সাফল্যের গল্প শোনালেন এপি পলাশ

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২৩, ২০:৩২

২৬ বছর বয়সী তরুন এপি পলাশের বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে। ওই গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে তিনি। এক ভাই ও দুই বোনের মধ্যে পলাশ মেঝো । 

বছর দুয়েক আগে করোনা মহামারি যখন সারা পৃথিবীকে গ্রাস করে ফেলে, লকডাউনে ঘরবন্দী সময়ে কাজকর্ম হারিয়ে মানসিক বিষণ্নতায় ভুগতে থাকল সারাবিশ্বের লাখ লাখ তরুণ, ঠিক সে সময়ে অবসর সময়কে কাজে লাগাতে এবং নিজের আর্থিক অবস্থা সাবলম্বী করতে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেন এপি পলাশ। 

শুরতেই এপি পলাশ ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ক মৌলিক জ্ঞান রপ্ত করে নেন ইউটিউবের বিভিন্ন টিউটোরিয়াল থেকে। এরপর ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ক বেশ কয়েকটি কোর্সও করে নেন তিনি। 

বর্তমানে এপি পলাশের পৃথিবীর ৪৯ টি দেশের ১৬০ জনেরও বেশি ক্লায়েন্ট রয়েছে। ফেসবুক এডসেন্স, গুগল এডসেন্স ও ইউটিউব এডসেন্সসহ অনলাইন প্রতিষ্ঠানের টেকনিক্যাল ও কারিগরি একাধিক বিষয়ে খুব দক্ষতার সাথে ক্লায়েন্টদের সাথে  কাজ করে যাচ্ছেন এপি পলাশ। 

কঠোর পরিশ্রম আর প্রবল ইচ্ছে ও মানসিক শক্তির বলে খুব অল্প সময়ে সফল ফ্রিল্যান্সার নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এপি পলাশ। অনলাইনে সমবয়সী অনেক তরুণেরও কাজের ক্ষেত্র তৈরি করে দিয়েছেন এপি পলাশ। 

ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার নিয়ে তিনি বলেন, করোনায় ঘরবন্দী সময়ে মাথায় আসল ঘরে বসে না থেকে কিছু স্কিল ডেভেলপমেন্ট কোর্স করি; যাতে পরবর্তীতে তা নিয়ে আয় উপার্জনও করা যায়। যে কথা সে কাজ— অনলাইনে করে ফেলি ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ক বেশ কয়েকটা কোর্স। বাস্ তারপর মাঠে নেমে যাই পুরোদমে। প্রথম ৬ মাসের মাথায় কাজ পাই, ওই কাজের সুবাদে আসতে আসতে বিদেশি ক্লায়েন্টও খুঁজে পেয়ে যাই। তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয় নাই। এখন নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছি। 

এপি পলাশ মনে করেন, পড়ালেখার পাশাপাশি স্কিল ডেভেলপিং বিষয়ে  প্রত্যেকেরই কিছু দক্ষতা থাকা দরকার। যা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে দেখাবে। নিজে কাজকর্ম করে আর্থিক উপার্জনের সুযোগও তৈরি করে দিবে। এক্ষেত্রে সর্বপ্রথম পরিশ্রম এবং মানসিক ইচ্ছে শক্তি থাকা গুরুত্বপূর্ণ বলেও মনে করেন এপি পলাশ। 

এই মেধাবী তরুণ পড়ালেখা করছেন এমবিএতে। ভবিষ্যতে পড়ালেখা শেষ করে তরুণদের ক্যারিয়ার বিষয়ক স্কিল অর্জনে প্রশিক্ষণ দেওয়ানোর পাশাপাশি একটি ফ্রিল্যান্সিং প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা তার স্বপ্ন।

ইত্তেফাক/এএইচপি