরের রাস্তাগুলো প্রশস্ত হওয়া প্রয়োজন। ভূমিকম্প মোকাবিলায় উদ্ধার কাজে দক্ষ ও চৌকশ বাহিনী গড়ে তোলা প্রয়োজন। এসব করা গেলে হয়তো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা হলেও কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।

শ্রীপুর, গাজীপুর

ইত্তেফাক/এমএএম