হাসপাতালের পলেস্তারা খসে ফাটলো রোগীর মাথা, ৬ সেলাই  

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২৩, ২০:১৪

কুষ্টিয়ায় সরকারি হাসপাতালের একটি কেবিনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে মাথা ফাটল সীমা খাতুন (৩৫) নামে এক নারীর। হঠাৎ পর পর ২টি পলেস্তোরার খণ্ড ভেঙে পড়ে মাথা ফেটে রক্তাক্ত জখম হন ওই নারী । পরে তাকে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে ৬টি সেলাই দেন চিকিৎসকরা। রোববার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। 

কুষ্টিয়ায় সরকারি হাসপাতালে পলেস্তারা খসে পড়ে মাথা ফাটে রোগীর। ছবি: ইত্তেফাক

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক কর্মকর্তা ইমাম হোসেন জানান, ৮ এপ্রিল রাতে কুষ্টিয়া শহরের আদর্শপাড়ার বাসিন্দা রিপন শেখ (৪৫) অসুস্থতাজনিত কারণে ২৫০ শষ্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের রোগী হিসাবে ৩ নম্বর এসি কেবিনে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ওই রোগীর এ্যাটেন্ডেন্ট হিসাবে তার স্ত্রী সীমা খাতুন সার্বক্ষণিক হাসপাতালে ছিলেন। রোববার (৯ এপ্রিল) সকালে চিকিৎসক রাউন্ড শেষ করার পর রোগী রিপন শেখের স্ত্রী সীমা কেবিনের মধ্যে চেয়ারে বসে ছিলেন। এ সময় হঠাৎ ছাদের একখণ্ড পলেস্তারা সীমার থামায় ভেঙে পড়ে। এ ঘটনার পর পরই আবারো আরেক খণ্ড পলেস্তারা খসে মাথায় পড়ার পর তার মাথা ফেটে রক্তাক্ত জখম হন ওই নারী। দুর্ঘটনার পর পর তাৎক্ষণিক আহত নারীকে কেবিন থেকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে মাথায় ৬টি সেলাই দেন চিকিৎসকরা। আহত নারী শংকামুক্ত বলে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডাক্তার নাসির উদ্দিন জানান। 

বর্তমানে আহত ওই নারী ও তার স্বামীকে কেবিন থেকে স্থানান্তর করে হাপাতালের ষ্টাফ সিক বেডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এর আগেও হাসপাতালের ছাদের পলেস্তারা খসে রোগী আহতের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার ক্রমাবনতিসহ সার্বিক অব্যবস্থাপনায় রোগীদের ভোগান্তির শেষ নেই। 

এদিকে বার বার হাসপাতালের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে রোগী-স্বজন আহতের ঘটনা ঘটলেও টনক নড়ছে না গণপূর্ত বিভাগের। সংস্কার অভাবে এই হাসপাতালের পুরাতন ভবনের কেবিনগুলোর অবস্থা জরাজীর্ণ। ছাদের পলেস্তারা খসে আহতের ঘটনার পর  হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে ভীতি। তবে ঘটনার পরপরই হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা ছুটে এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। 

কুষ্টিয়া গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, বহু পুরাতন হাসপাতাল ভবনটি এখন ব্যবহার উপযোগী কিনা সে বিষয়ে টেকনিক্যাল কমিটির মতামত প্রয়োজন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তবে জরুরিরভাবে হাসপাতাল ভবনের ক্ষতিগ্রস্থ অংশ মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।


 
কুষ্টিয়া ২৫০ শষ্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক চিকিৎসক মো. রফিকুল ইসলাম সত্যতা স্বীকার করে জানান, ঘটনাটি খবুই দুঃখজনক। আহত নারীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের ক্ষতিগ্রস্থ কেবিনে জরুরিভাবে মেরামত কাজ করতে গণপূর্ত বিভাগকে জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান। 

 

 

ইত্তেফাক/পিও