নবাগত জেলা প্রশাসককে কাছে দায়িত্বভার অর্পণ করে সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন ড. রহিমা খাতুন 

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২৩, ০৫:৫৬

ড. রহিমা খাতুন ২০২০ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তার মেধা, কর্মদক্ষতা ও সততা দিয়ে অল্প কয়দিনের মধ্যে মাদারীপুর জেলাবাসীর মন জয় করেছিলেন । তিনি নিজেও কখনো দুর্নীতি করেননি অপরকে দুর্নীতি করতে দেইনি । গত সোমবার ৩ এপ্রিল ২০২৩ মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন এবং  নবাগত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মারুফুর রশিদ খান যথাক্রমে দায়িত্বভার অর্পণ ও গ্রহণ করেন । এর পূর্বে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ট্রেজারি শাখার হস্তান্তর অনুষ্ঠিত হয় ।

বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পদক প্রাপ্ত জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. রহিমা খাতুন এর পদোন্নতি প্রাপ্তিতে বদলী জনিত বিদায় সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে একের পর এক মাদারীপুর জেলার মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন তিনি । রবিবার (২ এপ্রিল) ছিল মাদারীপুর কর্মস্থলের শেষ দিন তার । সেই দিনও সাধারন মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন । সমাধানের চেষ্টা করেছেন । সাধারন মানুষ কি পেলো বা না পেলো সেটা বড় নয়, একজন মানুষ ডিসির কাছে তার সমস্যা বলতে পেরে মনের দিক থেকে আশ্বস্ত হতেন । মাদারীপুরের বিদায়ী জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন ২ বছর ৯ মাস সরকারি দায়িত্ব পালন করতে এসে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মন জয় করে গেলেন। তার বদলির খবর শুনে অনেকেই অশ্রু সংবরণ করতে পারেননি। জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন যোগদান করেই তার মেধা ও কর্মদক্ষতা দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে মাদারীপুরবাসীর হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন। যখনি কোথাও কোনও সংকট দেখেছেন তিনি ছুটে গেছেন। পাশে দাঁড়িয়েছেন সবার বিপদ-আপদে। প্রশাসনের কর্তা-ব্যক্তি ছাড়াও মাদারীপুরের সাধারণ মানুষদেরও আস্থার যায়গা ছিল ড. রহিমা খাতুন। 

মাদারীপুরের সচেতন মহল মনে করছেন ড. রহিমা খাতুন বদলী হওয়ার কারণে কি আবারও মাদারীপুর জেলায় ঘুষ-দূর্নীতি চালু হবে নাকি নবাগত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মারুফুর রশিদ খান তা শক্ত হাতে দমন করবেন। 

সোমবার ৩ এপ্রিল সবার মুখে মুখে সাবেক জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুনকে নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের মধ্যে সর্বত্র আলোচনা ছিল তার মত লোপ লালসাহীন ডিসি বিগত ২০ বছরের মধ্যেও মাদারীপুর জেলায় যোগদান করেননি । ড. রহিমা খাতুন তার সময়ে মাদারীপুর জেলাবাসীর জন্য ভালো ভালো কাজ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান করে গেছেন সেগুলো যদি নষ্ট না হয় সেই দিকে নবাগত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মারুফুর রশিদ খানকে নজর দিতে হবে  ।

ইত্তেফাক/ইআ