মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীতে প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে বিলীন হচ্ছে বাড়িঘর। ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদীর আঁকাবাঁকা স্থানে ধসে নেমেছে। ফলে নদী ভাঙনের আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন পার করছে তীরবর্তী পরিবারগুলো।
ধলাই নদীর আদমপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ঘোড়ামারা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, হোসেন আলীর ঘরসহ গ্রামের পনেরটি ঘর নদী ভাঙনের কবলে পড়ে। হোসেন আলীর পাকাঘরের অর্ধেক অংশ নদীতে চলে গেছে। ঘরের অবশিষ্ট অংশে বাঁশের বেড়া দিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। একইভাবে গ্রামের নুরুজ্জামান মিয়া, আব্দুল ওয়াহিদ, জমশেদ মিয়া, মর্জিনা বিবি, তমিজউদ্দীন, রমিজউদ্দীন, মন্নাফ মিয়া, আবেদা বেগম, আব্দুল গফুর, সমেদ মিয়া, ওয়েছ মিয়া, হেলালউদ্দীন, সাজেদা বেগম, মাজিদা বেগমের ঘর নদী ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে।
কমলগঞ্জের চৈতন্যগঞ্জ এলাকায়ও কয়েকটি বাড়ি নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। বাড়িঘর হারিয়ে অনেকেই নিঃস্ব হচ্ছেন। ঘোড়ামারা গ্রামের মজিদা বেগম, নুরুজ্জামান, সাজেদা বেগম ও আব্দুল গফুর বলেন, ‘আমরা এতো অসহায় হয়ে পড়ছি তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আপনারা এসে দেখে ছবি নিয়ে চলে যান। এরপর আমাদের আর কেউ খোঁজ নেয় না। বন্যার আগে যদি আমাদের এলাকায় নদীর বাঁধ মেরামত করা হতো তাহলে আর আমাদের এই ক্ষতি হতো না।’
আদমপুর ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য হেলালউদ্দীন বলেন, এখানে পানি উন্নয়ন বোর্ড গত বছর কাজ করতে আসলেও কিছু মানুষের আপত্তির কারণে কাজ করা সম্ভব হয়নি। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের এখন পর্যন্ত কোনো সহায়তা প্রদান করা সম্ভব হয়নি।
কমলগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা বলেছি। বাঁধ মেরামতের চেষ্টা চলছে। নিঃস্ব পরিবারগুলোকে সহায়তা প্রদান করা হবে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রণেন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, সম্প্রতি ঘোড়ামারা এলাকা পরিদর্শন করেছি। বাঁধ মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে ২০১৭ সালে বাঁধ মেরামতের জন্য যে প্রকল্প নেওয়া হয় সেখানে স্থানীয়দের কিছু আপত্তির কারণে ঠিকাদার কাজ করতে পারেনি। বর্তমানেও যদি জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয়দের সহযোগিতা পাওয়া যায় তাহলে কাজ করা সম্ভব হবে।
