হাড়িভাঙ্গা আম বিক্রির শুরুতেই দরপতন

আপডেট : ১৯ জুন ২০১৯, ২১:৩৭

ক্রেতা না থাকায় হতাশ আমচাষিরা

রংপুরের সুমিষ্টি খ্যাত জনপ্রিয় হাড়িভাঙ্গা আম বাজারে বিক্রি শুরু হয়েছে। আম বাজারে আসতেই দরপতনের কবলে পড়েছে আমচাষিরা। প্রতি কেজি আম ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে

গোলাম মোস্তফা আনছারী, স্টাফ রিপোর্টার রংপুর

রংপুরের সুমিষ্টি খ্যাত জনপ্রিয় হাড়িভাঙ্গা আম বাজারে বিক্রি শুরু হয়েছে। আম বাজারে আসতেই দরপতনের কবলে পড়েছে আমচাষিরা। চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে গাছ থেকে আঁশহীন এই আম পাড়ার কথা থাকলেও অনেক চাষি আগাম আম পাড়তে শুরু করেছে। রংপুরের হাটেবাজারে বসেছে হাড়িভাঙ্গা আমের বিক্রেতারা। তবে মৌসুমের শুরুতেই কম দামে হাড়িভাঙ্গার স্বাদ নিচ্ছে ক্রেতাদের। গত মঙ্গলবার রংপুরের বৃহত্ আমের আড়ত পৌরবাজার ও টার্মিনাল এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি আম ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. সরোয়ারুল হক জানান, এবছর রংপুর জেলায় তিন হাজার পাঁচ হেক্টর জমিতে আমের ফলন হয়েছে। এর মধ্যে হাড়িভাঙ্গার ফলন হয়েছে প্রায় ১৫শ হেক্টর জমিতে। গতবছর প্রতি হেক্টরে ফলন হয়েছিল ৯ দশমিক ৪ মেট্রিক টন। সেই হিসেবে শুধু হাড়িভাঙ্গার উত্পাদন হতে পারে ১৫ হাজার মেট্রিক টন। জেলার মিঠাপুকুর ও বদরগঞ্জ উপজেলা থেকে আসা বেশিরভাগ আম ব্যবসায়ী এখানে পাইকারি দরে আম বিক্রি করেন। রাস্তার দুই পাশে তারা আমভর্তি ঝুড়ির পসরা সাজিয়ে বসে ক্রেতাদের ডাকছেন। আম বিক্রেতা সিরাজুল ইসলাম জানান, ‘এবার আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় আমের উত্পাদন কম হয়েছে। কিছু কিছু বাগানে আমের মধ্যে পচনও ধরেছে। এ কারণে অনেকেই আগাম আম পাড়া শুরু করেছে। তবে আমের দাম শুরুতেই আশানুরূপ পাওয়া যাচ্ছে না। উত্পাদন কম হওয়াতে এবার আমের দাম একটু বেশি হওয়ার কথা। কিন্তু এখন বাজারে প্রতিমণ হাড়িভাঙ্গা আম ষোলশ থেকে দুই হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

রংপুর পৌর বাজারের ফল ব্যবসায়ী শাহআলম বলেন, ‘সাধারণত জুনের শেষভাগে হাড়িভাঙ্গা আম বাজারে পাওয়া যায়। কিন্তু এবার অত্যধিক গরমের কারণে এক সপ্তাহ আগে হাটেবাজারে আম উঠেছে। আর কয়েকদিন পর পুরোদমে বাজারে হাড়িভাঙ্গা আম আসতে শুরু হলে দাম আরো কমে আসবে। ক্রেতা সাইদুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা বলেন, অপেক্ষায় ছিলাম কখন হাড়িভাঙ্গা বাজারে আসবে। এখন মৌসুমের শুরুতেই কমদামে আম কিনতে পেরে ভালো লাগছে। গতবছর মৌসুমের শুরুতেই হাড়িভাঙ্গা আম বাজারে আসতেই ৮০ থেকে ৯০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. সরোয়ারুল হক বলেন, গতমাসের ঝড় ও বাতাসে আমের কিছুটা ক্ষতি হলেও মোটামুটি বাম্পার ফলন হয়েছে। এবার হাড়িভাঙ্গা আম বিক্রি করে ২০০ কোটি টাকার ব্যবসা করতে পারবে রংপুর জেলার আম চাষিরা।