মিটার চুরি করে রেখে যায় মোবাইল নম্বর, টাকা দিলে ফেরত

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০১:৫০

প্রথমে মিটার চুরি করে চোর চক্র। পরে চিরকুটে মোবাইল নম্বর লিখে রেখে যায়। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা দাবি করে। চাহিদা মতো টাকা দিলেই মিটার পেয়ে যাচ্ছেন গ্রাহকরা। সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় বৈদ্যুতিক শিল্প মিটার চুরি করে এভাবেই চাঁদা দাবি করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন গ্রাহকরা। 

স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ অফিস জানিয়েছে, উপজেলা জুড়ে তিন ফেজের শিল্প ও সেচের মিটারগুলো চুরি হয়ে যাচ্ছে। বিগত দেড় মাসে ১২টি মিটার খোয়া গেছে। তার আগেও চুরি হয়েছে। জানা গেছে, মিটার চুরি করে ২৫০-৩০০ ফিট দূরত্বে ঝোপঝাড়, খড়ের পালা ও ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ের মধ্যে লুকিয়ে রাখে চোর চক্রের সদস্যরা। পরে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে চাহিদা অনুযায়ী টাকা দিলে মিটারের সন্ধান দেওয়া হয় গ্রাহকদের। অধিকাংশ গ্রাহকের খোয়া যাওয়া মিটার এভাবেই ফেরত পেয়েছেন। 

তাড়াশের মহিষলুটি মৎস্য আড়ত এলাকার আরিফুল ইসলাম নামে একজন গ্রাহক জানান, গত রবিবার তার বরফ মিলের মিটার চুরি হয়ে যায়। মিটার খুলে সেখানে একটি কাগজে মোবাইল ফোন নাম্বার রেখে যায় চোর চক্র। কিন্তু তিনি আশপাশের ঝোপঝাড়ের মধ্যে খোঁজাখুঁজি করে মিটারটি পেয়ে যান।

বারুহাস ইউনিয়নের কাজিপুর গ্রামের মুকুল হোসেন নামে আরেক জন গ্রাহক জানান, বিনসাড়া বাজার এলাকায় তার হাঁসের বাচ্চা ফোটানোর হ্যাচারি রয়েছে। সেখান থেকে মিটার চুরি হয়ে গিয়েছিল। পরে চোরের দেওয়া মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করে ৮ হাজার টাকা দিয়ে মিটার পান।

এ বিষয়ে তাড়াশ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়ে চোর চক্রের দুই সদস্যকে আটক করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ তাড়াশ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার নিরাপদ কুমার দাশ বলেন, রাইস মিলের কাজ না থাকায় মিটার চুরি বেড়ে গেছে। শিল্প মিটার চুরি বন্ধে গ্রাহকদের সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি পুলিশি তৎপরতা আরো জোরদার করতে হবে। চিরকুটে লেখা মোবাইল ফোন নাম্বারগুলো ট্যাকিং করে চোর চক্রের হোতা পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে।

ইত্তেফাক/ইআ