ভবিষ্যত্ প্রজন্মকে বাঁচাতে বিশেষ ক্ষমতা আইনে ব্যবস্থা নিন :হাইকোট

আপডেট : ১৮ জুন ২০১৯, ২২:৩১

আমসহ মৌসুমি ফলে ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, দেশে খাদ্যপণ্যে ভেজাল ও ক্ষতিকর কেমিক্যালের ব্যবহার বাড়ছে। এটা এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে যে এদেশে এখন বেঁচে থাকাটাই দুরূহ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার অপরাধ জেনেও ব্যবসায়ীরা তা করছেন। এতে জনসাধারণ নানা জটিল রোগে ভুগছেন। তাই ভবিষ্যত্ প্রজন্মকে রক্ষা করতেই এদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে ব্যবস্থা নিতে হবে। নমনীয়তা দেখানোর কোনো সুযোগ নেই। বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান   ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এ মন্তব্য করেন।

এর আগে আমসহ মৌসুমি ফলে ক্ষতিকর কেমিক্যাল ও ফরমালিনের ব্যবহার রোধে বিএসটিআইয়ের নেওয়া পদক্ষেপ আদালতে তুলে ধরেন আইনজীবী সরকার এম আর হাসান। এ পর্যায়ে আদালত বলেন, আপনারা যদি সঠিকভাবে কাজ করতেন তাহলে পরিস্থিতি এ পর্যায়ে যেত না। একদিন অভিযান পরিচালনা করে আদালতে প্রতিবেদন দিলে সেটা হবে আইওয়াশ। পেপারওয়ার্ক করলে চলবে না, অভিযান দৃশ্যমান হতে হবে। মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার দেশ থেকে পাঁচার হয়ে যাচ্ছে, আর সেখানে তিন কোটি টাকার জন্য আধুনিক মেশিন ক্রয় করতে বিলম্ব হচ্ছে তা হতে পারে না। আগে জনগণকে তো বাঁচাতে হবে।

এ পর্যায়ে বিএসটিআইয়ের আইনজীবী বলেন, মৌসুমি ফলের ২৬৫টি নমুনা পরীক্ষা করে কোনো ফরমালিন পাওয়া যায়নি। তবে যেসব অপরিপক্ব আমে কেমিক্যাল ব্যবহার করে পাকানো হয়েছে তা ধ্বংস করা হয়েছে। আদালত বলেন, চার বছর আগে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট। আর এখন কেমিক্যালের ব্যবহার রোধে কাউন্সেলিং করছেন, এতদিন আপনারা কেন বসে ছিলেন? রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী যদি বিএসটিআই পদক্ষেপ না নেয় তাহলে আদালত অবমাননার আবেদন করব। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার মৌসুমি ফলে কেমিক্যালের ব্যবহার রোধে র্যাব ও পুলিশের পক্ষ থেকে যেসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে তা এফিডেভিট আকারে আদালতকে অবহিত করেন। পরে আদালত এ বিষয়ে রবিবার শুনানির জন্য দিন ধার্য রাখেন।

আমসহ মৌসুমি ফল পাকানোয় ক্ষতিকর কেমিক্যাল এর ব্যবহার রোধে হাইকোর্টে আবেদন করেন হিউম্যান রাইটস এন্ড পীস ফর বাংলাদেশের পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। ঐ আবেদনের উপর শুনানি নিয়ে গত ২০ মে হাইকোর্ট আমসহ অন্যান্য ফল পাকানো বা সংরক্ষণে ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার রোধে এক সপ্তাহের মধ্যে পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়। গঠিত কমিটিকে দেশের সকল ফলের বাজার ও আড়তে এ বিষয়ে নজরদারি করতে বলা হয়েছিল।