বাংলাদেশের হাইটেক পার্কগুলোতে বিনিয়োগসহ তথ্যপ্রযুক্তি খাতে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ দেখিয়েছে ভারত। বুধবার আগারগাঁওয়ের আইসিটি টাওয়ারে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের সভাকক্ষে এক মতবিনিয়ম সভায় অংশ নেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার শ্রীমতী রীভা গাঙ্গুলি দাশ। সভায় তিনি বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ ও কাজ করার আগ্রাহের কথা জানান। রিভা গাঙ্গুলি দাশ বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে ভারতের অংশগ্রহণের চিত্র তুলে ধরেন। অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরো জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের অসামান্য অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের কথা তুলে ধরেন। নরেন্দ্র মোদির সরকার ক্ষমতায় আসার পরে বিভিন্ন অমীমাংসিত সমস্যার দ্রুত নিষ্পত্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরো প্রসারিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পলক বলেন, বর্তমানে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস পেয়েছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ভারতের বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে দেশের ১২টি জেলায় হাইটেক পার্ক স্থাপন প্রকল্পে ভারত সরকার অর্থায়ন করছে। অদূর ভবিষ্যতে ভারত বাংলাদেশে তাদের সহযোগিতার ক্ষেত্র আরো প্রসারিত করবে বলে প্রত্যাশার কথা জানান পলক।
বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন জেলা পর্যায়ে আইটি ও হাইটেক পার্ক স্থাপন প্রকল্পের আওতায় ৩০ হাজার তরুণ-তরুণীকে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। প্রকল্পের আওতায় নির্মিতব্য স্থাপনাসমূহের মধ্যে রয়েছে ১২টি জেলায় ৭তলা মাল্টিটেনেন্ট ভবন নির্মাণ; ১২টি জেলায় ৩ তলা ক্যান্টিন ও এমপি থিয়েটর ভবন; আট জেলায় তিন তলা ডরমিটরি ভবন এবং ১২ জেলায় ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল কাজ। এছাড়া এই প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষায়িত ল্যাব স্থাপন করা হবে। মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আরা বেগম, তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের বিভিন্ন দপ্তর সংস্থা প্রধান এবং বিভিন্ন প্রকল্পের পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।
