বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশন এর ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১১ মার্চ) বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন এর হলরুমে এ আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফিকামলি তত্ত্বের জনক, বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশন এর প্রধান উপদেষ্টা ড. আবদুল ওয়াদুদ।
এসময় ড. আবদুল ওয়াদুদ বলেন, বঙ্গবন্ধু সব ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে, এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য তার জীবনের উল্লেখযোগ্য সময় কাটিয়ে দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু পরবর্তী বাংলাদেশে আজ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে বিস্তর বৈষম্য। গত ৫০ বছরে মানুষে মানুষে যে সীমাহীন আর্থনৈতিক বৈষম্য তৈরি হয়েছে তা দেশ ও জাতির জন্য মোটেও সুখকর নয়। এই বৈষম্য, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রতিবন্ধক সরূপ। সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনের সকল দাবির প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করে এবং অতি দ্রুত আগামী পে স্কেলে এই বৈষম্য নিরসনের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আহ্বান জানাই।
সকলের জন্য ন্যূনতম পর্যায়ের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বিশেষ করে সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনের দাবিকৃত- সকলের জন্য বাসস্থান নিশ্চিত করা, অফিসের যাতায়াতের জন্য পরিবহনের ব্যবস্থা করা, রেশনিং সিস্টেম চালু করা- এসব দাবি অতিরিক্ত কিছু নয়। বাজার অর্থনীতিতে প্রতি পাঁচ বছর পর পর পে স্কেল সমন্বয়ের প্রয়োজন আছে। কেননা বাজার সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে না। কিন্তু বেতন ভাতা সরকার চাইলে বাজারের সাথে সমন্বয় করে বর্ধিত করতে পারে।
ড. আবদুল ওয়াদুদ আরো বলেন, ১৯৭৩ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ১০ ধাপের বেতন স্কেলের ঘোষণা দিয়েছিলেন; অথচ আজ বেতন স্কেল দাঁড়িয়েছে ২৩ ধাপে। এই বৈষম্যের রহস্য কী? ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা আজ কাদের হাতে আমরা ছেড়ে দিয়েছি? এমন অনেক কর্মচারী আছে, যারা একই স্কেলে গত ৩০ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত কোন পদোন্নতি ছাড়াই চাকরি করে যাচ্ছেন। তাছাড়া মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর ভেদে বেতনেরও বিস্তর বৈষম্য আছে। ২০১৫ সালে যে পে স্কেল দেয়া হয়েছে সেই পে স্কেলে কর্মচারীদের বেতন প্রকৃত অর্থে বাড়েনি। গত ৮ থেকে ১০ বছরে অনেক কর্মচারীর বেতন উল্লেখযোগ্যহারে বৃদ্ধি পায়নি।
ড.আবদুল ওয়াদুদ বলেন, শুধুমাত্র বেতন বাড়িয়ে দিলেই হবে না, পাশাপাশি সরকারি কর্মচারী এবং কর্মকর্তাদের দক্ষতার সাথে জাতির সেবায় আত্মনিয়োগ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে ব্যাপক জনমত গড়তে কর্মচারীদের মধ্যে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের বার্তা সম্বলিত লিফলেট বিতরণ করা হয়। দেশব্যাপী এই উন্নয়নের বার্তা সকলের মাঝে পৌঁছে দেয়ার জন্য কর্মচারীরা অঙ্গীকার করেন।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশন এর সভাপতি মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলীর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল ( জাসদ) সাধারণ সম্পাদক, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য জনাব শিরিন আক্তার এমপি ও বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ।
কাউন্সিলরদের বিপুল পরিমাণ সমর্থনে মোহাম্মদ ওয়ারেছ আলি পুনরায় সভাপতি ও খায়ের আহমেদ মজুমদার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
