আমরা সবাইকে পরাজিত করব: জেলেনস্কি

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৭:৩৫

দিন-সপ্তাহ-মাস কেটে গেল, ইউক্রেনের যুদ্ধ দ্বিতীয় বছরে প্রবেশ করল। দীর্ঘ এক বছর লড়াইয়ের পরও এই চলমান সংঘাতের কোনো শেষ নেই। এদিকে, ইউক্রেনের  প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি 'সবাইকে পরাজিত করার' অঙ্গীকার করেছেন। আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইতিমধ্যে বিশ্ব নেতারা রাশিয়া ও তার যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে সমর্থনকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে প্রস্তুত। চলমান যুদ্ধের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন।

সেখানে তিনি বলেছিলেন: '...আমরা শক্তিশালী। আমরা যেকোনো কিছুর জন্য প্রস্তুত। আমরা সবাইকে পরাজিত করব।' এক বছর আগে রাশিয়ান আগ্রাসনের শুরুর কথা স্মরণ করে জেলেনস্কি বলেন, 'এভাবেই ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির দিনটি শুরু হয়েছিল। এটি আমাদের জীবনের দীর্ঘতম দিন। আমাদের সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন দিন। আমরা খুব সকালে ঘুম থেকে উঠেছি এবং তারপর থেকে ঘুমাইনি।'

জেলেনস্কি ২০২২ সালকে সহনশীলতা, সাহস, বেদনা ও ঐক্যের বছর হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, 'মূল উপসংহার হলো আমরা বেঁচে গেছি। আমরা পরাজিত নই। এবং আমরা এই বছর জয়ের জন্য সবকিছু করব!' 

বর্তমানে ইউক্রেনের পূর্ব ও দক্ষিণে যুদ্ধ চলছে এবং এই সময়ে বিশ্বজুড়ে মিত্ররা রাশিয়ার আক্রমণের প্রথম বার্ষিকীতে ইউক্রেনের প্রতি তাদের সমর্থন দেখাচ্ছে। ফ্রান্স ইউক্রেনের পতাকার নীল ও হলুদ রঙে প্যারিসের আইফেল টাওয়ার আলোকিত করেছে।

অন্যদিকে, লন্ডনে বহু মানুষ ইউক্রেনের পতাকা জড়িয়ে ব্যানার ধরে রেখেছেন। তাতে লেখা ছিল: 'যদি স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়ান, তাহলে ইউক্রেনের পক্ষে দাঁড়ান'। প্যারিসের মেয়র অ্যান হিডালগো এক বক্তৃতায় বলেছেন, 'এই যুদ্ধের পরে একটি জীবন থাকবে, কারণ ইউক্রেন (রাশিয়ার বিরুদ্ধে) জিতবে।'

বৃহস্পতিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ইউক্রেন থেকে রুশ সেনা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। ওই প্রস্তাবে বলা হয়, জাতিসংঘের সনদ অনুযায়ী ইউক্রেনে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ১৪১টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে। 

বিপক্ষে ভোট দিয়েছে সাতটি দেশ। ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানসহ ৩২টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে প্রথম আক্রমণ চালিয়েছিল রাশিয়া। ঠিক এক বছর পর জাতিসংঘ এই প্রস্তাবে ভোট দেয়। ইউরোপ ও আমেরিকার অধিকাংশ দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে।

রাশিয়া, বেলারুশ, উত্তর কোরিয়া, সিরিয়া, মালি, ইরিত্রিয়া ও নিকারাগুয়া এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে। বিরত থাকা ৩২টি দেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ভারত, পাকিস্তান, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও আফ্রিকার বেশিরভাগ দেশ। 

এছাড়া মধ্য এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশও ভোটদানে বিরত থাকে। জাতিসংঘে রাশিয়ার ডেপুটি অ্যাম্বাসেডর দিমিত্রি পলিয়ানস্কি জাতিসংঘের এই পদক্ষেপকে 'অকেজো' বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী পূর্ব ও দক্ষিণে রুশ তৎপরতা বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে। 

রাশিয়ান আগ্রাসনের প্রথম বার্ষিকী ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাশিয়ার সীমান্ত বরাবর কমপক্ষে ২৫টি উত্তর শহর ও গ্রাম গোলাগুলির শিকার হয়েছে। রয়টার্স অবশ্য যুদ্ধক্ষেত্র থেকে এসব প্রতিবেদনের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। রাশিয়া এখন ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।

ইত্তেফাক/ডিএস