পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কা কতটা?

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৬:১৫

গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এরপর আজ শনিবার পর্যন্ত টানা ১১ মাসের বেশি সময় ধরে চলছে দেশ দুইটির সংঘাত। খবর বিবিসির। 

অনেক বিশ্লেষকই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ইউক্রেনকে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো ট্যাংক দিলে উত্তেজনা বেড়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বেধে যেতে পারে বা রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্র প্রয়োগ করতে পারে। এখন এর সঙ্গে যুদ্ধবিমান যোগ হলে কী হতে পারে?

সমর-বিশেষজ্ঞ এবং কুয়ালালামপুরের মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৈয়দ মাহমুদ আলি বিবিসিকে বলছেন, ন্যাটো কখনোই চাইবে না রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে। যা হবে "ভয়াবহ বিপজ্জনক"। তাই সেটা এড়িয়ে যাবার জন্য দুপক্ষই চেষ্টা করবে। 

তিনি আরও বলেছেন, রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি কয়েকবারই দিয়েছে কিন্তু তেমন কিছু করেনি, ফলে পশ্চিমা নেতারা সম্ভবত একে তেমন বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করছেন না। কিন্তু এধরনের একটা হুমকি রয়ে গেছে।

"আমরা দেখছি যে পর্যায়ক্রমে ইউক্রেনকে দেয়া সাহায্যের পরিমাণ এবং গুণগত মান বেড়ে চলেছে। এখন ইউক্রেন যদি এফ-সিক্সটিন বিমান পায় এবং ইউক্রেন যদি সেগুলো দিয়ে রুশ নিয়ন্ত্রিত বা রুশ দাবিকৃত এলাকার ওপর হামলা চালায় তাহলে রাশিয়া হয়তো একধাপ এগিয়ে যাবে এমন আশংকা উড়িয়ে দেয়া যায়না," বলছেন সৈয়দ মাহমুদ আলি।

রুশ বিশ্লেষক স্টিফেন ডিয়েল বলেন, পারমাণবিক যুদ্ধের চিন্তা একেবারে বাদ দেয়া যায় না, তবে রাশিয়া ন্যাটোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারে এমন সম্ভাবনা এক বছর আগের তুলনায় কমে গেছে।

"রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্রের হুমকি দিচ্ছে ঠিকই - কিন্তু এটা হয়তো একটা ধাপ্পা। কারণ তারা ভালো করেই জানে যে তারা ইউক্রেনে একটি পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়লে পশ্চিমা বিশ্বও পাল্টা আঘাত করতে পারে।" 

ডিয়েল বলছেন, রুশ বাহিনীকে যদি ইউক্রেন থেকে পশ্চাদপসরণ করতে হয় - তাহলে রাশিয়া এরকম কোন আক্রমণ করার মত অবস্থানে থাকবে না।

"প্রকৃতপক্ষে পুতিন যদি একটা যুদ্ধ শুরু করে তা জিততে না পারেন এবং রুশ বাহিনীকে যদি ইউক্রেন ছেড়ে বেরিয়ে আসতে হয়, তাহলে রাশিয়ার ভেতরে গণঅসন্তোষ এবং ক্রেমলিনের ভেতরে দ্বন্দ্ব তৈরি হবে। তখন রাশিয়া আর পশ্চিমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার অবস্থায় থাকবে না," তিনি বলেন।

ইত্তেফাক/এফএস