বৃহস্পতিবার, ২৩ মার্চ ২০২৩, ৯ চৈত্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

'৩৩ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র'

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২৩, ১৯:৪৬

উত্তর কোরিয়ার একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে যা মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যর্থ হলে মাত্র ৩৩ মিনিটের মধ্যে মধ্য যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে পারে। চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের একদল প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক দেশটির একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করে এ মতামত দিয়েছেন। খবর সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এর আগে চীনের বিশ্লেষকরা তাদের পর্যবেক্ষণে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা অবস্থানের নাম উল্লেখ করেননি। বিশেষ করে এবার উত্তর কোরিয়ার হুয়াসং-১৫ মিসাইল নিয়ে এ কথা বললেন গবেষকরা। 

উত্তর কোরিয়ার একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে যা মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যর্থ হলে মাত্র ৩৩ মিনিটের মধ্যে মধ্য যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে পারে।

২০১৭ সালে পিয়ংইয়ং এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছিল। হুয়াসং-১৫ একটি দ্বি-পর্যায়ের ক্ষেপণাস্ত্র। এটি পারমাণবিক ওয়ারহেড বহন করতে পারে। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ৩১ হাজার কিলোমিটার বা আট হাজার মাইল দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। 

এ বিষয়ে চীনের বিশ্লেষক দলের প্রধান ও বেইজিংয়ের ইন্সটিটিউট অব ইলেকট্রনিক সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের গবেষক তাং ইউয়ান জানান, উত্তর কোরিয়ার এই ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো অংশে আঘাত হানতে সক্ষম। 

উত্তর কোরিয়ার হুয়াসং-১৫ মিসাইল

তাং ও তার দলের অনুসন্ধানগুলো ১৫ ফেব্রুয়ারি চীনের ভাষার জার্নালে মডার্ন ডিফেন্স টেকনোলজিতে প্রকাশিত হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার মধ্যাঞ্চলের সানচন শহরের উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে ছোড়া একটি হুয়াসং-১৫ ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তু ছিল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চলের মিজৌরি অঙ্গরাজ্যের কলাম্বিয়া।

চীনের পর্যবেক্ষকেরা জানিয়েছেন, মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উত্তর কোরিয়া থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ২০ সেকেন্ডের মধ্যেই সংকেত পেয়ে যায়। ঠিক ১১ মিনিট পরে আলাস্কার ফোর্ট গ্রিলি থেকে প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্রের একটি দল উড়ে। 

 উত্তর কোরিয়ার মধ্যাঞ্চলের সানচন শহরের উৎক্ষেপণ কেন্দ্র

যদি কোনো কারণে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তাদের লক্ষ্য পূরণ করতে ব্যর্থ হয়, তবে ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যানডেনবার্গ স্পেস ফোর্স বেস থেকে প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্রের আরেকটি ব্যাচ উৎক্ষেপণ করা হতো। কিন্তু উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের শেষ পর্যন্ত কী ঘটেছে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।  

চীন দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিরক্ষামূলক প্রতিরক্ষা কৌশল প্রয়োগ করে আসছে। দেশটির সম্ভাব্য যুদ্ধের ভয় ছিল পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর ও এর আশপাশ ঘিরে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের কৌশল অনেক পরিবর্তন হয়েছে। 

ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যানডেনবার্গ স্পেস ফোর্স বেস

এমনকি চীনের কৌশলবিদরা যুদ্ধের পরিস্থিতিতে মার্কিন ভূখণ্ডে আক্রমণ করতে সক্ষম এমন একটি কৌশল নিয়ে ভাবছেন। বিশেষ করে দক্ষিণ চীন সাগর, তাইওয়ান প্রণালী ও কোরীয় উপদ্বীপে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আগের চেয়ে অনেক বেড়ে যাওয়ায় চীন এইভাবে চিন্তা করছে।

গত জানুয়ারিতে চীনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার একটি রিপোর্ট সম্ভাব্য হাইপারসনিক অস্ত্র হামলার জন্য মার্কিন লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করেছে। চীনের উহানের এয়ার ফোর্স আর্লি ওয়ার্নিং একাডেমির গোয়েন্দা বিভাগের গবেষক ইউ জিনতাও জানান, চীন যদি মার্কিন মাটিতে হামলা চালায়, তবে সবচেয়ে কার্যকর লক্ষ্য হবে ইউবা কাউন্টি, ক্যালিফোর্নিয়ার বল এয়ারফিল্ড ও কেপ কড উপদ্বীপ।

কোরীয় উপদ্বীপে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি

তাং ও তার দলের এই পর্যবেক্ষণের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেশটিকে কতটা রক্ষা করতে পারে তা যাচাই করা। তাদের মতে, এটি হুয়াসং-১৫ এর মতো প্রচলিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম, তবে সম্পূর্ণ নিখুঁতভাবে নয়।

তাং ও তার দলের মতে, আগামী কয়েক বছরে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হতে পারে। তবে দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন বাহিনীর তৃতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের তীব্র বিরোধিতা করেছে বেইজিং ও পিয়ংইয়ং।

দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন বাহিনীর তৃতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং উনের বোন ও তার সম্ভাব্য রাজনৈতিক উত্তরসূরি কিম ইয়ো জং গত সপ্তাহে জানান, উত্তর কোরিয়া আত্মরক্ষায় জোর দেবে। তবে প্রশান্ত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। তবে তার এ মন্তব্য সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়া একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে।

উত্তর কোরিয়ার স্টেট অ্যাফেয়ার্স কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কিম ইয়ো জং আরও জানান, শীর্ষ মার্কিন কমান্ডাররা বারবার বলেছেন, পিয়ংইয়ং প্রশান্ত মহাসাগর ও আশেপাশের অঞ্চলে যে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করবে তা ভূপাতিত করবে। কিন্তু মার্কিন নিয়ন্ত্রিত নয় এমন এলাকায় উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত অস্ত্রের বিরুদ্ধে এই ধরনের সামরিক হামলা বা হুমকিকে পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

ইত্তেফাক/ডিএস

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন