সম্প্রতি প্রকাশিত উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফল শুনে উচ্ছ্বাসে উদ্বেল হয়ে পড়ে রাজধানীর সাউথ পয়েন্ট স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীবৃন্দ। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ভাল ফলাফলের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রেখেছে প্রতিষ্ঠানটির উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা।
কলেজটির ৩৩২জন অংশগ্রহণকারীর সকলেই কৃতকার্য হয়। অর্থাৎ শতভাগ পাস। তারমধ্যে জিপিএ-০৫ অর্জন করে ২৩০জন শিক্ষার্থী। সাউথ পয়েন্ট স্কুল এন্ড কলেজের পাশের হার বরাবরই ঈর্ষনীয় বলতে হয়। প্রতি বছরই শতভাগ পাশ। সেই সাথে বছরব্যাপী বৃদ্ধি পাচ্ছে জিপিএ ফাইভ বা এ প্লাসের সংখ্যাও। জিপিএ ফাইভের হার প্রতিবছরই ৮০ থেকে ৯০%।
ভাল ফলাফল অর্জনের প্রতিক্রিয়ায় অধ্যক্ষ কর্নেল মোঃ শামসুল আলম পিএসসি (অব:) বলেন, বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায় ভাল ফলাফল অর্জনের ব্যাপারটিতে গুরুত্বারোপের মাধ্যমেই মূলত: আমাদের ধারাবাহিক এই অর্জন। এতে করে শুধু সনদধারি শিক্ষার্থীই নয়, মেধায় মননে সুযোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠছে তারা। ফলে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষায় আমাদের প্রচুর শিক্ষার্থী চান্স পাচ্ছে।
বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি ভার্সন ও ইংরেজি মাধ্যমের এই প্রতিষ্ঠানটিতে প্লে গ্রুপ থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত পড়ানো হয়। ২০০২ সালে মাত্র ২০০ ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করে এখন প্রায় ২০,০০০ ছাত্র-ছাত্রী এখানে পড়ালেখা করছে। রাজধানীর মোট ৬টি এলাকা- যথাক্রমে মালিবাগ, বারিধারা, বনানী, মিরপুর, উত্তরা ও ধোলাই পাড়ে নিজস্ব স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও বিশেষত্ব নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে অন্যতম দেশ সেরা এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রায় প্রতি বছরই সেরা ফলাফল করছে প্রতিষ্ঠানটি। ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ বরেণ্য শিক্ষাদ্যোক্তা অধ্যক্ষ হামিদা আলী প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হিসেবে এটি পরিচালনা করেন এবং কর্ণফুলী শিপবিল্ডার্সের কর্ণধার বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিল্পপতি প্রকৌশলী এম এ রশিদ এর প্রতিষ্ঠাতা।
২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি এবং উক্ত বছরেই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৯ম স্থান লাভ করে। ২০১৯ এ প্রকাশিত মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলে রাজধানীর ‘সাউথ পয়েন্ট স্কুল এন্ড কলেজ’ বরাবরের মতই ভাল ফলাফল করে।
ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের তথ্য অনুযায়ী সম্মিলিত মেধাতালিকায় ঢাকা মহানগরে শতভাগ পাসের ভিত্তিতে সাউথ পয়েন্টের স্থান ছিল ষষ্ঠ। উক্ত বছর পরীক্ষায় সাউথ পয়েন্টের ৪৫২ জন অংশগ্রহণকারীর সকলেই পাস করে এবং জিপিএ-০৫ পায় ২৯৬ জন। বাংলা মাধ্যমে মোট ২৭৬ জন অংশগ্রহণকারীর সকলেই পাস করে এবং জিপিএ-০৫ পায় ১৫৯ জন। উক্ত বছর ইংরেজি ভার্সনে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৭৬জন, তন্মধ্যে শতভাগ পাসসহ জিপিএ-০৫ পায় ১৩৭ জন শিক্ষার্থী।
অন্যদিকে বারিধারা থেকে ১৩৪ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে জিপিএ-০৫ পায় ১০০জন এবং অবশিষ্ট সকলেই ৪.৫ গ্রেডসহ ‘এ’ পায়। অর্থাৎ জিপিএ-৪.৫ এর নিচে কোন গ্রেড ছিলনা। এই শাখার ইংলিশ ভার্সন ও বিজ্ঞান বিভাগের ফলাফলও রীতিমতো ঈর্ষণীয়ই বলতে হয়। ভার্সনে বিজ্ঞান বিভাগের ৩৬ শিক্ষার্থীর সকলেই জিপিএ-০৫ পায়। এই বিভাগের ১০৬ জন অংশগ্রহণকারীর ৯৫ জনই জিপিএ-০৫ পায় সে বছর।
মালিবাগ শাখার শিক্ষার্থীরাও উক্ত বছর ভাল করেছিল। তাদের ২৪৮ অংশগ্রহণকারীর ১৭৬ জনই জিপিএ-০৫ এবং ইংলিশ ভার্সনে বিজ্ঞান শাখার ৯৭ অংশগ্রহণকারীর ৮৬ জনই জিপিএ-০৫ পায়।
শুধু এসএসসি-এইচএসসিতেই নয়, গুলশান থানায় ৮৫জন বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭৫জনই ছিল সাউথ পয়েন্টের। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে পায় ১৮জন।
