যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) ইসমাইল হোসেন নামে এক ছাত্রকে ৫ ঘণ্টা আটকে রেখে বেধড়ক পিটিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। রোববার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মশিয়ুর রহমান হলে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে যশোর জেনারেল হাসপাতালের ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগী ইসমাইল ময়মনসিংহের বলারামপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।
অভিযুক্তরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার ও বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের সালমান এম রহমান ও একই বিভাগের বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী সোহেব আলী। দু'জনেই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহেল রানার অনুসারী।
জানা যায়, ভুক্তভোগী ইসমাইল যশোর শহরের পালবাড়ি ভাস্কর্য মোড়ে একটি ছাত্রাবাসে থাকেন। বিভিন্ন সময়ে ইসমাইলের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল অভিযুক্ত সোহেব আলী ও সালমান এম রহমান। ইসমাইল তাদেরকে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। রোববার দুপুরে ক্লাস চলাকালীন সময়ে সোহেব ও সালমান দেখা করার কথা বলে হলে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ইসমাইলকে বেঁধে রেখে রড, পাইপ আর বেল্ট দিয়ে অমানবিক নির্যাতন করে। পরে সন্ধ্যায় সহপাঠীরা উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এপিপিটি বিভাগের আল জুবায়ের রনি নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ইসমাইল কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত না। দুপুরের পর থেকে ইসমাইলকে পাওয়া যাচ্ছিলো না। এমনকি তার ফোনও বন্ধ ছিলো। ইফতারের সময় ইসমাইলকে না পাওয়ায় অনেক খোঁজাখুঁজি করা হয়। তখন তার সহপাঠীরা জানায়, হলের সালমান আর সোহেব ডেকে নিয়ে গেছে তারপর আর খোঁজ নেই ইসমাইলের। পরে সবাই হলে গিয়ে খুঁজে দেখি ৫২৮ নাম্বার কক্ষে অচেতন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রথমে ক্যাম্পাসে প্রাথমিক চিকিৎসা এবং পরে অবস্থার অবনতি হওয়াতে যশোর হাসপাতালে ভর্তি করি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ৫২৮ নাম্বার কক্ষে ৬ জনের থাকা কথা থাকলেও ছাত্রলীগ কর্মী সোহেব আর সালমান দুজনই থাকতেন। গাঁজা সেবন ও ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা করার দায়ে সোহেব বহিষ্কার হওয়ার পরেও ছাত্রলীগের প্রভাবে হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন। এর আগেও এই দুজনের বিরুদ্ধে চাঁদার অভিযোগ তুলেছিল সাধারণ শিক্ষার্থী। তারা দুজনেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহেল রানার অনুসারী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহেল রানা বলেন, ব্যক্তির দায় কখনো সংগঠন নিবে না। চাঁদাবাজদের ছাত্রলীগ কখনো প্রশ্রয় দেয় না। আর ওরা ছাত্রলীগের কোনো পদে নেই।
শহীদ মশিয়ুর রহমান হলের প্রভোস্ট ড. মো. আশরাফুজ্জামান জাহিদ বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সহপাঠীরা উদ্ধার করে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। কক্ষটি সিলগালা করে দিয়েছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থী সালমান এম রহমানকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে বিশৃঙ্খলা ও গাঁজা সেবনের দায়ে সোহেব আলীকে বহিষ্কার করা হয়েছিলো। বহিষ্কারের পরেও কীভাবে হলে ছিলো এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সোহেব মাঝেমধ্যে থাকতো।
যবিপ্রবি উপাচার্য ড. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, কক্ষটি তালাবদ্ধ করে দিয়েছি। অভিযুক্তদের সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। বিশৃঙ্খলাকারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো স্থান নেই। এই ঘটনায় আর কারা জড়িত তা খুঁজে বের করা হবে। একই সঙ্গে জড়িতদের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
