রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক নিউ মার্কেট শাখার সাবেক ইনভেস্টমেন্ট অফিসার মিজানুর রহমানের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন। তিনি স্থানীয় একটি ডেভেলপার কোম্পানির চেয়ারম্যান এবং কাঁচামাল ব্যবসায়ী। তিনি শিলিন্দা চৈতির বাগান এলাকার খাইরুল বাসারের ছেলে।
ভুক্তভোগী আলমগীর হোসেন সোমবার (১০ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট এসোসিয়েশন রাজশাহী শাখা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ব্যবসার জন্য দীর্ঘদিন থেকে ইসলামী ব্যাংক রাজশাহী নিউ মার্কেট শাখার সঙ্গে অর্থনৈতিক লেনদেন করেন। অত্র ব্যাংকে তার সিসি লোনও রয়েছে। এ সুবাদে প্রায় সময়ে তিনি ব্যাংকে ব্যাংকে চেক দিতেন। এই ব্যাংকের চেক নিয়ে মিজানুর রহমান ব্যক্তিগতভাবে তার বিরুদ্ধে সাড়ে চল্লিশ লক্ষ টাকার একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। সেই সঙ্গে এই টাকার জন্য বিভিন্ন সময়ে রাস্তাঘাটে হুমকি ধামকি দিচ্ছেন মিজান। শুধু তাই নয়, ৩১ মার্চ ও ৩ এপ্রিল তার বাড়িতে মিজান ১৫-২০ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে হামলা করে ভাঙচুর ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। সন্ত্রাসীদের কবল থেকে রক্ষা পেতে ৯৯৯ এ কল করলে দুইবারই পুলিশ এসে তাদের সহযোগিতা করেন। এ সময়ে সন্ত্রাসীরা চলে যায়।
এই টাকা সম্পর্কে আলমগীর বলেন, মিজানুর রহমান যে টাকা দাবি করছেন তা ভিত্তিহীন। কারণ তার সঙ্গে ব্যক্তিগত কোনো টাকা লেনদেন তার কখনোই হয়নি।
তিনি আরও বলেন, বিগত প্রায় দুই বছর পূর্বে নাসির উদ্দিন ও তার স্ত্রী বনমালা খাতুন বনিরের কাছ থেকে ইসলামী ব্যাংক রাজশাহী নিউ মার্কেট শাখার নিলামের মাধ্যমে দুইটি জমি কিনেন। একটি জেলা রাজশাহী, থানা ও সাব রেজিষ্ট্রি অফিস পবা, ইউনিয়ন হড়গ্রাম, মৌজা খিরসিন, জে.এল নং-হাল-৬৩, প্রজার খতিয়ান- এস.এ ২৫০, আর.এস-৯৭, প্রস্তাবিত খতিয়ান-৭০০, হিসাব নং-৮৭৬, খারিজ কেস নং-২৪৫৬/৯-১/২০০৫-০৬, দাগ নং সি.এস ও এস.এ-১৩৭৮, আর.এস দাগ নং-১৭৭৪. রকম- ধানী, জমির পরিমান-১৭৩৩ একর। আরেকটি জেলা রাজশাহী, থানা ও সাব রেজিষ্ট্রি অফিস পবা, ইউনিয়ন হড়গ্রাম, মৌজা খিরসিন, জে.এল নং-হাল-৬৩, প্রজার খতিয়ান- এস.এ ২৫০, আর.এস-৯৭, প্রস্তাবিত খতিয়ান ১৯৫৪, হিসাব নং-২৪৫১, খারিজ কেস নং-৩৮৮৬/৯-১/২০১৫-১৬ ইং, দাগ নং সি.এস ও এস.এ-১৩৭৮, আর.এস দাগ নং-১৭৭৪. রকম- ধানী, জমির পরিমান-.০৪৬৭ একর জমি ক্রয় করেন। এই জমি আজও ব্যাংক তাকে বুঝিয়ে দেয়নি। উপরোন্ত ঐ জমির মালিকগণ তাঁর নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আলমগীর বলেন, মূলত এই জমির বিষয় নিয়ে সাবেক ব্যাংকার মিজানুর রহমান তার সঙ্গে এই ধরনের আচরণ করছেন। এই নিয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে বলেও জানান ব্যবসায়ী আলমগীর। জমি বুঝে দিতে ইসলামী ব্যাংকের ম্যানেজারকে বার বার অনুরোধ করলেও তিনি রহস্যজনক কারণে কর্ণপাত করছেন না। এই জমি ইসলামী ব্যাংক নিউ মার্কেট শাখার ম্যানেজার বুঝিয়ে দিতে পারবেন না বলে ফিরিয়ে দিচ্ছেন বলেও জানান তিনি। এই সাবেক ব্যাংকার মিজানুর রহমানের কবল থেকে রক্ষা ও তার দৃষ্টান্ত শাস্তি এবং তার ক্রয়কৃত সম্পত্তি বুঝে দিতে কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি করেন আলমগীর হোসেন।
