বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

দেশে দেশে ‘গণহত্যা দিবস’ পালিত

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২৩, ১১:৪৮

আজ ভয়াল ২৫ মার্চ, জাতীয় গণহত্যা দিবস। যথাযোগ্য মর্যাদায় বাংলাদেশসহ ভারত ও তুরস্কসহ দেশে দেশে শনিবার (২৫ মার্চ) দিবসটি পালন করা হয়েছে। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে হাইকমিশনগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেন।

নয়া দিল্লী, ভারত

ভারতের নয়া দিল্লীর বাংলাদেশ হাই কমিশনে ‘গণহত্যা দিবস’ পালিত হয়েছে। শনিবার (২৫ মার্চ) দিবসটি উপলক্ষে হাই কমিশনের বঙ্গবন্ধু হলে এক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
 
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালো রাতে ঘুমন্ত, নিরস্ত্র ও নিরপরাধ বাঙালির ওপর তৎকালীন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ নামে মানব ইতিহাসের নির্মম, বর্বরোচিত ও জঘন্যতম হত্যাযজ্ঞ স্মরণে দিবসটি পালন করা হয়।

শুরুতেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালো রাত্রিতে নিহত শহীদসহ মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত বাণী পাঠ এবং উন্মুক্ত আলোচনা ছাড়াও একাত্তরের গণহত্যা ও বধ্যভূমির ওপর নির্মিত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। 

ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান তার বক্তব্যে গণহত্যা দিবসের পটভূমি তুলে ধরে বলেন, ২৫ মার্চ জাতীয়ভাবে গণহত্যা দিবস পালিত হলেও এর আন্তর্জাতিক তাৎপর্য ও প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যারা গণহত্যার শিকার হয়েছেন তাদের স্মরণ করার পাশাপাশি পৃথিবী থেকে গণহত্যার চির-অবসান ও গণহত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই দিবসটির ব্যাপ্তি ও তাৎপর্য অপরিসীম।’ 

আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে বঙ্গবন্ধু এবং ২৫ মার্চ কালো রাতসহ বাঙালির স্বাধীনতা ও স্বাধিকার আন্দোলনের প্রত্যেক পর্যায়ে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালনকারী সকল শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এ সময় বাংলাদেশ হাই কমিশনের কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা উপস্থিত ছিলেন। 

তুরস্কের আংকারায় বাংলাদেশ দূতাবাসে ‘গণহত্যা দিবস’ উদযাপন। ছবি: ইত্তেফাক

আংকারা, তুরস্ক

তুরস্কের আংকারায় বাংলাদেশ দূতাবাসের আয়োজনে ‘গণহত্যা দিবস’ উদযাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের প্রথমে দূতাবাস মিলনায়তনে ২৫শে মার্চ কালরাতে এবং মুক্তিযুদ্ধে সকল শহীদদের স্মরণে উপস্থিত সকলে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করেন। এ সময় দিবসটি উপলক্ষ্যে মহামান্য রাষ্ট্রপতি বাণী পাঠ করেন রাষ্ট্রদূত এম আমানুল হক এবং প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা রাশেদ ইকবাল। অতঃপর দিবসটি উপলক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের ২৫ মার্চ কালরাত্রের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।

প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের পরপরই গণহত্যা দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। রাষ্ট্রদূত আমানুল হক তার স্বাগত বক্তব্যের শুরুতেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সকল সদস্যেদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। এবং ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্থানী হানাদার বাহিনীর অপারেশন সার্চ লাইটকে পৃথিবীর জঘন্যতম এবং ইতিহাসে বিরল হত্যাযজ্ঞ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি ২৫ মার্চ কালরাতে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহত সকল শহীদদের আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। বাংলাদেশের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের লক্ষ্যে সকল প্রচেষ্টা অব্যহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এছাড়াও গণহত্যা দিবসে স্বাধীনতাকে সমুন্নত রাখতে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা বিনির্মাণের স্বপ্ন বাস্তবায়নের আহবান জানিয়ে তার বক্তব্যের শেষ করেন।

কাতারে গণহত্যা দিবস অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে এম আব্দুল মোমেন উপস্থিত ছিলেন। সৌজন্য ছবি

কাতারে বাংলাদেশ দূতাবাস

কাতারে যথাযোগ্য মর্যাদায় গণহত্যা দিবস পালন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। শনিবার (২৫ মার্চ) কাতারের দোহায় বাংলাদেশ দূতাবাসে এ উপলক্ষে অনুষ্ঠানের শুরুতে ১৯৭১ ২৫শে মার্চের ভয়াল কালরাতে এবং মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। রাষ্ট্রদূত মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে এম আব্দুল মোমেন।

এ সময় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত বাণী পাঠ করেন দূতাবাসের পলিটিক্যাল মিনিস্টার ওয়ালিউর রহমান ও মোবাশ্বেরা কাদেরী।

কাউন্সিলর নাছির উদ্দীনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ওমর ফারুক চৌধুরী, শফিকুল ইসলাম প্রধান, ইঞ্জিনিয়ার আবু রায়হান, শফিকুল ইসলাম তালুকদার বাবু, কফিল উদ্দিন, বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি জাকির হোসেন বাবু, রাজ রাজিব, আল আমিন খান, নুরুল আফছার বাবুল ও আহমেদ মালেকসহ অন্যরা।

ইত্তেফাক/পিও/আরএজে