ইউক্রেন যুদ্ধ

বিশ্ব বহুমাত্রিক কাঠামোতে প্রবেশ করছে

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৭:০০

গতকাল ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেন যুদ্ধের এক বছর পূর্তি হয়েছে। কোনো সন্দেহ নেই, এই এক বছরে ধ্বংসের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে সময় পার করেছে ইউক্রেন। যুদ্ধ মানেই প্রধানত ধ্বংসযজ্ঞ। সেদিক থেকে বিচার করলে ইউক্রেনের জনগণ কঠিন সময় পার করছে—এ কথা বলতেই হবে। বিগত এক বছরে আমরা দেখেছি, ইউক্রেন জুড়ে যে আক্রমণ ও হামলার ঘটনা ঘটে, তাতে ইউক্রেনীয়রা যেমন মারা গেছেন, তেমনিভাবে মারা পড়ছেন রাশিয়ান বাহিনীর সদস্যরাও। সব মিলিয়ে যুদ্ধের যে বীভৎসতা, তার একটা মোটামুটি রূপ আমরা ইতিমধ্যেই দেখতে পেয়েছি।

বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, এই যুদ্ধ যদিও রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের, কিন্তু পরোক্ষভাবে ন্যাটো রাশিয়ার সঙ্গে সংঘর্ষে সম্পৃক্ত কিংবা রাশিয়ার সঙ্গে ন্যাটো সরাসরি সংঘর্ষের পথে রয়েছে! কারণ, আমরা দেখেছি, যুদ্ধে যেসব অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করছে ইউক্রেন, তার প্রায় বেশির ভাগই ন্যাটো থেকে পাওয়া। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও ইউক্রেনকে বড় আকারে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। এদিক থেকে দেখলে রাশিয়ার সঙ্গে ন্যাটো, তথা পশ্চিমা বিশ্বের একধরনের যুদ্ধ শুরু হয়েছে, যা ক্রমশ বৃহত আকার ধারণ করছে বলেই মনে হচ্ছে!

বছরব্যাপী চলা ইউক্রেন যুদ্ধের সার্বিক চিত্রের দিকে দৃষ্টি দিলে বেশ কিছু বিষয় সামনে আসবে। প্রথমেই বলতে হয়, পারমাণবিক শঙ্কার কথা। পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহারের প্রশ্ন নিয়েই মূলত এই যুদ্ধের আলোচনা ঘুরপাক খাচ্ছে! পারমাণবিক শক্তিধর উভয় পক্ষের হুঁশিয়ারি-পালটা হুঁশিয়ারি ‘পারমাণবিক যুদ্ধ’ শুরুর আশঙ্কাকে সামনে এনেছে স্বাভাবিকভাবেই। কৌশলগত অস্ত্রচুক্তি নিউ স্টার্ট থেকে পুতিনের বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণায় ‘পারমাণবিক শঙ্কা’ দেখছেন অনেকেই। তবে পারমাণিবক সংঘাত শুরু হওয়ার মতো পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না বলেই আমি মনে করি। এখন অবধি ন্যাটোর অস্ত্র সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণকে পুঁজি করেই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। তবে সরবরাহকৃত অস্ত্রশস্ত্রে যদি মৌলিক পরিবর্তন আসে, তথা ভারী পাল্লার আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধ-উড়োজাহাজসহ প্রত্যাশা অনুযায়ী অস্ত্র সরঞ্জাম হাতে পায় ইউক্রেন, তখন যুদ্ধ আরও বৃহত আকার ধারণ করবে। সেক্ষেত্রে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কা কতটা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, তা-ই দেখার বিষয়।

এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয়, ইউক্রেনকে অস্ত্র, অর্থসহ সব দিক দিয়ে সহযোগিতা করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এক্ষেত্রে কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে। বিশেষ করে, গত মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের বিজয় ইউক্রেনকে সহায়তার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাজকে কঠিন করে তুলবে, যা ইতিমধ্যেই দৃশ্যমান। আমেরিকার জনগণ সামনের দিনগুলোতে ইউক্রেনকে ব্যাপকভাবে সহায়তার বিষয়কে কীভাবে দেখবে, তা স্পষ্ট নয়। যদিও ইউক্রেন যুদ্ধের বর্ষপূর্তির দিন কয়েক আগে কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই ইউক্রেন সফর করে দেশটির প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। তবে মনে রাখতে হবে, আগামী দুই বছরে যদি রিপাবলিকানরা নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করে, তাহলে ইউক্রেনকে অস্ত্র-অর্থসহায়তার ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের কাজ আরও কঠিনতর হয়ে পড়বে। মার্কিন সহায়তা বন্ধ বা কমে গেলে সেক্ষেত্রে ইউক্রেনের অবস্থা কী হবে, তা সহজেই অনুমেয়!

