বন্ধন সুদৃঢ় করতে উত্তর কোরিয়ায় শি জিনপিং

আপডেট : ২০ জুন ২০১৯, ২২:২৩

কিম জং উনের সাথে বৈঠকের জন্য চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রথমবারের মত উত্তর কোরিয়া পৌঁছেছেন। এর আগে দুই নেতা চীনে চারবার বৈঠক করেছেন। পরমানু কর্মসূচি এবং অর্থনীতি নিয়ে অলোচনা করবেন শি জিনপিং এবং উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন। কিছুদিন পরেই  জি-২০ সন্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে বৈঠক করবেন জিনপিং। ঐ শীর্ষ সন্মেলনের আগে তাদের বৈঠকের বিশেষ মূল্য আছে বলে উল্লেখ করেছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। উত্তর কোরিয়ার সাথে বন্ধন আরো সুদৃঢ় করার জন্য শি জিনপিংয়ের এই বৈঠক।   উল্লেখ্য,উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় পৃষ্ঠপোষক এবং অর্থনৈতিক অংশীদার প্রতিবেশী দেশ চীন।

হ্যানয়ে ট্রাম্প -কিম বৈঠকের ব্যর্থতা নিয়েও আলোচনা করবেন শি জিনপিং এবং কিম জং উন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন পরমানু আলোচনাকে কিভাবে এগিয়ে নেয়া যায় তা নিয়ে কিমের সাথে কথা বলবেন শি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অ্যানালাইসিস সাইট ৩৮ নর্থ এর ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক জেনি টাউন বলেন, জি-২০ শীর্ষ সরন্মেলনের আগে তাদের এই বৈঠক এর বিশেষ মূল্য আছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার ৬ বছর পর শি জিনপিং উত্তর কোরিয়ায় প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর করছেন। দুইদিনের সফরে বৃহস্পতিবার তিনি পিয়ংইয়ং পৌঁছেছেন বলে চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে বিবিসি।  উত্তরের শীর্ষ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৃহস্পতিবারই তার এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হওয়ার কথা। মবেইজিং পিয়ংইয়ংয়ের প্রধান ব্যবসায়িক অংশীদার হলেও ১৪ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম চীনের কোনো প্রেসিডেন্ট উত্তর কোরিয়ায় গেলেন।

জাপানে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের এক সপ্তাহ আগে চীনা প্রেসিডেন্টের এ সফরে পিয়ংইয়ং-ওয়াশিংটন সম্পর্কের উত্থান-পতন নিয়েও আলোচনা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। জি-২০ সম্মেলনে শি-র সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এ নিয়ে ৪ বার চীন সফর করেছেন কিম। অন্যদিকে ২০০৫ সালে চীনের তত্কালীন প্রেসিডেন্ট হু জিনতাওয়ের সফরকালে উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতায় ছিলেন কিমের বাবা কিম জং ইল। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কার্যক্রমের কারণে দেশটির ওপর ধারাবাহিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে জাতিসংঘ। বেইজিং এসব নিষেধাজ্ঞায় সমর্থন দিলেও শি-র এবারের সফর দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতিতে ভূমিকা রাখবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

উত্তর কোরিয়ায় চীনা প্রেসিডেন্টের এ সফর ‘বেইজিং-পিয়ংইয়ং সম্পর্কে নতুন অধ্যায় যোগ করবে’ বলে মন্তব্য করেছে চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি।