শুক্রবার, ০২ জুন ২০২৩, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

এয়ারপোর্ট রোডের সৌন্দর্যবর্ধন কর্মসূচি

বিতর্কিত সেই চীনা বনসাই মৃত, বিবর্ণ

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২৩, ০৩:০০

রাজধানীর এয়ারপোর্ট রোডের ফুটপাতকে সৌন্দর্যবর্ধন করতে লাগানো হয়েছিল বনসাই গাছ। যা তখন চীন থেকে আনা হয়েছিল। কিন্তু দেশীয় গাছ না লাগিয়ে এটি রোপণ করায় ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল তখন। আর সেই বনসাই এখন অস্তিত্ব হারাচ্ছে। গোলাকৃত ইটের টবে দাঁড়িয়ে আছে মরা গাছ। আবার কিছু জীবিত থাকলেও ফ্যাকাশে হয়ে গেছে পাতা। যেগুলো জীবিত আছে সেগুলোও পরিচর্যার অভাবে মরতে বসেছে।

ফাইল ছবি -সংগৃহীত

জানা যায়, ২০১৭ সালে বনানী থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে অত্যাধুনিকভাবে সাজানোর অংশ হিসেবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) একটি প্রকল্পের আওতায় এ কাজটি শুরু করে। কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভিনাইল ওয়ার্ল্ড গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটি চীন থেকে এনে এই ফাইকাস বনসাইগুলো লাগায়। প্রায় ১০০টি বনসাই লাগানো হয়েছিল তখন। এর একেকটির দাম প্রায় দেড় থেকে ২ লাখ টাকা খরচ পড়েছিল। অবশ্য গাছ লাগানো ছাড়াও এই প্রকল্পে ডিজিটাল যাত্রীছাউনি, আধুনিক ডাস্টবিন, এলইডি মনিটরসহ আরও কাজ অন্তর্ভুক্ত ছিল। রক্ষণাবেক্ষণসহ এ প্রকল্পের মোট বাজেট ছিল ১৪০ কোটি টাকা।

অন্যান্য গাছের সঙ্গে বনসাই অধিক পরিমাণে লাগানোর কথা থাকলেও দেশি গাছ বাদ দিয়ে এই বনসাই লাগানোর প্রতিবাদে ১০০টি লাগানোর পরেই তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তখন বড় বড় দেশি গাছ কেটে আমদানি করা ১২-১৫ ফুট উচ্চতার বনসাই লাগানোর ফলে এটির কতটুকু কার্যকারিতা রয়েছে তা নিয়ে কথা উঠে। পরিবেশবাদীরা বলেন, সবুজ শ্যামল এই দেশে কি বৃক্ষের এতই আকাল যে, বিদেশি বামন গাছ আমদানি করতে হলো?’ সড়কে দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ধারণ করে এমন গাছ লাগানোর দাবি তোলা হয়। পরে কিছু দেশি গাছ লাগিয়ে সেই বনসাই লাগানো বন্ধ হয়।

এ বিষয়ে জানার জন্য সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (রক্ষণাবেক্ষণ সার্কেল) মো. জিকরুল হাসানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মকবুল হোসাইন শিমুল বলেন, এয়ারপোর্ট রোডের সৌন্দর্যবর্ধন ও তত্ত্বাবধায়ন মূলত সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর করে। এটি সিটি করপোরেশন করছে না।

ইত্তেফাক/এমএএম