যুদ্ধের এক বছরে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে দৃষ্টি দেওয়া দরকার। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা দেখছি, এই যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইউরোপে একধরনের ‘দ্বন্দ্ব’ তৈরি হয়েছে! বিশেষত জার্মানি ও ফ্রান্স মনে করছে, চলমান যুদ্ধকে একটি ‘বিশেষ পর্যায়ে’ নিয়ে আসা দরকার। তাছাড়া ইউরোপের জনগণের প্রতিক্রিয়াও বিশেষভাবে লক্ষ করার মতো। এসবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘটিত ‘ডেমনস্ট্র্রেশন’। সবকিছু মিলিয়ে ইউরোপকে এখন হিসাবনিকাশ করতে দেখা যাচ্ছে যে, ‘এই যুদ্ধ সামনের দিকে অগ্রসর হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের কতটা লাভ?’

আরেকটি বিষয়ের দিকে দৃষ্টিপাত করা জরুরি। জ্বালানির প্রশ্নে জার্মানির চিন্তা ছিল—যেভাবেই হোক, রাশিয়ার সঙ্গে একধরনের সম্পর্ক বজায় রাখা। কিন্তু সেই চিন্তার বাস্তব প্রতিফলন ওঠা বেশ কঠিনই। কারণ এক্ষেত্রে বড় বাধা হলো যুক্তরাষ্ট্র। বলে রাখা দরকার, শুধু জার্মানি নয়, ইউরোপসহ যে কোনো অঞ্চল রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানির প্রশ্নে কোনো ধরনের সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করলে, সেক্ষেত্রে তাকে নিশ্চিতভাবে পড়তে হবে আমেরিকার বাধার মুখে! এই পরিপ্রেক্ষিতে আলোচনায় উঠে আসে মার্কিন ‘নিষেধাজ্ঞা’র বিষয়টি। আমরা দেখেছি, স্যাংশন দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়াকে কাবু করতে চেয়েছে যুদ্ধের শুরু থেকেই। কাজেই কোনো দেশই, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেসব দেশ কোনো না কোনাভাবে সম্পৃক্ত, নিষেধাজ্ঞাকে অমান্য করে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার কথা চিন্তা করবে না!

তবে এ বাস্তবতাও আমরা দেখেছি, বিশেষ করে চীন ও ভারতে খুব ভালোমতোই জ্বালানির বাজার ধরে রাখতে পেরেছে রাশিয়া। এতে করে রাশিয়ার অর্থনীতি প্রথমদিকে কিছুটা কঠিন সময়ের ভেতর দিয়ে গেলেও ক্রমান্বয়ে তা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, স্যাংশন দিয়ে রাশিয়ান জ্বালানির প্রবাহ থামানোর যে চেষ্টা করা হয়েছিল, তা সফল হয়নি বলেই ধরে নিতে হবে। এবং নিষেধাজ্ঞার অভিঘাতে রাশিয়ার অর্থনীতিতে যে ধরনের ধস নামবে বলে মনে করা হয়েছিল, তা-ও ঘটেনি। তবে সামনের দিনগুলোতে মার্কিন স্যাংশন বিশ্বে কতটা প্রতিঘাত করবে কিংবা করবে না—তা নিশ্চিত করে বলাটা মুশকিল।

অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই, নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার অর্থনীতির তেমন কোনো ক্ষতি না হলেও এর তীব্র প্রভাব পড়েছে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল বিশ্বে। বাংলাদেশেও এর প্রভাব দৃশ্যমান। রাশিয়ান জ্বালানির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার ফলে ‘তীব্র জ্বালানি ঘাটতি’ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়তে দেখেছি আমরা। বিশেষত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে উৎপাদনমুখী শিল্পকারখানাগুলো মুখ থুবড়ে পড়ে। প্রায় প্রতিটি দেশের অর্থনীতিতে শুরু হয় ‘আকাল অবস্থা’, যার অভিঘাত এখনো দৃশ্যমান দেশে দেশে।

