রোববার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

বীজের জন্য এখনো কৃষকই মূল ভরসা

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০২:৩১

কৃষির উন্নয়নে প্রধান ও মুখ্য উপকরণ ‘বীজ’। কৃষি বিজ্ঞানীদের মতে, বীজ ভালো না হলে অন্যান্য উপকরণের ব্যবহার ফলপ্রসূ হয় না, কখনো কখনো একেবারেই অপচয় হয়। মানসম্পন্ন বীজ ব্যবহারে শতকরা ১৫-২০ শতাংশ উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব।

কিন্তু দেশের যেমন ভালো মানের বীজের সংকট রয়েছে, তেমনি রয়েছে সরবরাহের ঘাটতিও। দেশে বছরে বীজের চাহিদা ১২ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩৬ টন, যার মাত্র ৩২ শতাংশ বীজ জোগান দিতে পারছে সরকারি-বেসরকারি চার সংস্থা। বাকি ৬৮ শতাংশ বীজের কৃষক নিজেই জোগান দিয়ে থাকে। সে হিসেবে কৃষকই এখন মূল ভরসা। কৃষি বিজ্ঞানীরা বলছেন, কৃষকরা নিজেরাই বাড়ির নিজস্ব গুদামে বা বেসরকারি কোল্ড স্টোরেজে বীজ রেখে নিজের বীজের চাহিদার পাশাপাশি অন্যের চাহিদাও পূরণ করে থাকেন। 

সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) কৃষির তিনটি মুখ্য উপকরণ মানসম্পন্ন বীজ, সার ও সেচ  কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছানোই প্রধান দায়িত্ব। ৩৪টি বীজ উৎপাদন খামার, ৯টি উদ্যান উন্নয়নকেন্দ্র, ১৪টি এগ্রো সার্ভিস সেন্টার ও ১১১টি চুক্তিবদ্ধ চাষি জোনের মাধ্যমে বীজ উৎপাদন করছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৬৩ টন, যা  চাহিদার মাত্র ১২ শতাংশ। আর বেসরকারি কোম্পানিগুলো উৎপাদন করছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৫৬ টন, যা চাহিদার ১৭ শতাংশের সামান্য বেশি। এছাড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সরবরাহ করছে ৪১ হাজার ১৬৭ টন, ৩ শতাংশ। 

বিএডিসির সদস্য পরিচালক (বীজ ও উদ্যান) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিএডিসি বীজের চাহিদার জোগান বাড়াতে কাজ করছে। পাশাপাশি পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে। আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১ লাখ ৭২ হাজার টন বীজ উৎপাদন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে যা এর আগের বছরের চেয়ে বেশি। তিনি জানান, সরকারি এ সংস্থাটি ২০৩০ সালের মধ্যে উৎপাদন ২ লাখ ৫ হাজার টন এবং ২০৪০ সালের মধ্যে উৎপাদন ৩ লাখ টন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। যা বর্তমান উৎপাদনের প্রায় দ্বিগুণ। তিনি বলেন, আমাদের দেশের কৃষকরা অনেক অভিজ্ঞ। তারাও ভালো মানের বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ করতে পারছেন।

দেশে বীজের মোট চাহিদার মধ্যে আলু বীজের চাহিদা অর্ধেক। দেশে মোট আলু বীজের চাহিদা রয়েছে ৭ লাখ ৮৬ হাজার ৮৮৫ টন। এর মধ্যে ৮৪ শতাংশ বীজই কৃষকরা নিজেরা উৎপাদন ও সংরক্ষণ করে থাকেন। বাকি মাত্র ১৬ শতাংশ বীজ সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলো জোগান দেয়। কৃষকরা এসব বীজ বিভিন্ন কোল্ড স্টোরেজে রাখছেন এবং আবাদ করছেন। 

সাবেক কৃষি সচিব ও বাংলাদেশ সিড অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা আনোয়ার ফারুক বলেন, বীজের চাহিদা পূরণে বেসরকারি সংস্থাগুলো আগের চেয়ে বেশি সক্রিয়। মোট চাহিদা ৩২ শতাংশ বিভিন্ন সংস্থা সরবরাহ করলেও আলু বীজ বাদ দিলে প্রায় অর্ধেক বীজই সরকারি-বেসরকারি সংস্থা মিলিয়ে সরবরাহ করে। আর আলু বীজ প্রায় ১ লাখ টন সরবরাহ করে থাকে বেসরকারি কোম্পানিগুলো।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৭ লাখ ৮৬ হাজার ৮৮৫ টন আলু বীজের বিপরীতে বিএডিসি মাত্র ৩৩ হাজার ৮৫১ টন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মাত্র ৪০ টন, বেসরকারি কোম্পানিগুলো ৯৫ হাজার টন সরবরাহ করে।

ইত্তেফাক/এমএএম