ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য প্রফেসর ড. শেখ আবদুস সালামের কণ্ঠ সদৃশ নিয়োগ-সংক্রান্ত একাধিক অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ৬ মিনিট ১২ সেকেন্ড, ১ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড ও ২ মিনিট ১৯ সেকেন্ডের ঐ অডিও নিয়ে ক্যাম্পাসে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে চলছে নানা আলোচনা ও সমালোচনা। পৃথক পৃথকভাবে বিবৃতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ও প্রগতিশীল শিক্ষক সংগঠন শাপলা ফোরাম। অডিও ফাঁসের ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গতকাল শনিবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এইচ এম আলী হাসান জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ভিন্ন ভিন্ন সময়ে একাধিক আইডি থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঐ অডিও ক্লিপগুলোর অপর প্রান্তের ব্যক্তি কে ছিলেন বা কী বলেছেন সেটা শোনা না গেলেও উপাচার্য তাকে অলি বলে সম্বোধন করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে এই অলি বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের চাকরিপ্রার্থী ও বর্তমানে ঐ বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক ড. অলিউর রহমান অলি।
অডিওতে উপাচার্যকে গত ২৫ অক্টোবর ঐ বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড স্থগিতের কারণ ব্যাখ্যা ও পরবর্তী নিয়োগ বোর্ডের বিষয়ে আশ্বাস দিতে শোনা গেছে। এ সময় বোর্ডের প্রশ্ন সম্পর্কে ধারণা ও কীভাবে লিখতে হবে সে বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ৩০ দিনের মধ্যে বোর্ডের আয়োজন ও বোর্ড সম্পন্ন করতে টাকা দিয়ে হলেও শিক্ষক পদে তিন জনকে আবেদন করাতে বলা হয়েছে।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ অক্টোবর ঐ বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হয়। এতে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদে আবেদনকারীরা হলেন, ড. মো অলিউর রহমান অলি, মোশারফ হোসেন ও বিউটি মণ্ডল। এ সময় বোর্ডে তিনজন প্রার্থী উপস্থিত না হওয়ায় বোর্ড স্থগিত হয়। পরে গত ২ ডিসেম্বর আবারও পুনর্বিজ্ঞপ্তি দেয় কর্তৃপক্ষ। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড সম্পন্ন হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি প্রেরিত বিবৃতিতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত অডিওতে উপাচার্যের মন্তব্যে সমিতি হতবাক ও বিস্মিত।
এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শেখ আবদুস সালাম দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, হ্যাঁ আমি খণ্ডকালীন শিক্ষক অলিউর রহমানের সঙ্গে কথা বলেছি। কাউকে আবেদন করতে বললেই কি চাকরি দিয়ে দিলাম। প্রশ্ন ফাঁস করেছেন কি না জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত তো পরীক্ষাই হয় নাই। পরীক্ষার প্রশ্ন তো আমরা করি পরীক্ষার দিন ভোরে। প্রশ্ন তো কেউ একা করেন না। পরীক্ষা তো এখনো হয় নাই তাহলে প্রশ্ন দেখাক।
অডিওটি কারা ভাইরাল করতে পারে সেই প্রশ্নে তিনি বলেন, আজকাল যে কীভাবে কী হয়। আমিতো ওতো বেশি টেকনোলজি লিটারেট না। আমি কারোর পক্ষেরও না। সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারব না। কাজটা যারা করেছে আমি তাদের রুচি নিয়ে প্রশ্ন করি।
বঙ্গবন্ধুর নামে জিকির করার বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন, আমি বলেছি, আপনারা বঙ্গবন্ধুর নামে জিকির করেন তাহলে আপনাদের মাঝে এত গ্রুপিং কেন। এক হোন না, এত বিভাজন কেন। এই অর্থে শব্দটি ব্যবহার করেছি।