উল্লেখ করতে হয়, রাশিয়ার এনার্জির ওপর বাংলাদেশ ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। বিশেষ করে, দেশে নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরাসরি নির্ভরশীল রাশিয়ার ওপর। এক্ষেত্রে রাশিয়ান জ্বালানি কিংবা দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক রাখার ক্ষেত্রে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মানা বাংলাদেশের জন্য যে কতটা কঠিন তা সহজেই অনুমেয়। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে রাশিয়ান জাহাজের প্রবেশ বাধাপ্রাপ্ত হতে দেখেছি আমরা। এ তো বিপদের কথা! রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের প্রয়োজনীয় উপকরণ কোনোভাবে আটকে পড়লে তা দেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠবে নিঃসন্দেহে। তবে এক্ষেত্রে বাংলাদেশেরও দায় রয়েছে বইকি! রাশিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশের মিশনকে এ বিষয়ে আগে থেকেই ‘হোমওয়ার্ক’ করতে হতো। পরবর্তী সময়গুলোতে সংশ্লিষ্টরা হোমওয়ার্ক করে এ ধরনের বিষয়ে আগে থেকেই তৎপর থাকবেন বলেই প্রত্যাশা করি আমরা। আগামী দিনগুলোতে এসব ক্ষেত্রে ‘পূর্ণ পেশাদারিত্ব’ নিয়ে কাজ করতে না পারলে নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে বাংলাদেশকে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ঘটনা বাংলাদেশের জন্য অভিজ্ঞতার সঞ্চারও করেছে। এবং আমেরিকার জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা। এক্ষেত্রে একটি বিষয় উভয় পক্ষের জন্য অতি জরুরি; তা হলো ‘জ্বালানির গ্যারান্টি’। সত্যি বলতে, জ্বালানির নিশ্চয়তা বাংলাদেশ তো বটেই, যে কোনো দেশের জন্যই আজকের দিনে সর্বোচ্চ ‘অগ্রাধিকারমূলক ইস্যু’। এ বিষয়টি আমেরিকাও খুব ভালোমতো বুঝতে পারছে বলেই মনে হয়। সেক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র যদি বাংলাদেশের জ্বালানির গ্যারান্টি নিশ্চিত করতে পারে, তবে তাতে বরং মার্কিনদেরই লাভ! এর কারণ, বাংলাদেশের বড় বাজার হচ্ছে আমেরিকা। তৈরি পোশাকসহ বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সুনামের সঙ্গে প্রবেশ করছে। এই অবস্থায় জ্বালানির সংকটে বাংলাদেশে উত্পাদনমুখী শিল্পকারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার প্রভাব পড়বে যুক্তরাষ্ট্রেও। মোটা দাগে উল্লেখ করতে হয়, কোনো কারণে যদি রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প  বিঘ্নিত হয় কিংবা বাংলাদেশের উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়, তার পরোক্ষ প্রভাব পড়বে আমেরিকার ওপরও। এসব বিষয় আমেরিকা কিংবা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে তুলে ধরার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে কূটনৈতিক পেশাদারিত্বের স্বাক্ষর রাখতে হবে। বিশেষত, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে ভালোভাবে বোঝাতে হবে, কোনো কারণে বাংলাদেশ উৎপাদনসংকটে পড়লে, তাতে কার কী ধরনের ক্ষতি হবে। এসব বিষয়কে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে স্টেকহোল্ডার কান্ট্রিগুলোকেও।

যা-ই হোক, ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্য দিয়ে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়েছে, বিশ্ব এখন বহুমাত্রিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বলা বাহুল্য, বর্তমানে কোনো রাষ্ট্রই কথিত ইউনিপোলারের গণ্ডিতে আবদ্ধ থাকার মতো অবস্থায় নেই! চীন, ভারত, ব্রাজিল, সাউথ আফ্রিকা কিংবা রাশিয়া—কোনো রাষ্ট্রই ইউনিপোলার সিস্টেমকে মানতে চাইছে না। অর্থাৎ, মালটিপোলার সিস্টেমই আজকের দিনে বাস্তবতা। এক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা কিংবা সংঘাত সামনে আসবে স্বাভাবিকভাবেই। সে অবস্থায় প্রতিটি রাষ্ট্রকে খুব ভালোভাবে মাথায় রাখতে হবে, যে রাষ্ট্র বা শক্তি যত বেশি পেশাদারিত্ব নিয়ে কাজ করবে, তার জন্য সমস্যা মোকাবিলা তত বেশি সহজ হয়ে উঠবে।  এদিক দিয়ে বিবেচনা করলে বাংলাদেশের নীতি ও পলিসি এখন পর্যন্ত সফল বলেই ধরে নেওয়া যায়।

বাংলাদেশের জন্য আনন্দের সংবাদ হলো, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির বৈশিষ্ট্যই আজকের বিশ্বে প্রতিটি দেশের জন্য অনুসরণীয় হয়ে উঠেছে! ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে শত্রুতা নয়’—বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির এই মূলনীতির বাস্তবতাই এখন সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এই দূরদর্শী চিন্তা এমন এক সময়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতির মূলমন্ত্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়, যখন বিশ্ব পার করছিল স্নায়ুযুদ্ধের মহাকাল। আজকের বিশ্বও যে ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে, সেখানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলমন্ত্র অনুকরণীয় হয়ে উঠেছে প্রতিটি দেশের জন্য। বিশ্ব নেতৃত্ব শান্তি ও বন্ধুত্বের এই বার্তাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখলেই কেবল ইউক্রেন যুদ্ধের মতো সংঘাতের ইতি টানা সম্ভব। অন্যথায়, যুদ্ধ, সংঘর্ষ কেবল বাড়বেই। 

লেখক: নিরাপত্তা বিশ্লেষক। অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

 

ইত্তেফাক/এমএএম