বৃহস্পতিবার, ২৩ মার্চ ২০২৩, ৯ চৈত্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট গগনে নূতন সূর্যোদয় 

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০২৩, ০০:৩২

‘মেঘ দেখে কেউ করিস নে ভয়, আড়ালে তার সূর্য হাসে, হারা শশীর হারা হাসি অন্ধকারেই ফিরে আসে’—সদ্য সমাপ্ত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট সিরিজে বিজয় লাভের মধ্য দিয়া এই উক্তির যথার্থতা প্রমাণ করিয়াছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। টি-টোয়েন্টির বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অবিস্মরণীয় জয় লাভ করিয়াছে বাংলাদেশ টাইগার্স। ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতিয়া সকল ফরম্যাটে বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম পরাশক্তি হিসাবে বিবেচিত ইংলিশদের করিয়াছে হোয়াইটওয়াশ বা ধবলধোলাই। এই জয়ে আমরা উচ্ছ্বসিত, গর্বিত। বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট টিম ও সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভকামনা জানাই। 

টাইগারদের এই বিজয়ে অত্যধিক আপ্লুত হইবার কারণ রহিয়াছে বইকি। এই কিছুদিন পূর্বেও বলা হইত, বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টিতে দুর্বল। এই জন্য নিকট অতীতে আমরা ক্রিকেটারদের বারংবার উচ্চারণ করিতে শুনিয়াছি—‘ভালো কিছু হইবে, আমরা চেষ্টা করিয়া যাইতেছি...।’ দেশের মাটিতে ইংল্যান্ডের মতো দেশের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের মধ্য দিয়া সেই কথার যথার্থতা প্রমাণ করিলেন টি-টোয়েন্টি যোদ্ধারা। অবশেষে সত্যিই ‘ভালো কিছু’ হইল। আমরা জানি, ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশ দলকে যে কোনো দল সমীহ করিয়া থাকে। বিশ্বের এমন কোনো দল নাই, যাহারা পরাস্ত ও নাস্তানাবুদ না হইয়াছে বাংলাদেশ দলের নিকট। টেস্ট ক্রিকেটে আমরা এখনো শৈশব-কৈশোরকাল অতিক্রম করিতেছি বটে। এই ক্ষেত্রে আমাদের আরো বহু পথ পাড়ি দিতে হইবে; কিন্তু টি-টোয়েন্টির ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনসমূহে অধিকাংশ ক্ষেত্রে যখন হতাশার গল্পই শুনা যাইত টাইগার অধিনায়কের মুখে, তখন দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরাও বিষণ্নতায় নিমজ্জিত হইত। সত্যি বলিতে, এই ফরম্যাটে আমরা যেন ঘুরিয়াই দাঁড়াইতে পারিতেছিলাম না! এই ধারাবাহিকতায় ইংল্যান্ড দলের এইবারের বাংলাদেশ সফরের পূর্বে ওয়ানডে ম্যাচসমূহ লইয়া খুব একটা চিন্তা না থাকিলেও টি-টোয়েন্টি লইয়া দুশ্চিন্তাকে সরাইয়া রাখা যাইতেছিল না কোনোক্রমেই। দলে সদ্য যোগদান করা কোচ স্বয়ং বলিয়াছিলেন, ‘এই ফরম্যাটে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে টাইগারদের সিরিজ জয়ের আশা করা কঠিন।’ আনন্দের সংবাদ হইল—কোচের আশঙ্কাকে মিথ্যা প্রমাণ করিয়া টাইগাররা বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে সিরিজ জয় করিয়াছেন বাঘের গর্জন তুলিয়াই! উল্লেখ করিবার বিষয়, পূর্ণ শক্তি লইয়া মাঠে নামা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলটি বিজয় লাভে চেষ্টার কোনো খামতি না রাখিলেও বাংলাদেশ দলের নিকট পরাজয় বরণে বাধ্য হইয়াছে ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং—সকল ক্ষেত্রে টাইগারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে। তরুণ্যনির্ভর, প্রাণচঞ্চল ও উজ্জীবিত বাংলার টাইগারদের এই বিজয়গাথা ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় হইয়া থাকিবে।

বাংলাদেশের এই টি-টোয়েন্টি দলের মধ্যে আমরা অপার সম্ভাবনা দেখিতে পাইতেছি। এই টিম কম্বিনেশন ও উজ্জীবনী স্পৃহা ধরিয়া রাখিতে পারিলে যে কোনো শক্তিশালী দলকে ধরাশায়ী করা সম্ভব। আগামী বৎসর ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এই দল ভালো করিবে বলিয়া আমরা আশা রাখি। বিশেষ করিয়া, বর্তমান ক্রিকেট দলের যে টিম স্পিরিট তাহা পরবর্তী ম্যাচেও ধরিয়া রাখিতে হইবে। উদীয়মান তরুণ ক্রিকেটারদের সঠিকভাবে পরিচর্যা করিতে না পারিলে অনেক সময় তাহা ঝরিয়া পড়িতে পারে। এই অবস্থায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রভাব বিস্তার করিয়া যেই সম্ভাবনার আলো ছড়াইয়াছে বাংলাদেশ, সেই আলো যেন আর নিষ্প্রভ না হয়। এই জন্য টি-টোয়েন্টির বড় দলসমূহে বিরুদ্ধে নিয়মিত খেলা ও অনুশীলনের সুযোগ দেওয়ার পক্ষপাতী আমরা। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে দাপুটে জয়ের পর এই কথা বলা অবান্তর হইবে না যে, বাংলাদেশ ক্রিকেটের টি-টোয়েন্টি গগনে নূতন সূর্যের উদয় ঘটিয়াছে। ইহার সহিত অন্য ফরম্যাটেও জাতীয় দলকে ঢালাইয়া সাজাইতে হইবে যাহাতে আসন্ন সিরিজসহ এশিয়া কাপ, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আমরা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করিতে পারি। আমরা সকল প্রকারের ফরম্যাটেই জাতীয় ক্রিকেট দলের ধারবাহিক সাফল্য কামনা করি।       

ইত্তেফাক/ইআ