নজরখালীতে বাঁধ নির্মাণ নিয়ে বিপাকে পাউবো

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০০:০৪

সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের হাওরবেষ্টিত নদীগুলোর পানি বেড়েছে। সেই সঙ্গে ‘হাওর রক্ষা বাধের’ কাজে নিয়োজিতদের স্নায়ুর চাপও বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আমরা যে কোনো মূল্যে আগামী ৭ মার্চের মধ্যে কাজ শেষ করতে চাই। তারা দাবি করেছেন ৭৩ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

এদিকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ বিশাল টাঙ্গুয়ার হাওরের নজরখালীতে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড বিপাকে পড়েছে। না পারছে এখানে বাঁধ দিতে, না পারছে বাঁধের দাবি উপেক্ষা করতে। টাঙ্গুয়ার পাড়ের ৮২ গ্রামের কৃষকরা চান তাদের ফসল রক্ষায় নজরখালীতে হাওর রক্ষা বাঁধ। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরটি ‘পরিবেশ সংকটাপন্ন’ এলাকা। এখানে বাঁধ দেওয়া বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা নিষেধ। এদিকে গত বছর বিশেষ বিবেচনায় এখানে বাঁধ দিলেও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড। স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় নজারখালী বাঁধটি ভেঙে বিপুল পরিমাণ জমি ডুবে যায়। কর্মকর্তারা জানান, সুনামগঞ্জ জেলায় বর্ষায় যখন ঢল নামে, তখন যাদুকাটাসহ বিভিন্ন নদীর পানির চাপ পড়ে নজরখালীসহ আরো কয়েকটি পয়েন্টে। ঢলের প্রবল স্রোত নজরখালী দিয়ে বিশাল টাঙ্গুয়ার হাওরে প্রবেশ করলে আশপাশের হাওরগুলো অনেক ঝুঁকিমুক্ত থাকে। আর ঢল বাধা পেলে গুরমা, মাঠিয়াইনসহ অন্যান্য হাওর রক্ষা বাধ বিপন্ন হয়ে উঠে। ঢল ভয়াবহরূপ ধারণ করে। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।  

এলাকাবাসী জানান, একসময় এখানে স্থানীয় উদ্যেগে ফসল রক্ষা বাধ দেওয়া হতো। কৃষকরা  ঝুঁকি ও ভাগ্যের ওপর ভর করে বোরো ফলাতেন। কিন্ত এখন পরিবেশ বিপর্যয়ের বিষয়টি পেছনে রেখে বাঁধ নির্মাণের দাবি উঠেছে। এলাকার কৃষকরা বলেন, টাঙ্গুয়ার পাড়ে প্রায় ৯ হাজার হেক্টর জমি চাষাবাদ হয়েছে এবার। তবে এই পরিমাণ জমির চাষ হয়েছে কিনা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুপ্রভাত চাকমা ইত্তেফাককে বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিভিন্ন ভাগে ভাগ হয়ে প্রকল্প এলাকা চষে ফিরছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহা পরিচালক (পূর্ব রিজিওন) এস এম শহীদুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি দেখে মনে হয় ৭ মার্চের মধ্যে কাজ শেষ হবে। তিনি গত দুদিনে তাহিরপুরের গুরমা, মাঠিয়ান, শনি মহালিয়া, মধ্যনগরের কাইল্যানীর হাওর এবং শাল্লার ছায়ার হাওর, শ্রীহাইল অংশের হাওর রক্ষা বাঁধ পরিদর্শন করেন। এ সময় তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুপ্রভাত চাকমা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার, নির্বাহী প্রকৌশলী শামছুদ দোহা সঙ্গে ছিলেন। অন্য দিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তর পূর্বাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খুশী মোহন সরকার, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী তাহিরপুর, দিরাই ও ধর্মপাশা উপজেলার বিভিন্ন স্থানের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ পরিদর্শন করেন। কর্মকর্তারা জানান, এ পর্যন্ত হাওরে ৭৩ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। 

সাড়ে ৪ লাখ কৃষি পরিবারসহ এ জেলার ২৫ লাখ লোকের একমাত্র ফসল বোরো ধান রক্ষার্থে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে সুনামগঞ্জ জেলার ১২টি উপজেলায় ২০৫ কোটি টাকা ব্যয়ে হাওর রক্ষা প্রকল্পের কাজ চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে জেলায় ১ হাজার ৭৮টি  পিআইসির (প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন কমিটি) মাধ্যমে ৭৪৫ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ, ২১৮টি ব্রিজ ক্লোজিং এবং বিকল্প ৫ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে।

 

ইত্তেফাক/ইআ