বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

ছাত্রলীগের বেপরোয়া আচরণের শিকার শিক্ষকরাও

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৮:২০

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের আচরণ ক্রমশ বেপরোয়া হয়ে উঠছে। লাগামহীনভাবে চলছে শিক্ষার্থী নির্যাতন, হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাঁদাবাজি ও আবাসিক শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক হল থেকে বের করে দেওয়ার মতো ঘটনা। ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীকে শিবির ট্যাগ দিয়ে মারধর এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। এমনকি ছাত্রলীগের এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ থেকে বাদ যাচ্ছে না হল প্রাধ্যক্ষসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

ছাত্রলীগের এসব কর্মকাণ্ডে গত একবছরে অন্তত ৪২টি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। এছাড়াও প্রশাসন বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয়নি এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা রয়েছে শতাধিক। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে ১৩টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে ৬টির। এসব ঘটনায় ছাত্রলীগের কাউকে শাস্তির আওতায় আনতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মনে করছেন, এসব ঘটনায় শাস্তি না হওয়ায় ছাত্রলীগের দৌরাত্ম্য কমছে না।

সর্বশেষ ১২ ফেব্রুয়ারি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে এক সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীকে শিবির ট্যাগ দিয়ে কক্ষে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে হল ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী কৃষ্ণ রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ও হল প্রাধ্যক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ছাত্র।

এর আগে ১১ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের নবীনবরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানে চেয়ার ভাঙচুরের অভিযোগ আছে ছাত্রলীগের দুই নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পালানোর চেষ্টাকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের উপ আইন সম্পাদক সৌমিক ও ছাত্রলীগ কর্মী আতিককে আটক করে বিভাগের অফিসে নিয়ে যায় প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য। পরে প্রক্টরিয়াল সন্ধ্যায় জোরপূর্বক শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ করে ছাত্রলীগের সভাপতি ওই দুইজনকে নিয়ে যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, করোনার পর অন্তত ২৩ ঘটনায় অধিকাংশ শিক্ষার্থী হল প্রাধ্যক্ষ, প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। 

সূত্র বলছে, এসব ঘটনায় ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণও পাওয়া গেছে। তবে একটি ঘটনায়ও ছাত্রলীগের কাউকে শাস্তির আওতায় আনতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, ছাত্রলীগের এ বিষয়গুলো নিয়ে আমরাও ভাবছি। তাদের এমন ন্যক্কারজনক কর্মকাণ্ডে আমরা অসহায় অনুভব করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় ছাত্রলীগের এমন কর্মকাণ্ড হতাশাজনক। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। যে কারণে আরও বেপরোয়া হচ্ছে তারা। প্রশাসন কঠোর অবস্থানে না গিয়ে ছাত্রলীগের মাথায় হাত বুলিয়ে চলছে। কোনো অপকর্মের পদক্ষেপ তারা নিচ্ছে না। সামনে আরও বড় ধরনের ঘটনা ঘটবে বলে মনে করেন তিনি।

প্রক্টর আসাবুল হক বলেন, অনেকগুলো ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছেন। সেগুলো শিগগিরই ডিসিপ্লিন কমিটিতে যাবে। এর মধ্যে অনেকেই অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এ ধরনের ঘটনায় শাস্তি হলে হলগুলোতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কমবে।

উপ উপাচার্য ড. মো. সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, এসব বিষয়ে সচেষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ছাত্র নির্যাতন ও শিক্ষক লাঞ্ছিতের প্রতিরোধে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে এ কমিটির সদস্যরা আলোচনায় বসবেন এবং কীভাবে এর প্রতিকার করা যায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। যদি কোনো শিক্ষার্থী অপরাধী হয়ে থাকে তাহলে সে যেই হোক তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তদন্ত অনুযায়ী সত্যতা মিললে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এবি/পিও