বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

ইরানের পারমাণবিক অস্ত্রধর ঠেকাতে সবকিছু করা হবে : ইসরাইল

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০০:২৯

ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন ঠেকাতে ‘সম্ভাব্য সব কিছু’ করা হবে বলে জানিয়েছে ইসরাইল। তেহরানের অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্রের বিস্তার রোধে আরো পদক্ষেপ নিতে শুক্রবার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিও তারা দাবি জানিয়েছে। ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি পুনরুজ্জীবনে ইরান ও বিশ্বশক্তিগুলোর মধ্যে আলোচনা গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকেই থমকে আছে। পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, সব পক্ষ চুক্তি পুনরুজ্জীবনে সমঝোতার খুব কাছাকাছি চলে এলেও ইরান অযৌক্তিক সব দাবি-দাওয়া তুলে ঐ অগ্রগতি ভণ্ডুল করে দিয়েছে। এখন চুক্তি পুনরায় কার্যকরের সম্ভাবনাও দৃশ্যমান নয়, অন্যদিকে ইরানও তার পারমাণবিক কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নিচ্ছে।

মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের সাইডলাইনে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে করা এক অনুষ্ঠানে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়েভ গেলান্ট বলেন, আমরা যখন ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন ঠেকানোর কথা বলি, তখন সম্ভাব্য সব উপায়, আবার বলছি, সম্ভাব্য সব উপায় বিবেচনায় রাখতেই হয়। ইরানের ওপর চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত থাকা নিষেধাজ্ঞায় ক্ষেপণাস্ত্র ও এ সংক্রান্ত প্রযুক্তিসহ অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম কেনাবেচায় বিধিনিষেধ আছে; তা সত্ত্বেও তেহরানের অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র ছড়িয়ে দেওয়ার কার্যক্রম মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও চলে গেছে বলে দাবি ইয়োয়েভের।

বেলারুশ ও ভেনেজুয়েলার নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, ইরান এখন অন্তত ৫০টি দেশের কাছে ড্রোন ও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম যুদ্ধাস্ত্রসহ অত্যাধুনিক নানান অস্ত্রশস্ত্র বিক্রির আলোচনা চালাচ্ছে। মৃতপ্রায় নিষেধাজ্ঞার কার্যকর বিকল্প বের করতে হবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে, যা হবে প্রতিক্রিয়া ও প্রতিরোধের একটি ব্যবহারিক প্রক্রিয়া বলে জানান ইয়োয়েভ।

ইসরাইলের কাছে পারমাণবিক অস্ত্রশস্ত্র আছে বলে ধারণা করা হয়, তবে তারা কখনোই ভান্ডারে এই থাকার কথা স্বীকার বা অস্বীকার কোনোটিই করেনি। ২০১৫ সালের চুক্তিতে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বদলে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি সীমিত পর্যায়ে রাখার শর্ত দেওয়া ছিল। ঐ শর্তের কারণে তেহরানের পক্ষে পারমাণবিক অস্ত্র কঠিন হয়ে পড়ত। ইরান অবশ্য বারবার বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির লক্ষ্য শান্তিপূর্ণ।

তেহরানসহ ইরানের অনেক শহরে গত কয়েক মাস ধরে চলা বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর দমনপীড়ন এবং ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া রাশিয়ার কাছে ড্রোন বিক্রি পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে তেহরানের দূরত্বও বাড়িয়েছে। মস্কোকে ড্রোন সরবরাহ করে তেহরান জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশন লঙ্ঘন করেছে বলে দাবি পশ্চিমা দেশগুলোর। এই ড্রোন সরবরাহকে কেন্দ্র করে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইউক্রেনে ব্যবহৃত ড্রোনের উৎপাদন নিয়ে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী সংশ্লিষ্ট অনেক ব্যক্তিকে সাজাও দিতে যাচ্ছে ইইউ।

 

ইত্তেফাক/ইআ