নটিংহ্যামে শীতের প্রকোপ ততটা নেই। কার্ডিফ বা ব্রিস্টলের তুলনায় অনেকটাই উষ্ণ মধ্য ইংল্যান্ডের এ এলাকাটি। বাতাসে বাংলাদেশের ঋতুরাজ বসন্তের ছোঁয়া। এই নটিংহ্যামেই কাল ছিল বাঘের সঙ্গে ক্যাঙারুর লড়াই যা উপভোগ করেছেন মাঠভর্তি দর্শক। আর বলাই বাহুল্য, গ্যালারিতে আধিক্য ছিল বাংলাদেশি দর্শকদেরই।
লন্ডন, কার্ডিফ, ব্রিস্টল, বার্মিংহাম, ম্যানচেস্টারসহ যুক্তরাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে এসেছেন অনেকে। বাংলাদেশ থেকে আসা ক্রিকেটামোদীর সংখ্যাও হেলাফেলা করার মতো না। খেলা শুরু হওয়ার আগেই স্টেডিয়াম প্রায় পূর্ণ হয়ে যায়। স্টেডিয়ামের বাইরে অনেক প্রবাসী বাঙালির সঙ্গে দেখা হলো।
ট্রেন্ট ব্রিজ ক্রিকেট গ্রাউন্ড ইংল্যান্ডের সুন্দরতম স্টেডিয়ামগুলোর মধ্যে একটি। স্টেডিয়ামের পরতে পরতে রয়েছে অপরূপ নান্দনিকতার ছোঁয়া। সেই মাঠে বাংলাদেশ ইনিংসের প্রতিটি রান, ক্যাচ, উপভোগ করেছেন দর্শকরা। গ্যালারিতে ছিল লাল সবুজ পতাকার ছড়াছড়ি। সারাক্ষণ পতাকা নেড়ে টাইগারদের সমর্থন দিয়েছেন তারা। কারো হাতে ছিল রয়েল বেঙ্গল টাইগারের পুতুল। কেউ এসেছিল স্পাইডার ম্যানের পোশাক পরে। গ্রামবাংলার চিরায়ত দৃশ্য কাস্তে হাতে মাত্লা মাথায় দেওয়া এক কৃষকও দেখা গেল গ্যালারিতে। সব মিলিয়ে গ্যালারিতে ছিল উত্সবমুখর পরিবেশ।
অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ নিয়ে প্রত্যাশার কথা জানতে চাইলে দর্শকরা সবাই প্রায় একসঙ্গেই বলে উঠলেন, ‘আমরা জিততে চাই। এই ইংল্যান্ডের মাটিতেই আমরা একবার অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিলাম। চেষ্টা করলে আবারও পারব।’ পাশেরজন বলে উঠলেন, ‘হারজিত্ যেটাই হোক, সবসময় বাংলাদেশের সঙ্গেই আছি।’
সাংবাদিক পরিচয় জানার পর অনেকে নানারকম প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছিলেন। সাইফুদ্দিনের ইনজুরির কী অবস্থা? ওর জায়গায় রুবেল খেলবে কি না?
সিলেটের রাসেল থাকেন লন্ডনে। খেলা দেখার জন্য রাত আড়াইটায় লন্ডন থেকে গাড়ি চালিয়ে নটিংহ্যাম এসেছেন তিনি। সঙ্গে ছিল আরো তিন বন্ধু। ভিড় এড়িয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে গ্যালারিতে প্রবেশ করার জন্য সকাল ৮টার মধ্যেই তারা স্টেডিয়ামে চলে এসেছেন। রাসেল জানালেন, ‘সারা রাত গাড়ি চালিয়ে ভোরে নটিংহ্যাম এসে পৌঁছেছি। এক বন্ধুর বাসায় কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে মাঠে চলে এসেছি। সুইনডন এলাকা থেকে এসেছেন মোবারক। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামে।’ মোবারক জানালেন, তিনি বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক আকরাম খানের বন্ধু। নটিংহ্যামে পৌঁছে আকরাম খানের সঙ্গে দেখা করেই মাঠে এসেছেন।
স্টেডিয়ামের মিডিয়া লাউঞ্জে সকালের নাস্তা করার সময় আইসিসির এক কর্মী বাংলাদেশের দর্শকদের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলেন। তিনি বলছিলেন, ‘ভারত উপমহাদেশের মানুষ খুবই ক্রিকেট পাগল। ট্রেন্ট ব্রিজে বিশ্বকাপের পাঁচটি ম্যাচ ছিল এবার। এদের মধ্যে দর্শক হিসেবে সবচেয়ে প্রাণবন্ত ছিল উপমহাদেশীয়রা। আমি বাংলাদেশের কয়েকটি ম্যাচ টিভিতে দেখেছি। আসলে বাংলাদেশের দর্শকদের কোনো তুলনা নেই। মনে হয় তারা আজও মাঠে অনেক আনন্দ করবে। ভারত, পাকিস্তানের মতো বাংলাদেশের দর্শকরাও প্রাণবন্ত। ইংলিশরা মাঠে এতটা উপভোগ করে না। তারা চুপচাপ খেলা দেখে। বাউন্ডারি হলে বা উইকেট পড়লে বড়জোর হাততালি দেয়।’
প্রেস বক্সে পরিচয় হলো অস্ট্রেলিয়ার সাংবাদিক গৌরবের সঙ্গে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত গৌরব বললেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ অনেক উন্নতি করছে। তোমাদের টিমে অনেক এন্টারটেইনার রয়েছে যাদের খেলা দর্শকদের অনেক আনন্দ দেয়। তোমাদের কয়েকজন মাস্টার ব্যাটসম্যান আছে। সাকিবের দুইটা সেঞ্চুরি মনে রাখার মতো। পাঁচটার মধ্যে দুইটা ম্যাচেই তোমরা ৩০০-এর বেশি রান করেছ। এটা খুবই আনন্দের।’
